আজকের পত্রিকা ডেস্ক


যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘পতনের মুখে’ আছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ইরান কোনোভাবেই ধ্বংসাত্মক তৎপরতা বা বিদেশি শক্তির হয়ে কাজ করা ‘ভাড়াটে দালালদের’ সহ্য করবে না।
খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘ভাঙচুরকারী’ ও ‘নাশকতাকারী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন—তারা ট্রাম্পের ইশারায় কাজ করছে। ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাত ‘হাজারো ইরানির রক্তে রঞ্জিত’ এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে শাসন করা শাহের রাজবংশের মতোই একদিন ট্রাম্পকেও ক্ষমতা হারাতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চাপের মুখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র কখনোই পিছু হটবে না।
খামেনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন তাঁর দেশে ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবা বন্ধ করে দেওয়ার পরও বিক্ষোভকারীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রাস্তায় নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে আগুন জ্বালিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথমবারের মতো চলমান বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খুলেছে এবং দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘সন্ত্রাসী এজেন্টরা’ সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। তারা হতাহতের কথা স্বীকার করলেও বিস্তারিত জানায়নি।
বর্তমানে ইরানের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় বিক্ষোভের পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট নয়। তবে এই আন্দোলন শুরু হয় অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে এবং ধীরে ধীরে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইরান জুড়ে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪২ জন নিহত এবং ২ হাজার ২৭০ জনের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন।
এদিকে, ইরানের নির্বাসিত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি আরও বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বের চোখ আপনাদের দিকে—রাস্তায় নামুন।’ বিক্ষোভে শাহের পক্ষেও স্লোগান শোনা যাচ্ছে, যা অতীতে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ ছিল।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে ইরানকে ‘ভয়াবহ মূল্য’ দিতে হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে খামেনি হয়তো দেশ ছাড়ার কথাও ভাবছেন।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ টানা ১৩তম দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনের মধ্যে দেশজুড়ে কার্যত ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তাদের ‘স্যাবুটুর’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই রাস্তায় নেমেছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিক্ষোভ দমনে সরকার যদি প্রাণঘাতী সহিংসতা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘খুব কঠোরভাবে আঘাত’ করবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় ইরানি মুদ্রার ভয়াবহ দরপতনের পর। পরবর্তীতে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শহরে। বিবিসি ভেরিফাই আন্দোলনের বিস্তার মানচিত্রের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।
এক ২৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী বিবিসিকে বলেন, ‘মানুষ এখন আরও সাহসী হয়ে উঠছে। আমি বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়েছিলাম, সেখানে দিনের আলোতেই মানুষ প্রকাশ্যে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছিল।’
এদিকে, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় ইরানের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসী জানিয়েছেন, তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ওপর নির্ভর করেই পরিস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে।
ইরানে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সরাসরি প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় বিবিসি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া, উপগ্রহচিত্র এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ব্যবহার করে তথ্য যাচাই করছে।
সরকারি দমন-পীড়নের আশঙ্কার মধ্যেও বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির কর্তৃপক্ষকে ‘সংযম প্রদর্শনের’ আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষের অধিকারকে সমর্থন করে।
প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সংযম দেখাতে হবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশের অধিকার ও তথ্যপ্রাপ্তিসহ মৌলিক স্বাধীনতাগুলোকে সম্মান করতে হবে।
প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে এক সংবাদ সম্মেলনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র জানান, এই বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের মূল মনোযোগ শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো মানুষের পাশে থাকা।
ইরানে জারি থাকা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ১৮ ঘণ্টা পরও দেশটির বেশিরভাগ অংশ কার্যত অফলাইন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টার দিকে সীমিত আকারে কিছু ইন্টারনেট ট্রাফিক ফের চালু হতে শুরু করে। তবে সামগ্রিকভাবে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ এখনো ‘অত্যন্ত কম’ পর্যায়ে রয়েছে।
চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় দেশটির ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা এবং তথ্যপ্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদে সহিংসতা চালানোর অভিযোগ তুলেছে। দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীরা সরকারি সম্পদ ও ধর্মীয় স্থাপনায় ভাঙচুর চালাচ্ছে।
সকালবেলার এক বুলেটিনে রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত একটি ভক্স পপে কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, বিক্ষোভকারীরা ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরও জানায়, ইরানের সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভির বিক্ষোভের আহ্বানকে তারা ‘ইরানবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। রেজা পাহলভি রাতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন বলে জানানো হয়।
এদিকে, উত্তর খোরাসান প্রদেশের এসফারায়েন শহরে সংঘটিত অস্থিরতায় একজন প্রসিকিউটর ও কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রীয় টিভি। এ তথ্য প্রাদেশিক বিচার বিভাগের প্রধানের বরাতে প্রচার করা হয়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলীয় হামেদান শহরেও সহিংসতায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, তারা ব্যাপকভাবে সম্পদ ও সম্পত্তির ক্ষতি করেছে।
এরই মধ্যে দেশজুড়ে জারি থাকা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে ইরানের বেশিরভাগ সংবাদ ওয়েবসাইট দেশের বাইরে থেকে প্রবেশযোগ্য নয়। আগে নিয়মিত হালনাগাদ হওয়া কিছু সংবাদমাধ্যমের টেলিগ্রাম চ্যানেলও এখন অফলাইনে রয়েছে।
সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ আজ শনিবার কেবল পূর্বনির্ধারিত পোস্ট প্রকাশ করেছে বলেও জানা গেছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দেশটির ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হয়েছে। গত মঙ্গলবারের পর থেকে দেশটির আরও ১৬টি শহর ও জনপদে বিক্ষোভের ঘটনা নিশ্চিত করেছে বিবিসি। এর ফলে গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।
বিবিসির প্রকাশিত হালনাগাদ মানচিত্রে দেখা যায়, পূর্বাঞ্চলের জাহেদান শহর—যা পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি—সর্বশেষ যুক্ত হওয়া বিক্ষোভপ্রবণ এলাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রদেশের ছোট ও মাঝারি শহরেও আন্দোলনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, এই মানচিত্রে শুধুমাত্র সেসব স্থান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে বিক্ষোভের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে এর বাইরে আরও অনেক এলাকায় বিক্ষোভ হয়ে থাকতে পারে, যেগুলো এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও কড়াকড়ির কারণে ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য যাচাই করে ধীরে ধীরে বিক্ষোভের বিস্তার চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নতুন এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিক্ষোভ এখন আর শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক নয়; বরং তা দেশজুড়ে একটি বিস্তৃত অসন্তোষে রূপ নিচ্ছে।

ইরানে দেশজুড়ে কঠোর ইন্টারনেট বিধিনিষেধ জারি থাকলেও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে। শুক্রবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক বার্তা পোস্ট করা হয়।
পোস্টগুলোতে মূলত তিনি আগের দিন টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণের বক্তব্যই পুনরাবৃত্তি করেন। এক পোস্টে খামেনি বলেন, গত রাতে তেহরান ও আরও কিছু শহরে ধ্বংসে উন্মত্ত একদল মানুষ নিজেদের দেশের সম্পত্তি ধ্বংস করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য।
এই পোস্টগুলো এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন ইরানের সাধারণ জনগণের বড় একটি অংশ এখনো ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন। দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যাপক বিঘ্নের কারণে সংবাদমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X) ইরানের জাতীয় পতাকার ইমোজিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। প্ল্যাটফর্মটির প্রোডাক্ট প্রধান নিকিতা বিয়ার আজ শুক্রবার জানান, ইরানের বর্তমান পতাকার পরিবর্তে ঐতিহাসিক ‘সিংহ ও সূর্য’ প্রতীক যুক্ত করা হবে।
এক ব্যবহারকারী ইলন মাস্ক ও নিকিতা বিয়ারের কাছে ইরানের ইমোজি হালনাগাদের অনুরোধ জানালে বিয়ার জবাবে লেখেন, আমাকে কয়েক ঘণ্টা সময় দিন।
এরপর আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, কাজটি চলমান রয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট আপডেটের একটি লিংক শেয়ার করেন। তিনি আরও বলেন, ওয়েব ভার্সনে সম্ভবত আগামীকাল এটি লাইভ হবে।
বর্তমানে ব্যবহৃত ইরানের পতাকার ইমোজিটি ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতাকাকে প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর প্রবর্তিত একটি লাল প্রতীক রয়েছে। বিপ্লবের আগে কয়েক শতাব্দী ধরে ইরানের পতাকায় সিংহ ও সূর্য প্রতীক ব্যবহৃত হতো, যা পরে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে এই প্রতীকটি মূলত বিপ্লব-পূর্ব ইরানের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে দেখা হয়।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির ৩১টি প্রদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর এক জরুরি বিবৃতিতে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এসএনএসসি) জানিয়েছে, বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনী ‘নাশকতাকারীদের’ দমনে কোনো ছাড় দেবে না। সংস্থাটি এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি ‘জায়নবাদী ইসরায়েল’ এবং তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।
এদিকে এই আন্দোলনের জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে ইরানে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা ‘ডিজিটাল অবরোধ’ জারি করা হয়েছে। ইন্টারনেট নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, দেশটির ইন্টারনেট সংযোগ মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে খবরের ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্টেট টেলিভিশনের টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমেই সরকারের এই কড়া বার্তার কথা জানা গেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কেবল অর্থনৈতিক দাবি নয়, বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মূল স্তম্ভগুলোতে আঘাত হানছে। বিক্ষোভকারীরা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার কাশেম সোলাইমানির মূর্তি ও ব্যানারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পতাকায় আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে এসএনএসসির দাবি, বিক্ষোভটি মুদ্রার দরপতনের কারণে শুরু হলেও বর্তমানে বিদেশি শত্রুরা এটিকে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, টানা ১৩ দিনের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শুরুতে দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এখন ‘স্বৈরাচারের পতন চাই’ স্লোগান শোনা যাচ্ছে।
এসএনএসসি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও আমেরিকার পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে সারা দেশে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে। দেশজুড়ে ইতিমধ্যে ২ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেক ছাত্র ও তরুণ অধিকারকর্মী রয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রিয়ালের রেকর্ড পতনের পর থেকে চলা এই বিক্ষোভ এখন দেশটির কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের হুমকি, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ জনরোষ—দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে এখন তেহরান।

ইরানের রাজধানী তেহরানের পশ্চিমে ফারদিস এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একাধিক ব্যক্তিকে মাটিতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
প্রায় ২৫ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত ফারদিসে ধারণ করা ওই ভিডিওতে অন্তত সাতজন মানুষকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে মনে হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতের বিক্ষোভ দমনের সময় কোনো হতাহতের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।
ভিডিওগুলো যাচাই করেছে ইরানের স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্যাক্টনামেহ (Factnameh)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ফুটেজগুলো আসল, সাম্প্রতিক এবং এর আগে অনলাইনে প্রকাশিত হয়নি।
ফ্যাক্টনামেহ আরও জানিয়েছে, ফারদিসের রাস্তায় সংঘটিত বিক্ষোভ থেকে পাওয়া আরও একটি ভিডিওতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির মুখে পড়তে দেখা গেছে বিক্ষোভকারীদের। ভিডিওতে সরাসরি গুলিবর্ষণের দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, টানা ১৩ দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভে প্রাণহানি ও সম্পত্তি ধ্বংসের খবর তাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে।
ভলকার টুর্ক বলেন, ইরানে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের সময় সহিংসতার যে খবর পাওয়া যাচ্ছে— এর মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা ও বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসের অভিযোগ রয়েছে, তা আমাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ চলাকালে সংঘটিত সব মৃত্যুর ঘটনা দ্রুত, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতিতে টুর্ক আরও বলেন, যেকোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
এ ছাড়া ইরানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ করার কাজ এবং জরুরি ও প্রয়োজনীয় সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকারও বাধাগ্রস্ত হয়।

গত কয়েক দশকের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সরাসরি সাহায্যের আবেদন করেছেন নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, এটি আপনার মনোযোগ, সমর্থন এবং পদক্ষেপের জন্য একটি জরুরি ও তাৎক্ষণিক আহ্বান। এক ঘণ্টা পরই জনতা আবার রাস্তায় নামবে। আমি আপনাকে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করছি।’
ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসরত রেজা পাহলভি গত কয়েক দিন ধরেই ইরানিদের রাজপথে নামার অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার রাত ৮টায় তিনি দেশবাসীকে একযোগে বিক্ষোভ অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
পাহলভি তাঁর পোস্টে বলেন, ‘আমি জনগণকে তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে এবং বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত হয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে পরাস্ত করতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছি।’
তবে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পাহলভির জনসমর্থন বোঝা না গেলেও, সাম্প্রতিক ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে রাজপথে অনেক বিক্ষোভকারী তাঁর প্রত্যাবর্তনের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন।
এদিকে আন্দোলনরত ইরানিদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘আপনাদের দেশের যা অবস্থা হয়েছে, তা সত্যি লজ্জাজনক। ইরানিরা অত্যন্ত সাহসী মানুষ।’
এর আগেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানি বাহিনী যদি নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর আঘাত’ হানবে। গতকাল তিনি সেই হুমকির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, তবে তাদের ‘নরক’ দেখতে হবে।

কঠোর দমন–পীড়নের মধ্যেও ইরানের রাজধানী তেহরানের রাস্তায় শুক্রবার রাতে ফের ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। ইরান ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া বর্ণনায় তিনি জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েকটি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির শব্দ শোনা গেছে বলেও দাবি করা হয়। বেশ কয়েকটি সড়ক অবরোধ করা হয় এবং শহরজুড়ে টানা গাড়ির হর্ন বাজিয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়।
ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও বলেন, ‘ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ। কার্ড পেমেন্ট টার্মিনাল কাজ করছে না, ফোন কল করা যাচ্ছে না। শুধু রাইটেল (Rightel) ব্যবহারকারীরাই কোনোভাবে এসএমএস পাঠাতে পারছেন।’

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে নিহত হয়েছেন ১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য—এমন তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)।
এইচআরএএনএ জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস পৃথক এক হিসাবে জানিয়েছে, নিহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অন্তত ৫১ জন। তাদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।
ইরানের ভেতরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সরাসরি প্রতিবেদন নিষিদ্ধ থাকায় হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে দেশজুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি থাকায়, যা বৃহস্পতিবার রাত থেকে কার্যকর রয়েছে।
বিবিসি পারসিয়ান জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২২ জন নিহতের পরিচয় ও মৃত্যুর ঘটনা যাচাই করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়জন নিরাপত্তা সদস্যের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।
দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইরান সরকার।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে ইরানের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের ‘বর্তমান পরিস্থিতির’ কারণে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট কার্যকর করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ‘দেশে বিরাজমান পরিস্থিতি’ বিবেচনায়।
চলমান বিক্ষোভের মধ্যে ইরানে ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দেশের সামগ্রিক ইন্টারনেট ব্যবহার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগ, সংবাদপ্রবাহ এবং জরুরি সেবায় প্রবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে হতাহতের তথ্য যাচাই ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরানে গত রাতের দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও সহিংসতার মাত্রা খুবই তীব্র ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি পারসিয়ান। বিভিন্ন শহর থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ সংস্থাটি বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অনেক বিক্ষোভকারী নিহত ও আহত হয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে, কারাজের ফারদিস এলাকা থেকে পাওয়া দুটি ভিডিও পর্যালোচনা করছে বিবিসি। ভিডিও দুটিতে একাধিক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওগুলো একই ব্যক্তি ধারণ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির কণ্ঠে শোনা যায়, ‘আজ ১৮ দেই, ফারদিস। দেখুন তারা মানুষের সঙ্গে কী করেছে। রাত ৯টায় জীবিত গুলি দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে।’
বিবিসি পারসিয়ানের যাচাই অনুযায়ী, ভিডিওগুলো এর আগে অনলাইনে প্রকাশিত হয়নি এবং ইরানে গত রাতের ঘটনাসংশ্লিষ্ট বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে ভিডিওগুলোর সব তথ্য সম্পূর্ণভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিডিওতে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তিকে গুরুতর রক্তক্ষরণসহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ফুটেজটি একটি ঘেরা জায়গায়। সম্ভবত একটি পার্কিং এলাকায় ধারণ করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সেখানে কয়েকটি যানবাহন দেখা যায়, যার মধ্যে পিউজো ও টিবা মডেলের গাড়ির মতো যান রয়েছে।
এখনো নিশ্চিত নয়, আহত ব্যক্তিরা ওই একই স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, নাকি আহত হওয়ার পর তাদের সেখানে আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বিবিসি পারসিয়ান।
এদিকে, ফারদিসে বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের দৃশ্য থাকা আরও কিছু ভিডিও গত রাতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিবিসি জানিয়েছে, তারা এসব ভিডিও যাচাই করতে পেরেছে। এর মধ্যে দুটি ভিডিও ফারদিসের শহীদা বুলেভার্ডে ধারণ করা, যেখানে বড় আকারের জনসমাবেশ দেখা যায়।
ইরানে গত রাতের দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলাকালে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও সহিংসতার মাত্রা খুবই তীব্র ছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি পারসিয়ান। বিভিন্ন শহর থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ সংস্থাটি বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অনেক বিক্ষোভকারী নিহত ও আহত হয়েছেন।
এই প্রেক্ষাপটে, কারাজের ফারদিস এলাকা থেকে পাওয়া দুটি ভিডিও পর্যালোচনা করছে বিবিসি। ভিডিও দুটিতে একাধিক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওগুলো একই ব্যক্তি ধারণ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির কণ্ঠে শোনা যায়, ‘আজ ১৮ দেই, ফারদিস। দেখুন তারা মানুষের সঙ্গে কী করেছে। রাত ৯টায় জীবিত গুলি দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে।’
বিবিসি পারসিয়ানের যাচাই অনুযায়ী, ভিডিওগুলো এর আগে অনলাইনে প্রকাশিত হয়নি এবং ইরানে গত রাতের ঘটনাসংশ্লিষ্ট বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে ভিডিওগুলোর সব তথ্য সম্পূর্ণভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিডিওতে প্রায় ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তিকে গুরুতর রক্তক্ষরণসহ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ফুটেজটি একটি ঘেরা জায়গায়। সম্ভবত একটি পার্কিং এলাকায় ধারণ করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সেখানে কয়েকটি যানবাহন দেখা যায়, যার মধ্যে পিউজো ও টিবা মডেলের গাড়ির মতো যান রয়েছে।
এখনো নিশ্চিত নয়, আহত ব্যক্তিরা ওই একই স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, নাকি আহত হওয়ার পর তাদের সেখানে আনা হয়েছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বিবিসি পারসিয়ান।
এদিকে, ফারদিসে বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবর্ষণের দৃশ্য থাকা আরও কিছু ভিডিও গত রাতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিবিসি জানিয়েছে, তারা এসব ভিডিও যাচাই করতে পেরেছে। এর মধ্যে দুটি ভিডিও ফারদিসের শহীদা বুলেভার্ডে ধারণ করা, যেখানে বড় আকারের জনসমাবেশ দেখা যায়।
দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর জাতীয় পর্যায়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ইরান সরকার।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে ইরানের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের ‘বর্তমান পরিস্থিতির’ কারণে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট কার্যকর করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ‘দেশে বিরাজমান পরিস্থিতি’ বিবেচনায়।
চলমান বিক্ষোভের মধ্যে ইরানে ইন্টারনেট ও যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দেশের সামগ্রিক ইন্টারনেট ব্যবহার স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগ, সংবাদপ্রবাহ এবং জরুরি সেবায় প্রবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে হতাহতের তথ্য যাচাই ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে নিহত হয়েছেন ১৪ জন নিরাপত্তা সদস্য—এমন তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)।
এইচআরএএনএ জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস পৃথক এক হিসাবে জানিয়েছে, নিহত বিক্ষোভকারীর সংখ্যা অন্তত ৫১ জন। তাদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি।
ইরানের ভেতরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সরাসরি প্রতিবেদন নিষিদ্ধ থাকায় হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে দেশজুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি থাকায়, যা বৃহস্পতিবার রাত থেকে কার্যকর রয়েছে।
বিবিসি পারসিয়ান জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২২ জন নিহতের পরিচয় ও মৃত্যুর ঘটনা যাচাই করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়জন নিরাপত্তা সদস্যের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছে।

কঠোর দমন–পীড়নের মধ্যেও ইরানের রাজধানী তেহরানের রাস্তায় শুক্রবার রাতে ফের ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। ইরান ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া বর্ণনায় তিনি জানান, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কয়েকটি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির শব্দ শোনা গেছে বলেও দাবি করা হয়। বেশ কয়েকটি সড়ক অবরোধ করা হয় এবং শহরজুড়ে টানা গাড়ির হর্ন বাজিয়ে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়।
ওই প্রত্যক্ষদর্শী আরও বলেন, ‘ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ। কার্ড পেমেন্ট টার্মিনাল কাজ করছে না, ফোন কল করা যাচ্ছে না। শুধু রাইটেল (Rightel) ব্যবহারকারীরাই কোনোভাবে এসএমএস পাঠাতে পারছেন।’

গত কয়েক দশকের মধ্যে ইরানের সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সরাসরি সাহায্যের আবেদন করেছেন নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট, এটি আপনার মনোযোগ, সমর্থন এবং পদক্ষেপের জন্য একটি জরুরি ও তাৎক্ষণিক আহ্বান। এক ঘণ্টা পরই জনতা আবার রাস্তায় নামবে। আমি আপনাকে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করছি।’
ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসরত রেজা পাহলভি গত কয়েক দিন ধরেই ইরানিদের রাজপথে নামার অনুপ্রেরণা দিয়ে আসছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার রাত ৮টায় তিনি দেশবাসীকে একযোগে বিক্ষোভ অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
পাহলভি তাঁর পোস্টে বলেন, ‘আমি জনগণকে তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করতে এবং বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত হয়ে নিরাপত্তা বাহিনীকে পরাস্ত করতে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছি।’
তবে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে পাহলভির জনসমর্থন বোঝা না গেলেও, সাম্প্রতিক ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে রাজপথে অনেক বিক্ষোভকারী তাঁর প্রত্যাবর্তনের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন।
এদিকে আন্দোলনরত ইরানিদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ‘আপনাদের দেশের যা অবস্থা হয়েছে, তা সত্যি লজ্জাজনক। ইরানিরা অত্যন্ত সাহসী মানুষ।’
এর আগেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানি বাহিনী যদি নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠোর আঘাত’ হানবে। গতকাল তিনি সেই হুমকির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, তবে তাদের ‘নরক’ দেখতে হবে।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, টানা ১৩ দিন ধরে চলা এই বিক্ষোভে প্রাণহানি ও সম্পত্তি ধ্বংসের খবর তাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে।
ভলকার টুর্ক বলেন, ইরানে দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের সময় সহিংসতার যে খবর পাওয়া যাচ্ছে— এর মধ্যে মৃত্যুর ঘটনা ও বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংসের অভিযোগ রয়েছে, তা আমাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ চলাকালে সংঘটিত সব মৃত্যুর ঘটনা দ্রুত, স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতিতে টুর্ক আরও বলেন, যেকোনো ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
এ ছাড়া ইরানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান। তিনি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ করার কাজ এবং জরুরি ও প্রয়োজনীয় সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকারও বাধাগ্রস্ত হয়।

ইরানের রাজধানী তেহরানের পশ্চিমে ফারদিস এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে একাধিক ব্যক্তিকে মাটিতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
প্রায় ২৫ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত ফারদিসে ধারণ করা ওই ভিডিওতে অন্তত সাতজন মানুষকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে মনে হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতের বিক্ষোভ দমনের সময় কোনো হতাহতের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি ইরানি কর্তৃপক্ষ।
ভিডিওগুলো যাচাই করেছে ইরানের স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্যাক্টনামেহ (Factnameh)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ফুটেজগুলো আসল, সাম্প্রতিক এবং এর আগে অনলাইনে প্রকাশিত হয়নি।
ফ্যাক্টনামেহ আরও জানিয়েছে, ফারদিসের রাস্তায় সংঘটিত বিক্ষোভ থেকে পাওয়া আরও একটি ভিডিওতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলির মুখে পড়তে দেখা গেছে বিক্ষোভকারীদের। ভিডিওতে সরাসরি গুলিবর্ষণের দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশটির ৩১টি প্রদেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর এক জরুরি বিবৃতিতে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল (এসএনএসসি) জানিয়েছে, বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনী ‘নাশকতাকারীদের’ দমনে কোনো ছাড় দেবে না। সংস্থাটি এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি ‘জায়নবাদী ইসরায়েল’ এবং তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।
এদিকে এই আন্দোলনের জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে ইরানে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা ‘ডিজিটাল অবরোধ’ জারি করা হয়েছে। ইন্টারনেট নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, দেশটির ইন্টারনেট সংযোগ মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। ফলে খবরের ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্টেট টেলিভিশনের টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমেই সরকারের এই কড়া বার্তার কথা জানা গেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা কেবল অর্থনৈতিক দাবি নয়, বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের মূল স্তম্ভগুলোতে আঘাত হানছে। বিক্ষোভকারীরা ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার কাশেম সোলাইমানির মূর্তি ও ব্যানারে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পতাকায় আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে এসএনএসসির দাবি, বিক্ষোভটি মুদ্রার দরপতনের কারণে শুরু হলেও বর্তমানে বিদেশি শত্রুরা এটিকে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, টানা ১৩ দিনের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। শুরুতে দ্রব্যমূল্যের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এখন ‘স্বৈরাচারের পতন চাই’ স্লোগান শোনা যাচ্ছে।
এসএনএসসি জানিয়েছে, তারা ইসরায়েল ও আমেরিকার পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে সারা দেশে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে। দেশজুড়ে ইতিমধ্যে ২ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেক ছাত্র ও তরুণ অধিকারকর্মী রয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রিয়ালের রেকর্ড পতনের পর থেকে চলা এই বিক্ষোভ এখন দেশটির কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের হুমকি, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ জনরোষ—দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে এখন তেহরান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (X) ইরানের জাতীয় পতাকার ইমোজিতে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। প্ল্যাটফর্মটির প্রোডাক্ট প্রধান নিকিতা বিয়ার আজ শুক্রবার জানান, ইরানের বর্তমান পতাকার পরিবর্তে ঐতিহাসিক ‘সিংহ ও সূর্য’ প্রতীক যুক্ত করা হবে।
এক ব্যবহারকারী ইলন মাস্ক ও নিকিতা বিয়ারের কাছে ইরানের ইমোজি হালনাগাদের অনুরোধ জানালে বিয়ার জবাবে লেখেন, আমাকে কয়েক ঘণ্টা সময় দিন।
এরপর আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, কাজটি চলমান রয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট আপডেটের একটি লিংক শেয়ার করেন। তিনি আরও বলেন, ওয়েব ভার্সনে সম্ভবত আগামীকাল এটি লাইভ হবে।
বর্তমানে ব্যবহৃত ইরানের পতাকার ইমোজিটি ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতাকাকে প্রতিনিধিত্ব করে, যেখানে ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর প্রবর্তিত একটি লাল প্রতীক রয়েছে। বিপ্লবের আগে কয়েক শতাব্দী ধরে ইরানের পতাকায় সিংহ ও সূর্য প্রতীক ব্যবহৃত হতো, যা পরে বাদ দেওয়া হয়। বর্তমানে এই প্রতীকটি মূলত বিপ্লব-পূর্ব ইরানের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে দেখা হয়।

ইরানে দেশজুড়ে কঠোর ইন্টারনেট বিধিনিষেধ জারি থাকলেও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে। শুক্রবার তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক বার্তা পোস্ট করা হয়।
পোস্টগুলোতে মূলত তিনি আগের দিন টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণের বক্তব্যই পুনরাবৃত্তি করেন। এক পোস্টে খামেনি বলেন, গত রাতে তেহরান ও আরও কিছু শহরে ধ্বংসে উন্মত্ত একদল মানুষ নিজেদের দেশের সম্পত্তি ধ্বংস করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য।
এই পোস্টগুলো এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন ইরানের সাধারণ জনগণের বড় একটি অংশ এখনো ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন। দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যাপক বিঘ্নের কারণে সংবাদমাধ্যম, মেসেজিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হয়েছে। গত মঙ্গলবারের পর থেকে দেশটির আরও ১৬টি শহর ও জনপদে বিক্ষোভের ঘটনা নিশ্চিত করেছে বিবিসি। এর ফলে গত ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।
বিবিসির প্রকাশিত হালনাগাদ মানচিত্রে দেখা যায়, পূর্বাঞ্চলের জাহেদান শহর—যা পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি—সর্বশেষ যুক্ত হওয়া বিক্ষোভপ্রবণ এলাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রদেশের ছোট ও মাঝারি শহরেও আন্দোলনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, এই মানচিত্রে শুধুমাত্র সেসব স্থান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ভিডিও ফুটেজ যাচাই করে বিক্ষোভের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। তবে এর বাইরে আরও অনেক এলাকায় বিক্ষোভ হয়ে থাকতে পারে, যেগুলো এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ও কড়াকড়ির কারণে ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য যাচাই করে ধীরে ধীরে বিক্ষোভের বিস্তার চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নতুন এলাকায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিক্ষোভ এখন আর শুধু বড় শহরকেন্দ্রিক নয়; বরং তা দেশজুড়ে একটি বিস্তৃত অসন্তোষে রূপ নিচ্ছে।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মদদে সহিংসতা চালানোর অভিযোগ তুলেছে। দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম দাবি করেছে, বিক্ষোভকারীরা সরকারি সম্পদ ও ধর্মীয় স্থাপনায় ভাঙচুর চালাচ্ছে।
সকালবেলার এক বুলেটিনে রাষ্ট্রীয় টিভিতে প্রচারিত একটি ভক্স পপে কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, বিক্ষোভকারীরা ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরও জানায়, ইরানের সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির নির্বাসিত ছেলে রেজা পাহলভির বিক্ষোভের আহ্বানকে তারা ‘ইরানবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। রেজা পাহলভি রাতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন বলে জানানো হয়।
এদিকে, উত্তর খোরাসান প্রদেশের এসফারায়েন শহরে সংঘটিত অস্থিরতায় একজন প্রসিকিউটর ও কয়েকজন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রীয় টিভি। এ তথ্য প্রাদেশিক বিচার বিভাগের প্রধানের বরাতে প্রচার করা হয়।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলীয় হামেদান শহরেও সহিংসতায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের ‘দাঙ্গাবাজ’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, তারা ব্যাপকভাবে সম্পদ ও সম্পত্তির ক্ষতি করেছে।
এরই মধ্যে দেশজুড়ে জারি থাকা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে ইরানের বেশিরভাগ সংবাদ ওয়েবসাইট দেশের বাইরে থেকে প্রবেশযোগ্য নয়। আগে নিয়মিত হালনাগাদ হওয়া কিছু সংবাদমাধ্যমের টেলিগ্রাম চ্যানেলও এখন অফলাইনে রয়েছে।
সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ আজ শনিবার কেবল পূর্বনির্ধারিত পোস্ট প্রকাশ করেছে বলেও জানা গেছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় দেশটির ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
ইরানে জারি থাকা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ১৮ ঘণ্টা পরও দেশটির বেশিরভাগ অংশ কার্যত অফলাইন অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৯টার দিকে সীমিত আকারে কিছু ইন্টারনেট ট্রাফিক ফের চালু হতে শুরু করে। তবে সামগ্রিকভাবে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ এখনো ‘অত্যন্ত কম’ পর্যায়ে রয়েছে।
চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ায় দেশটির ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বিক্ষোভকারীদের নিরাপত্তা এবং তথ্যপ্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে দেশটির কর্তৃপক্ষকে ‘সংযম প্রদর্শনের’ আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য সরকার শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া মানুষের অধিকারকে সমর্থন করে।
প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সংযম দেখাতে হবে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সমাবেশের অধিকার ও তথ্যপ্রাপ্তিসহ মৌলিক স্বাধীনতাগুলোকে সম্মান করতে হবে।
প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে এক সংবাদ সম্মেলনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র জানান, এই বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের মূল মনোযোগ শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো মানুষের পাশে থাকা।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ টানা ১৩তম দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলনের মধ্যে দেশজুড়ে কার্যত ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তাদের ‘স্যাবুটুর’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই রাস্তায় নেমেছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিক্ষোভ দমনে সরকার যদি প্রাণঘাতী সহিংসতা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘খুব কঠোরভাবে আঘাত’ করবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় ইরানি মুদ্রার ভয়াবহ দরপতনের পর। পরবর্তীতে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন শহরে। বিবিসি ভেরিফাই আন্দোলনের বিস্তার মানচিত্রের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে।
এক ২৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী বিবিসিকে বলেন, ‘মানুষ এখন আরও সাহসী হয়ে উঠছে। আমি বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়েছিলাম, সেখানে দিনের আলোতেই মানুষ প্রকাশ্যে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলছিল।’
এদিকে, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় ইরানের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসী জানিয়েছেন, তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ওপর নির্ভর করেই পরিস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে।
ইরানে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সরাসরি প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় বিবিসি ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়া, উপগ্রহচিত্র এবং প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ব্যবহার করে তথ্য যাচাই করছে।
সরকারি দমন-পীড়নের আশঙ্কার মধ্যেও বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘পতনের মুখে’ আছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ইরান কোনোভাবেই ধ্বংসাত্মক তৎপরতা বা বিদেশি শক্তির হয়ে কাজ করা ‘ভাড়াটে দালালদের’ সহ্য করবে না।
খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘ভাঙচুরকারী’ ও ‘নাশকতাকারী’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন—তারা ট্রাম্পের ইশারায় কাজ করছে। ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাত ‘হাজারো ইরানির রক্তে রঞ্জিত’ এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে শাসন করা শাহের রাজবংশের মতোই একদিন ট্রাম্পকেও ক্ষমতা হারাতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চাপের মুখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র কখনোই পিছু হটবে না।
খামেনির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন তাঁর দেশে ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবা বন্ধ করে দেওয়ার পরও বিক্ষোভকারীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত রাস্তায় নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে আগুন জ্বালিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রথমবারের মতো চলমান বিক্ষোভ নিয়ে মুখ খুলেছে এবং দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘সন্ত্রাসী এজেন্টরা’ সহিংসতা উসকে দিচ্ছে। তারা হতাহতের কথা স্বীকার করলেও বিস্তারিত জানায়নি।
বর্তমানে ইরানের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় বিক্ষোভের পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট নয়। তবে এই আন্দোলন শুরু হয় অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে এবং ধীরে ধীরে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ইরান জুড়ে চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪২ জন নিহত এবং ২ হাজার ২৭০ জনের বেশি মানুষ আটক হয়েছেন।
এদিকে, ইরানের নির্বাসিত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি আরও বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্বের চোখ আপনাদের দিকে—রাস্তায় নামুন।’ বিক্ষোভে শাহের পক্ষেও স্লোগান শোনা যাচ্ছে, যা অতীতে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ ছিল।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে ইরানকে ‘ভয়াবহ মূল্য’ দিতে হবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে খামেনি হয়তো দেশ ছাড়ার কথাও ভাবছেন।