Ajker Patrika

‘দোযখ আর জাহান্নামে তফাৎ কি মাসুদ স্যার?’: চট্টগ্রামের এসপির উদ্দেশে সন্ত্রাসী রায়হানের পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২১: ১৯
‘দোযখ আর জাহান্নামে তফাৎ কি মাসুদ স্যার?’: চট্টগ্রামের এসপির উদ্দেশে সন্ত্রাসী রায়হানের পোস্ট
সন্ত্রাসী রায়হান আলম। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে দুটি জোড়া খুনসহ একাধিক হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজির ঘটনার মামলায় নাম আসা শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান আলম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।

ওই পোস্টে রায়হান লিখেছেন, ‘দোযখ আর জাহান্নামে তফাৎ কি মাসুদ স্যার?’। এই পোস্টে রায়হান পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যেতে তাঁকে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদও দিয়েছেন নোয়াখালী রংমালা এলাকার বাসিন্দাদের।

গত সপ্তাহে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে রংমালা এলাকায় আত্মগোপনে থাকাকালে রায়হানকে অল্পের জন্য ধরতে পারেনি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। রায়হানের সহযোগী শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের পর গত ৩০ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

সেখানে শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান আলম প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেছিলেন, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে একটি বাড়িতে ছিলেন রায়হান। ২৯ জুলাই পুলিশের অভিযানে সে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি বলেছিলেন, ‘অলৌকিকভাবে সে (রায়হান) বেঁচে গিয়েছিল। সে জাহান্মাম দেখেনি, দোজখ দেখে ফেলেছে।’

পুলিশ সুপারের এ বক্তব্যের পর গত সোমবার স্যুট পরে একটি প্রাইভেট কারের ভেতরে বসা অবস্থায় নিজের ছবি পোস্ট করে রায়হান পুলিশ সুপার মাসুদ আলমকে উদ্দেশ করে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘দোযখ আর জাহান্নামে তফাৎ কি মাসুদ স্যার?’

রায়হান ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ নোয়াখালী রংমালার মানুষদের। তারা এমন নিকুত (নিখুঁত)ভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, বিপদে সাহায্য সহযোগীতা (সহযোগিতা) পাবার জন্য ভালো খারাপ সব লেভেলের মানুষ আশা করে, যা আমি ও পেয়েছি নোয়াখালী থেকে।’

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপারের কাছে রায়হানের অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রায়হান এখন কোথায় আছে আমরা জানি না। যতক্ষণ না আমরা তাঁকে খুঁজে পাচ্ছি, সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে দেখেছি।’

রায়হানের ওই স্ট্যাটাসের বিষয়ে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে রংমালা এলাকায় আমরা আগে যেটা অভিযান চালিয়েছিলাম, তখন সে আমাদের কাছ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তাঁকে আল্লাহ রহম করছে, সে পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

স্ট্যাটাসে রায়হান অবশ্য ধন্যবাদ জানাতে ভুলে নাই। সে ওখানে আমাদের নাম লেখে কিছু প্রশ্ন করেছে, সেই সঙ্গে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের রংমালা এলাকা, যেখানে কিছু অসৎ লোক, যারা তাঁকে সহযোগিতা করেছে, আশ্রয় দিয়েছে। আমরা সেখানে ৫ ঘণ্টার চিরুনি অভিযান চালিয়েছিলাম কিন্তু তারপরেও তাঁকে আমরা পাইনি, কারণ ওই এলাকার কিছু দুষ্ট লোক তাঁকে আশ্রয় দিয়ে লুকিয়ে রেখেছে ও পুলিশের হাত থেকে বেঁচে গেছে। সে জন্য সে স্ট্যাটাসে তাদের ধন্যবাদ দিতে ভুলে নাই। যাই হোক, আমাদের কাজ আমরা করব, তাঁদের কাজ তাঁরা করবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামে এইট মার্ডারে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী বিদেশে পলাতাক সাজ্জাদ আলী খানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত রায়হান আলম। ২০২৪ সালের আগস্টের পর চট্টগ্রাম নগরী ও উপজেলা রাউজানে একের পর এক হত্যাকাণ্ডে শীর্ষ সন্ত্রাসীর সাজ্জাদ বাহিনীর ছোট সাজ্জাদ, রায়হান, ইমন, মোবারক, মোহাম্মদসহ আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসে।

বিশেষ করে নগরীতে ২০২৪ সালে ২৯ আগস্ট চট্টগ্রামে অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কে আওয়ামী লীগ নেতাসহ জোড়া খুন, একই বছর ২১ অক্টোবর চান্দগাঁওতে ছাত্রলীগ কর্মী তাহসিন খুন, ২০২৫ সালে ২৯ মার্চ বাকলিয়ায় প্রাইভেট কার তাড়া করে জোড়া খুন, ২৩ মে পতেঙ্গা বিচ এলাকায় নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর খুন এবং একই বছর ৫ নভেম্বর বায়েজিদ থানাধীন চাইল্যাতলী এলাকায় বর্তমানে সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহ’র নির্বাচনী প্রচারণায় গুলি করে এক সময়ের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা খুনের ঘটনার মামলায় শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান ও তাঁর সহযোগীদের নাম রয়েছে।

এ ছাড়া গত বছর ২৫ অক্টোবর যুবদল কর্মী আলমগীর হোসেন হত্যা, চলতি বছর ২২ এপ্রিল রাউজান উপজেলা সদর ইউনিয়নের পূর্ব রাউজানের গাজী পাড়ায় মো. ইব্রাহীম (৩০) হত্যা ও গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলীতে আলোচিত যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী হত্যা মামলাতে রায়হানের নাম উঠে এসেছে।

সূত্রগুলো জানায়, সাজ্জাদের ৫০-এর অধিক দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রয়েছে। এদের একটি জুনিয়র গ্রুপ রয়েছে, যারা মূলত তথ্য আদান-প্রদান ও নজরদারিতে যুক্ত থাকে। এই গ্রুপটি মূলত দেখাশোনা করত, কদিন আগে যশোর থেকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন। তাঁদের কিলার গ্রুপ হিসেবে আরেকটি গ্যাং রয়েছে। এই গ্রুপের দেখাশোনা করত সাজ্জাদ হোসাইন ওরফে ছোট সাজ্জাদ। ২০২৫ সালে ১৫ মার্চ ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তারের পর কারাগারে গেলে এই গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণ করছে রায়হান আলম।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত