Ajker Patrika

গৃহবধূ তাহিয়া হত্যা: আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েও শেষরক্ষা হলো না সাগরের

  • গত বছরের ২০ মার্চ তাহিয়াকে হত্যা করেন স্বামী
  • স্বামীকে অভিযুক্ত করে পুলিশের অভিযোগপত্র
  • সাগরের সহযোগীদেরও গ্রেপ্তারের দাবি
জয়নাল আবেদীন, ঢাকা
আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭: ৪৯
গৃহবধূ তাহিয়া হত্যা: আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েও শেষরক্ষা হলো না সাগরের
তাহিয়া তাসনিম ফিমা হত্যা মামলায় আসামি ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন। ফাইল ছবি

স্ত্রী তাহিয়া তাসনিম ফিমাকে (১৯) হত্যার পর আত্মহত্যা সাজানোর চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি কাজী সাগরের (২৫)। তদন্তে প্রায় দেড় বছর পর বেরিয়ে এসেছে তাহিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এই মামলার তদন্ত শেষে স্বামী সাগরের বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৭ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

রাজধানীর লালবাগ থানার ওয়েস্ট অ্যান্ড স্কুলের গলির একটি বাসায় গত বছরের ২০ মার্চ তাহিয়াকে হত্যা করা হয়। সাগরের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়। তিনি আজিমপুরে থাকতেন। পুলিশ বলেছে, তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া পর্যন্ত সাগরকে জামিন দিয়েছিলেন আদালত।

লালবাগ থানায় গত বছরের ২২ মার্চ তাহিয়ার বাবা মো. তাজুল ইসলামের করা হত্যা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল কাজী সাগরের সঙ্গে তাহিয়ার বিয়ে হয়। সাগর তাঁর আগের বিয়ের কথা গোপন করায় বিষয়টি জানার পর তাঁদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া ও মারধরের ঘটনা ঘটত। এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সালিস হলেও সমাধান হয়নি। বিয়ের পর বাবার বাসায় থাকতেন তাহিয়া। সাগর সেখানে যেতেন। একপর্যায়ে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সাগরকে বাসায় যেতে নিষেধ করেন তাজুল ইসলাম। সাগর গত বছরের ২০ মার্চ রাতে বাসায় গিয়ে তাহিয়াকে একা পেয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, সাগর ঘটনার দিন কৌশলে ঘরে ঢুকে গামছা দুই টুকরা করে একটি টুকরা দিয়ে তাহিয়ার গলায় শক্ত করে বাঁধেন, অন্য টুকরা পাখার সঙ্গে ঝোলানো ছিল। এর আগে সাগর গলায় ফাঁস দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝোলানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে দরজা লক করে পালিয়ে যান। তাঁর দাবি, মেয়ের এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ কেউ জড়িত। হত্যার দিন সিসিটিভি ফুটেজে আমিন মোল্লা নামে একজনকে সাগরের সহযোগী হিসেবে দেখা গেছে।

তাহিয়া হত্যার বিচারের দাবিতে গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তাঁর পরিবার, স্বজন, বন্ধুবান্ধব ও এলাকাবাসী। সেখানে তাঁর মা রিনা ইয়াসমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার মেয়েটিকে হত্যা করা হলো; তার পর থেকে আমরা থানার বারান্দায় ঘুরছি। মামলাটিকে প্রভাবিত করার সব চেষ্টাই করছে আসামিপক্ষ।’

এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইদুজ্জামান গত ১৭ জুন সাগরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক ও টক্সিকোলজি বিভাগের লেকচারার ডা. ফারহান ইয়াসমিন মত দেন, গলা টিপে ধরার ফলে শ্বাসরোধে তাহিয়ার মৃত্যু হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযোগপত্রে উল্লিখিত মোবাইল নম্বরে কাজী সাগরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁর মা কাজী ডলি বলেন, ‘এক হাতে তালি বাজে না। সাগরের আগের বিয়ের কথা জেনেশুনে ওই মেয়ের পরিবার বিয়ে দিয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত