
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি আসনে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ অঞ্চলে এবার প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে ১১ দলীয় জামায়াত জোট। পাঁচটি আসনে সরাসরি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং একটি আসনে জোট-সমর্থিত প্রার্থী জয়ী হয়ে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর রংপুরের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন শক্তির উত্থান নিশ্চিত করেছে। বিএনপির সঙ্গে সরাসরি লড়াইয়ে বড় ব্যবধানে জয় এবং জাতীয় পার্টির তৃতীয় স্থানে নেমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।
ছয়টি আসনে জামায়াত জোট প্রার্থীদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে। ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে তারা জয়লাভ করেন। এ সময়ের জাপার দুর্গখ্যাত রংপুর অঞ্চল বিপ্লব পরবর্তী সময়ে এবারে নির্বাচনে তৃতীয় অবস্থানে শোচোনীয় পরাজয় হয় দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের।
আসনে রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও সিটির আংশিক) আসনে রংপুর মহানগর জামায়তের সহকারী সেক্রেটারী মো. রায়হান সিরাজী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৫০ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন ধানের শীষ প্রতীকে ৬৯ হাজার ৪০৭ ভোট পান। প্রায় ৮০ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন রায়হান সিরাজী।
ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকায় উৎসবে মাতেন জামায়াতের সমর্থকেরা। বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা মিছিল, স্লোগান ও আনন্দের মাধ্যমে বিজয় উদ্যাপন করেন।
রংপুরের ছয়টি আসনের মধ্যে আলোচিত রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে দ্বিমুখী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
দুই উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৩৭টি ভোট কেন্দ্রের ফলাফলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এটিএম আজহারুল ইসলাম মোট ১ লাখ হাজার ৩৪ ভোট ১৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি’র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকার ধানের শীষ প্রতীকে ৭৯ হাজার ৮৬২ ভোট পান। ফলে প্রায় ৫৪ হাজার ৩২৫ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন জামায়াত প্রার্থী।
এ ছাড়া এ আসনে জাপার প্রার্থী আনিছুল ইসলাম মন্ডল লাঙ্গল প্রতীকে ৩৩ হাজার ৬৮১ ভোট পেলেও তৃতীয় স্থানে থাকেন।
বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত রংপুর-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯২১ জন। ১৩৭টি কেন্দ্রের ৮০১টি বুথে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ২ লাখ ৫৩ হাজার ৮৭৮ টি বৈধ ভোট পোল হয়।
রংপুর-৩ (সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলালকে বেসরকারিভাবে জয়ী ঘোষণা করেছে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। বেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১৬৯টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৭৮ টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির রংপুর মহানগর কমিটির আহবায়ক সামসুজ্জামান সাম ধানের শীষ প্রতীকে ৮৪ হাজার ৫৭৮ ভোট পান। দীর্ঘদিন এ আসন দখলে ধরে রাখার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের ৪৩ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে।
রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) ৮ হাজার ৩৩১ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তাঁর জয় লাভের বিষয়টি আগে থেকেই আচ করেছিলে রংপুরের মানুষ।
আখতার শাপলা কলি প্রতীকে ১৬৩টি ভোট কেন্দ্রে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৪৭ টি ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে এমপি নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী এদমদাদুল হক ভরসা ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ হাজার ৩৯ হাজার ৬১৬ ভোট পান। এ ছাড়াও এ আসনে আরেক প্রতিদ্বন্দ্বি জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মো. মাহাবুবার রহমান লাঙ্গল প্রতীকে হাজার ৩৩ হাজার ৩৫৭ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ১০০ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৪ হাজার ২১৪ ভোট পন।
দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের দখলে থাকা রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনটিও জামায়াতের দখলে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক নুরুল আমিন বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ১ হাজার ৯৭১ ভোটের ব্যবধানের বিজয়ী হন। নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯০ ভোট পান আর বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে পান ১ লাখ ১৬ হাজার ৯১৯ ভোট।
রংপুরে ৬টি সংসদীয় আসনে ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন ভোটার ৮৭৩টি ভোট কেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৮৮টি বুথে ভোটারেরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিভিন্ন রাজনৈতি দল ও স্বতন্ত্র মিলে ৪৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সব কয়টিতেই জয়লাভ করেছে বিএনপি প্রার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৪২৮টি কেন্দ্রের ২ হাজার ৪৩৯টি কক্ষে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
৫ মিনিট আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মূখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম থেকে ২৬ হাজার ৭৪৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
১৯ মিনিট আগে
পিরোজপুর-২ (কাউখালি, ভান্ডারিয়া, নেছারাবাদ) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শামীম বিন সাঈদীকে ৯,২৪০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
৩২ মিনিট আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী ১,২, ৩ ও ৪ আসনের সব কটিতেই জয় পেয়েছেন জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীরা। এর মধ্যে নীলফামারী-১ আসনে বিজয়ী হয়েছেন আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ আসনে আল ফারুক আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩ আসনে ওবায়দুল্লাহ সালাফি এবং নীলফামারী-৪ আসনে হাফেজ আব্দুল মুত্তাকিম বিজয়ী হয়েছেন।
৩৮ মিনিট আগে