Ajker Patrika

সিরাজগঞ্জের ৬ আসন: কেউ কোটিপতি, কারও বার্ষিক আয় লাখ টাকা

  • সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে বিএনপির মুহিতের আয় প্রায় ৩ কোটি টাকা
  • তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মিজানুর রহমানের বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ছয়টি আসনের সব কটিতেই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, তাঁদের আয় ও সম্পদের চিত্র। কারও বার্ষিক আয় কোটি টাকার ওপরে, আবার কারও কয়েক লাখ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। মোট সম্পদের ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের অর্থনৈতিক অবস্থার ব্যবধান অনেক।

সিরাজগঞ্জ-১: বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ব্যবসায়ী সেলিম রেজা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও এটি তাঁর প্রথম নির্বাচন। তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা এবং মোট সম্পদ ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার ৭২০ টাকার। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আটটি রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ব্যবসায়ী মো. শাহিনুর আলম। তাঁর বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকা। নিজের নামে সম্পদ ৬ লাখ ২৫ হাজার টাকার।

সিরাজগঞ্জ-২: এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তাঁর বার্ষিক আয় ৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সম্পদ ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৮ হাজার ৯৩৪ টাকার। তাঁর স্ত্রীর নামে দেখানো আয়ের পরিমাণ ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৩০১ টাকা। স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ২২ কোটি ৩৬ লাখ ৯৭ হাজার ৭০৩ টাকা। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী দলের জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম। তাঁর বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫৩ হাজার ২৭১ টাকা এবং সম্পদ ২০ লাখ ৬২ হাজার ১৭৩ টাকার।

সিরাজগঞ্জ-৩: এখানে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী মো. আয়নুল হক। তাঁর বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সম্পদ ২৯ লাখ ৫ হাজার টাকার। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ব্যবসায়ী মুহা. আব্দুর রউফ সরকার। তাঁর বার্ষিক আয় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মোট সম্পদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার।

সিরাজগঞ্জ-৪: বিএনপির এম আকবর আলীর বার্ষিক আয় ৮৮ লাখ ২৩ হাজার ২২২ টাকা এবং সম্পদ ১৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ২১০ টাকার। তাঁর বিপরীতে জামায়াতের মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা মো. রফিকুল ইসলাম খান। তাঁর বিরুদ্ধে ৯৩টি মামলা ছিল, সবগুলো প্রত্যাহার হয়েছে। বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং মোট সম্পদ ১ কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকার। স্ত্রীর নামে রয়েছে আরও ২৫ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৫ টাকার সম্পদ।

সিরাজগঞ্জ-৫: বিএনপির আমিরুল ইসলাম খান আলীমের বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সম্পদ প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ ৯২ হাজার ৫৩১ টাকার। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ৪০টি রাজনৈতিক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। জামায়াতের মনোনয়ন পাওয়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আলমের বার্ষিক আয় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সম্পদ ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকার।

সিরাজগঞ্জ-৬: এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ড. এম এ মুহিত জেলার সবচেয়ে ধনী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বার্ষিক আয় ২ কোটি ৭৯ লাখ ২১ হাজার ৪০৬ টাকা এবং মোট সম্পদ ২১ কোটি ৩৪ লাখ ৮১ হাজার ২৩৮ টাকার। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী মো. মিজানুর রহমানের বার্ষিক আয় ৫ লাখ ১২ হাজার ৮১১ টাকা এবং সম্পদ ৩২ লাখ ৬০ হাজার ২৯৬ টাকার।

সার্বিক বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আলী আলম বলেন, ‘আমার তেমন সম্পদ নেই। নিজস্ব আয় বলতে চাকরি করে যেটা করেছি এবং দুই ছেলে চাকরি করে যে আয় করে, সেটাই হলফনামায় উল্লেখ করেছি। নির্বাচিত হলে প্রতিবছরের বরাদ্দ, প্রকল্পের আয়-ব্যয়ের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত