Ajker Patrika

বাবার মৃত্যুসংবাদ পেয়েও পরীক্ষা দিলেন মেয়ে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   
বাবার মৃত্যুসংবাদে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়ে। ছবি: আজকের পত্রিকা
বাবার মৃত্যুসংবাদে কান্নায় ভেঙে পড়েন মেয়ে। ছবি: আজকের পত্রিকা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে পরীক্ষা দিতে এসে বাবার মৃত্যুসংবাদ পান এক পরীক্ষার্থী। শোক আর কান্না বুকে চেপেই শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। ওই পরীক্ষার্থীর নাম সালমা খাতুন। তিনি জেলার চৌহালী উপজেলার কোদালিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদ মুন্সির মেয়ে।

স্থানীয় ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল থেকে আজ শুক্রবার দুপুরে কামারখন্দ সিনিয়র ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসেন সালমা। বেলা সোয়া ১টার দিকে তিনি বাবার মৃত্যুর খবর পান। এ সময় দেড় বছরের শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। তাঁর স্বামী ও কেন্দ্রের অন্যান্য পরীক্ষার্থীরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সবার পরামর্শে তিনি পরীক্ষায় অংশ নেন।

সালমার স্বামী আলমগীর হোসেন বলেন, তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সালমা সবার ছোট। একই গ্রামে বিয়ে হওয়ায় বাবার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল খুব ঘনিষ্ঠ। বার্ধক্যজনিত কারণে তাঁর বাবা বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে মৃত্যুসংবাদ পেয়ে তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন, তবে শেষ পর্যন্ত শোক নিয়েই পরীক্ষায় বসেন।

উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কামারখন্দ ফাজিল মাদ্রাসায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩৯০ জন। এদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৩০৪ জন। ৮৬ জন অনুপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপাশা হোসাইন বলেন, উপজেলার ছয়টি কেন্দ্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাবার মৃত্যুজনিত কারণে পরীক্ষার্থী সালমাকে বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত