Ajker Patrika

ভোলা: লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ গ্রাহক, কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

ভোলা প্রতিনিধি
ভোলা: লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ গ্রাহক, কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত
ছবি: আজকের পত্রিকা

দ্বীপ জেলা ভোলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় (লোডশেডিং) অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকেরা। বিদ্যুতের আবাসিক সংযোগের গ্রাহকেরা শুধু নন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিল্পকারখানার মালিকেরাও। বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ভোলা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রোববার শুধু ওজোপাডিকো ভোলা ও বোরহানউদ্দিন পৌরসভা এবং এর আশপাশের এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৩ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ হয়েছে ১৫ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি থাকা ৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে।

আগের দিন গত শনিবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২১ মেগাওয়াট, সরবরাহ ছিল ১৪ মেগাওয়াট। লোডশেডিং ছিল ৭ মেগাওয়াট। এ ছাড়া গত শুক্রবার বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৪ মেগাওয়াট, সরবরাহ ছিল ১৭ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির কারণে ভোলা সদর উপজেলা এবং পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন গড়ে তিন-চার ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ভোলা সদর উপজেলার হাসপাতাল রোড এলাকার বাসিন্দা বিদ্যুৎ গ্রাহক মুন্সি জহুরুল ইসলাম খুসবু বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আগের তুলনায় বেড়েছে। গরমের মধ্যে আমাদের অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।’

ভোলার ব্যবসায়ী মেসার্স খান ফ্লাওয়ার মিলসের স্বত্বাধিকারী এবং ভোলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন খান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়ে গেছে। এর সঙ্গে বিদ্যুতের দামও বেড়েছে। ফলে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল পর্যন্ত আমাদের মিল চালাতে হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যেও গড়ে ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শনিবার মিলের একটি মোটর পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

জামাল উদ্দিন খান বলেন, ‘ভোলায় হাতে গোনা যে কটি শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে, লোডশেডিংয়ের কারণে সেগুলোর উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), ভোলা জেলা শাখার সভাপতি মো. সুলাইমান বলেন, ‘ভোলায় প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং অত্যন্ত দুঃখজনক এবং ভোক্তাদের জন্য ভোগান্তিকর। এখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ যদি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়, তাহলে স্থানীয় চাহিদা পূরণে ঘাটতি কেন থাকবে?’

ওজোপাডিকো ভোলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউছুফ বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে ৩০-৩৫ শতাংশ লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। ভোলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে জেলায় চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হয়।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত