Ajker Patrika

বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ১০: ৩৫
তারেক রহমান। ফাইল ছবি
তারেক রহমান। ফাইল ছবি

বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

তারেক রহমানের ছবি সংযুক্ত ঘোষণায় বলা হয়েছে, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষিতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে জনাব তারেক রহমানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।’

এদিন রাতে স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক ডাকে বিএনপি। দলীয় সূত্র বলছে, বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল না এবং কোনো নির্দিষ্ট অ্যাজেন্ডাও ছিল না। তবে বৈঠক শেষে জানানো হয়, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, শিগগির তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হবে।

২০১৮ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে গেলে তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা গেলে বিএনপির চেয়ারপারসনের পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এর ধারাবাহিকতায় দলের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন আনা হলো।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তারেক রহমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। দলীয় গঠনতন্ত্রের ৭-এর ‘গ’(৩) ধারায় সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের কর্তব্য, ক্ষমতা ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে বলা আছে, ‘যেকোনো কারণে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যানের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে বহাল থাকবেন।’

১৭ বছরের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে নির্বাসন জীবন শেষে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তাঁর প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের অবসান ঘটে।

১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তারেক রহমান। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় মায়ের নির্বাচনী কার্যক্রম তদারকির মাধ্যমে তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বিজয়ের পর তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

২০০২ সালে তাঁকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়, যা দলের ভেতরে তাঁর বড় উত্থান হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০৯ সালে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন মামলায় আওয়ামী লীগ আমলে তারেক রহমান দণ্ডিত হন। তবে সরকারের পতনের পর তিনি এসব মামলা থেকে অব্যাহতি পান। ২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ ও নির্যাতনের অভিযোগের পর ২০০৮ সালে লন্ডনে চলে যান তিনি। পরে সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় পান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গাজায় ট্রাম্প বাহিনীর অংশ হতে চায় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্রকে জানালেন খলিলুর

দুবাই পালানোর সময় বিমানবন্দর থেকে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

শিক্ষককে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেলেন চাকসুর শিবির নেতারা

তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বিনির্মিত হবে আগামীর বাংলাদেশ, মোদির প্রত্যাশা

রাইস কুকার ব্যবহারের ভুল ও সতর্কতা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত