Ajker Patrika

চট্টগ্রামে ৪৮ ঘণ্টায় শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ৫ ঘটনা, ৫ অভিযুক্তই গ্রেপ্তার

সবুর শুভ, চট্টগ্রাম    
আপডেট : ২৩ মে ২০২৬, ২২: ৩১
চট্টগ্রামে ৪৮ ঘণ্টায় শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ৫ ঘটনা, ৫ অভিযুক্তই গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ-কাণ্ডে পুলিশ-জনতা সংঘাতের রেশ না কাটতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আরও চারটি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সর্বশেষ গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে খুলশী থানা এলাকায় দুই বোনকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক মক্তবের শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।

এর আগে শুক্রবার বেলা ২টার দিকে নগরীর বায়েজিদ থানার একটি এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ হাসান নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ১০ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে শিশুটি পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানালে থানায় মামলা করা হয়।

একই দিন বেলা দেড়টার দিকে ডবলমুরিং থানা এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দারা এহসান নামের যুবককে মারধর করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে উত্তেজিত লোকজন বিক্ষোভ শুরু করে। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা পুলিশ ও অভিযুক্ত ব্যক্তি অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। পরে বিচারের আশ্বাস দিয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

ঠিক ওই দিন রাতেই নগরীর চান্দগাঁও থানা এলাকায় ৮ বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৫৫ বছর বয়সী এক মুদিদোকানিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ কী বলছে, কী করছে

খুলশীতে দুই শিশু বোনকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ প্রসঙ্গে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, খুলশীর একটি মক্তবে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই মক্তবে শিক্ষকতার পাশাপাশি ওই এলাকায়ই বসবাস করেন। ভুক্তভোগী দুই বোনের বয়স আনুমানিক ১০ ও ৬ বছর। তারা ওই শিক্ষকের কাছে পড়ত।

ভুক্তভোগী শিশু দুটির খালা বলেন, শুক্রবার সকালে কেউ মক্তবে যায়নি। কিন্তু ওই শিক্ষক শিশু দুটিকে ডেকে নেন। ভোর ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত মক্তবে পড়ানো হয়। কিন্তু সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ওরা বাসায় না আসায় মক্তবে গিয়ে দেখা যায়, তারা একটি কক্ষে আছে। কক্ষের দরজা বন্ধ ছিল। শিশুরা জানায়, ওই শিক্ষক তাদের জন্য নাশতা আনতে গেছেন। এরপর তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য অভিযুক্ত শিক্ষক ও ভুক্তভোগী দুই শিশুকে থানায় নিয়ে প্রকৃত ঘটনার সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।’

নগরীর বায়েজিদ থানা এলাকায় পাঁচ বছরের শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রসঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, মামলার ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির চিকিৎসা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চান্দগাঁও থানায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ প্রসঙ্গে পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার নিয়মিত ওই মুদিদোকানির দোকানে কেনাকাটা করত। ১৫ মে রাতে শিশুটিকে একা পেয়ে দোকানের ভেতরে নিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়। ওই ঘটনায় ২২ মে মামলা করার পর পুলিশ ওই দোকানিকে গ্রেপ্তার করে।

চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুর হোসেন মামুন বলেন, এই থানা এলাকায় নির্যাতনের শিকার শিশুটির পরিবারের করা মামলায় অভিযুক্ত মুদিদোকানিকে গ্রেপ্তার করার পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার নগরীর বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৫টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। সংঘর্ষে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মো. মনিরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়। মনির গতকাল শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বাকলিয়া থানার ওসি মো. সোলাইমান বলেন, মনির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাঁকে বিচারকের আদেশে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত