Ajker Patrika

দুই মৎস্য প্রকল্পের ৯২ লাখ টাকা ভূমি কর বকেয়া, আদায় অনিশ্চিত

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৫৯
দুই মৎস্য প্রকল্পের ৯২ লাখ টাকা ভূমি কর বকেয়া, আদায় অনিশ্চিত
প্রকল্পের স্থান। ছবি: আজকের পত্রিকা

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে ‘বাউশী ফিশারিজ’ ও ‘নাগলা ফিশারিজ’ নামের দুটি বাণিজ্যিক মৎস্য প্রকল্পের ৯২ লাখ ২২ হাজার টাকা ভূমি উন্নয়ন কর বকেয়া থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করায় গতকাল বুধবার দুপুরে প্রকল্প এলাকায় কারণ দর্শানোর নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছে উপজেলা ভূমি প্রশাসন। তবে প্রকল্প দুটির সুনির্দিষ্ট মালিকপক্ষ চিহ্নিত না হওয়ায় কর আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার স্বদেশী ইউনিয়নে ২০০৩ সালে ঢাকা ও জামালপুরের কয়েকজন ব্যবসায়ী আমতৈল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান শফিকের সহযোগিতায় বাউশী ও নাগলা ফিশারিজ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে দুটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০২ দশমিক ৩ একর জমি রয়েছে, যা বাণিজ্যিক মৎস্য চাষে ব্যবহৃত হচ্ছে। অনলাইনভিত্তিক ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থা চালুর আগে ২০১০ সালে আংশিক কর পরিশোধ করা হলেও এরপর নিয়মিত কর পরিশোধ করেনি ওই দুই প্রকল্প।

দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী, স্বদেশী এলাকায় প্রায় ৬৯ একর জমির বিপরীতে বকেয়া ভূমি উন্নয়ন করের পরিমাণ ৮৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৯৩ টাকা। এ ছাড়া উপজেলার মাছাইল এলাকায় ৭ দশমিক ৬৪৫ একর জমির বিপরীতে বকেয়া রয়েছে ৭ লাখ ৬ হাজার ৮১০ টাকা।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান শফিকের তত্ত্বাবধানে এবং তাঁর প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রকল্প দুটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চেয়ারম্যানের ভাতিজা চঞ্চল মিয়া ও তাঁর ম্যানেজার নয়ন প্রকল্প দুটির ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজে যুক্ত রয়েছেন।

প্রকল্পের জন্য ৮৩ শতাংশ জমি বিক্রি করা স্থানীয় বাসিন্দা বুরুজ আলী বলেন, জমি কেনার সময় থেকেই শফিক চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান শফিক। তিনি জানান, ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে ওঠার সময় জমি ক্রয়ে তিনি সহযোগিতা করেছিলেন ও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। তবে ২০১০ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ফিশারিজ প্রকল্প দুটির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘মালিকপক্ষ আমি নই। তাঁরা বিদেশে থাকেন। আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম, তখন সব কর পরিশোধ করা হয়েছে। এখন একটি মহল রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

স্বদেশী ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. সালাহ্ উদ্দিন রাসেল বলেন, প্রতিষ্ঠানের নথিতে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম নেই। শুধু প্রতিষ্ঠান দুটির নাম রয়েছে। সুনির্দিষ্ট নাম না থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি নথিপত্র দেখে যাচাই করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সুলতানা রোজী বলেন, সরকারি পাওনা আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নামে জমি থাকায় প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময়সাপেক্ষ হলেও বকেয়া রাজস্ব আদায়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত