Ajker Patrika

ডিজেল-সংকট: সাগরে মাছ ধরতে না পারায় ঈদ আনন্দ নেই উপকূলীয় জেলেদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
ডিজেল-সংকট: সাগরে মাছ ধরতে না পারায় ঈদ আনন্দ নেই উপকূলীয় জেলেদের
সাগরে মাছ ধরতে না পারায় ঈদ আনন্দ নেই উপকূলীয় জেলেদের। ফাইল ছবি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপকূলীয় এলাকায় জেলেরা ডিজেল-সংকটে ট্রলার নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যেতে পারছেন না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব পড়েছে এই অঞ্চলে। যে কারণে ঈদ আনন্দ নেই দক্ষিণাঞ্চলের সমুদ্রঘেঁষা মৎস্য মোকামগুলোয়।

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম মৎস্য মোকাম হলো কলাপাড়া উপজেলার আলীপুর-মহিপুর। প্রতিদিন অসংখ্য জেলে এই বন্দরে মাছ বিক্রি করে ট্রলারে রসদ নিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে তীব্র ডিজেল-সংকট চলছে। শত শত মাছ ধরার ট্রলার সমুদ্রে যেতে পারছে না। আলীপুর-মহিপুর এলাকায় মালিকানাধীন ট্রলারের সংখ্যা ১৫০-এর বেশি। সমুদ্রগামী একটি ট্রলার ইঞ্জিনের আকার অনুযায়ী এক হাজার থেকে দুই হাজার লিটার পর্যন্ত ডিজেল নেয়।

জননী নামের মাছ ধরার ট্রলারভাড়া প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, তাঁর সাতটি ট্রলারের মধ্যে ইতিমধ্যে চারটি বন্ধ হয়ে গেছে। অন্য তিনটি সমুদ্রে রয়েছে। সেগুলো ফিরে এসে তেল না পেলে আবার সমুদ্রে যেতে পারবে না।

আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ভাই ভাই আড়তের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘মৎস্য ব্যবসায়ীরা অসহায় অবস্থায় আছি। অনেক ডিজেল ব্যবসায়ীর কাছে তেল মজুত থাকলেও আমাদের কাছে বিক্রি করছে না।’

জানতে চাইলে মহিপুরের রাজা ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মো. আসিফ মাহমুদ বলেন, আলীপুর-মহিপুর এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সব মিলিয়ে দৈনিক মাত্র পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ হচ্ছে। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউছার হামিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, আলীপুর-মহিপুরের বিষয়টি নিয়ে জেলায় সভা হয়েছে। জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপর দিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ মৎস্য মোকাম বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রেও (বিএফডিসি) ডিজেল-সংকটের কারণে জেলেরা ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে যেতে পারছেন না।

মৎস্যজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ট্রলারমালিকেরা চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল ক্রয় করতে পারছেন না। তাই মাছ আহরণের জন্য সাগরে যেতে পারছে না ট্রলার। আবার প্রতি ব্যারেলে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা বেশি নিচ্ছেন ডিজেল ব্যবসায়ীরা।

মোকামের তথ্যমতে, শত শত ট্রলার বিভিন্ন খালে নোঙর করে রাখা হয়েছে। একটি ট্রলার ৮ থেকে ১০ দিনের জন্য গভীর সাগরে যায়। এ সময়ের জন্য ট্রলারে ১ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল নেওয়া হয়। ছোট ট্রলারগুলোর মোহনার কাছাকাছি মাছ ধরার জন্য প্রয়োজন হয় ১ হাজার লিটার। প্রতি ব্যারেলের নির্ধারিত মূল্য ২১ হাজার টাকা। এখন ২৫ হাজার টাকায় কিনতে হয়।

সাকওয়ান-৩ নামের ট্রলারের মাঝি ফরহাদ হোসেন জানান, তিন দিন আগে সাগর থেকে ফিরেছেন। আবার যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল। ডিজেল কিনতে না পারায় যেতে পারেননি।

সাগরে যেতে না পারার একই কারণ জানিয়ে তন্ময়-১ ট্রলারের মাঝি খালেক মিয়া জানান, তাঁরা ডিজেলের জন্য দুই দিন ধরে অপেক্ষা করছেন।

জাকির বিশ্বাস নামের এক জেলে বলেন, ‘দোকানগুলোয় ডিজেল মজুত আছে, লিটারে ২০ টাকা বেশি দিলে পাওয়া যায়। ভেবেছিলাম, ঈদের আগে মাছ ধরে ভালো টাকা পাব, কিন্তু মনে হচ্ছে, এ বছর আর সেই আশা পূরণ হবে না।’

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, সমিতির সদস্য অনুযায়ী জেলায় ৩ হাজার ৭০০ ট্রলার রয়েছে। পাথরঘাটায় জ্বালানি বিক্রির দোকানগুলোতে পর্যাপ্ত মজুত আছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি দামের আশায় সংকট দেখাচ্ছেন।

আর পাথরঘাটার জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী ফারুক হাওলাদার বলেন, ‘পাথরঘাটায় প্রতি সপ্তাহে ডিজেলের চাহিদা দুই থেকে আড়াই লাখ লিটার। সেখানে এখন পাঁচটি ফিলিং স্টেশনে ডিজেল আসে ৫ হাজার লিটার। এ কারণে ট্রলারগুলোয় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছি না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুদ্ধ এড়াতে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান, ‘অভিভূত’ হয়েছিল ব্রিটিশরা

তুরস্ক ও সিঙ্গাপুরে ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা, মধ্যপ্রাচ্যে চাঁদ দেখার প্রস্তুতি

অভিনেতা শামস সুমনের জানাজা সম্পন্ন, পরিবার দেশে ফিরলে দাফন

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের ৯ বগি লাইনচ্যুত, উত্তরের ৫ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

পটিয়ায় ৩ বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত অন্তত ১৫

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত