
চট্টগ্রাম থেকে কুরিয়ার সার্ভিসে চোরাচালানের বিদেশি সিগারেট পাঠাতে নতুন কৌশল নিয়েছে একটি চোরাকারবারি চক্র। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে বুকিং মেমোতে প্রেরক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নিরপরাধ মানুষের মোবাইল নম্বর। তদন্তে দেখা গেছে, এসব নম্বরের প্রকৃত মালিকদের কেউ শিক্ষার্থী, কেউ অটোরিকশাচালক, কেউ ব্যবসায়ী—অপরাধের সঙ্গে যাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ৮ বছর আগের একটি মামলার দীর্ঘ তদন্তেও একই ধরনের কৌশলের মুখোমুখি হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী; পুরোনো সিমের নিবন্ধন তথ্যের আড়ালে শেষ পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছে প্রকৃত চোরাকারবারি।
গত ২৯ জুলাই নগরীর কাজীর দেউড়িতে এস এ পরিবহন পার্সেল ও কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের পার্কিং এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০টি পৃথক কার্টন থেকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮০০ শলাকা সিগারেট জব্দ করে র্যাব-৭। এ ঘটনায় ৩১ জুলাই কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। সেই মামলার তদন্তে চোরাকারবারি চক্রের এমন তৎপরতার বিষয়টি উঠে আসে। তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে এসব বিদেশি সিগারেট কুরিয়ার সার্ভিসে করে মিরসরাই এবং জেলার বাইরে নরসিংদী, গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য বুকিং দেওয়া হয়েছিল।
র্যাব জানায়, ঘটনার দিন কাউকে আটক করতে না পারলেও এসব মালপত্র বুকিং প্রদানকারী পৃথক ১০টি বুকিং মেমো জব্দ করে র্যাব। এসব বুকিং মেমোতে চট্টগ্রাম নগরী থেকে প্রেরকের ঠিকানা হিসেবে পৃথক ১০টি মোবাইল নম্বর উল্লেখ ছিল।
কোতোয়ালি পুলিশ বুকিং মেমোগুলোর সূত্র ধরে তদন্তে নেমে প্রাথমিকভাবে জানতে পারে, চট্টগ্রাম থেকে প্রেরক হিসেবে মালপত্র বুকিংয়ে যেসব মোবাইল নম্বর ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলো ভুয়া ও চট্টগ্রামের বাইরে বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা এবং অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন মানুষের।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই নওশের কোরেশী আজকের পত্রিকাকে বলেন, মোবাইল নম্বরগুলো কোনোটি বন্ধ পাওয়া গেছে; যেগুলো সচল পাওয়া গেছে, সেগুলোর লোকেশন চট্টগ্রামের বাইরে বিভিন্ন দূরদূরান্তের জেলায়।
এসব মোবাইল নম্বর ধরে এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) সংগ্রহ করা হয়েছিল। এনআইডি যাচাই করে দেখা যায়, মোবাইল নম্বরগুলো যারা ব্যবহার করছে, তাদের চট্টগ্রামের এই অপরাধ সংঘটনের সময় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার সম্ভাবনা একপ্রকার নেই বললেই চলে।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মূলত ভুয়া মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে চক্রের সদস্যরা এসব মালপত্র বুকিং দিয়েছিল। এরপরও আমরা এই বিষয়ে আরও নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখছি। মালপত্র প্রাপকের ঠিকানাগুলোয় সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের সহায়তায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলাটি এখনো তদন্ত পর্যায়ে রয়েছে।’
আজকের পত্রিকা মোবাইল নম্বরগুলোর কয়েকটির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জেনেছে, এসব মোবাইল নম্বরগুলো শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের।
একটি মোবাইল নম্বরের মালিক রাজধানীর রামপুরাতে থাকেন। পাঁচ বছর ধরে তিনি সেখানে অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন বলে জানান। সিগারেটের চোরা কারবারে তাঁর মোবাইল নম্বর ব্যবহারের কথা জেনে তিনি বিস্মিত হন।
আরেকটি মোবাইল নম্বরের মালিক রাব্বী, তিনি নিজেকে রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে দাবি করেছেন। রাব্বী বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষার্থী। আমি এই ব্যবসা কেন করতে যাব।’
কাজীর দেউড়ি এস এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিভিন্ন সময় বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ১১ জুন তিন বস্তা অবৈধ বিদেশি সিগারেট জব্দ করে নগর ডিবি পুলিশ। কক্সবাজার থেকে একই কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান থেকে দুটি বুকিং মেমো মূলে এসব সিগারেট চট্টগ্রামে কাজীর দেউড়িতে আসে।
এই ঘটনায় মেমোতে থাকা প্রেরক ও প্রাপককে আসামি করে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়। মামলাটি প্রথমে ডিবি পুলিশ তদন্ত করে। পরে সিআইডিতে হস্তান্তর হয়। মোট ৮ জন কর্মকর্তা এই মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত করেন।
তদন্তে উঠে আসে, বুকিং মেমোতে প্রেরকের তথ্যে একটি দোকানের মেমো এবং প্রাপকের তথ্যে রেয়াজুদ্দিন বাজারে একটি দোকানের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর থাকলেও সেগুলো ভুয়া ছিল। ২০২৫ সালে মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের আর্কাইভ ডেটা বিশ্লেষণ করে অপরাধ সংঘটনের সময়কালীন সেখানে ওই মোবাইল নম্বরটি ব্যবহারের বিষয়ে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসেম নামের এক ব্যক্তির তথ্য পায় সিআইডি। এরপর আরও অনুসন্ধানে মূল চোরাকারবারি হাসেমকে শনাক্তের পাশাপাশি তাঁকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
সিআইডির তদন্তে উঠে আসে, বিভিন্ন মোবাইল নেটওয়ার্ক কোম্পানি তাদের দীর্ঘদিনের পুরোনো অব্যবহৃত সিম, যা দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে থাকে। এই ধরনের একটি সিম হাসেম ক্রয় করে তা দিয়ে বিদেশি সিগারেট চোরাচালানের এই অপরাধ সংঘটিত করেন।
মূলত অপরাধে ব্যবহৃত একটি মোবাইল সিমের পুরোনো নিবন্ধন তথ্য বিভ্রান্তি তৈরি করায় দীর্ঘদিন আসল অপরাধীর সন্ধান মেলেনি বলে জানায় সিআইডি।
চলতি বছর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে হাসেমসহ দুজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা মো. হোসাইন।

একসময় স্বস্তি ও নিরাপদ যাত্রার অন্যতম মাধ্যম ছিল ট্রেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ট্রেনযাত্রাই এখন পরিণত হয়েছে ভোগান্তি আর মৃত্যুঝুঁকির যাত্রায়। লাইনচ্যুত হওয়া, ইঞ্জিনে আগুন লাগা কিংবা ইঞ্জিন বিকল হয়ে মাঝপথে ট্রেন আটকে পড়া—নিত্যদিনের এসব ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে যাত্রীদের।
১ ঘণ্টা আগে
বরগুনার আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। লেকের মধ্যে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়েতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ত্রুটিপূর্ণ কাজের কারণে গতকাল রোববার অবকাঠামো ধসে পড়ে।
১ ঘণ্টা আগে
দ্বীপ জেলা ভোলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় (লোডশেডিং) অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকেরা। বিদ্যুতের আবাসিক সংযোগের গ্রাহকেরা শুধু নন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিল্পকারখানার মালিকেরাও। বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
১ ঘণ্টা আগে
যশোরের মনিরামপুরে সরকারি অর্থে দুটি খাল পুনঃখননের পর তীরে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে নিম্নমানের চারা লাগিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) দপ্তরের বিরুদ্ধে।
২ ঘণ্টা আগে