Ajker Patrika

পীরগঞ্জে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

মিফতাহুল ইসলাম, পীরগঞ্জ (রংপুর)
পীরগঞ্জে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা
কন্দপদ্ধতিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ রোপণ করছেন কৃষকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

শীতকালীন পেঁয়াজের চাহিদা মেটাতে রংপুরের পীরগঞ্জে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে জমি প্রস্তুত ও পেঁয়াজ রোপণের কাজ। বীজের দাম কিছুটা কম থাকায় স্বস্তি ফিরলেও সার পেতে ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন কৃষকেরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহে কোনো সংকট নেই।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পীরগঞ্জ উপজেলায় ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকেরা জমি প্রস্তুত করে পেঁয়াজ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভালো ফলন ও বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশায় প্রতিবছরই এ পেঁয়াজের আবাদে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

কৃষকদের অভিযোগ, এবার পেঁয়াজের বীজের দাম তুলনামূলক কম থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। চাহিদা অনুযায়ী সার না পেয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ১৫ থেকে ২০ কেজি করে সার নিতে হচ্ছে। এতে জমির প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তাঁরা।

পৌর এলাকার কৃষক আব্দুস সামাদ বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও পেঁয়াজ চাষ করছি। তবে প্রয়োজনের তুলনায় সার কম পেয়েছি। পরবর্তী সময়ে সার না পেলে আবাদ ভালো হবে না।

অপর কৃষক রানু মিয়া বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করছি। ফলন ভালো হলে এবং বাজারে দাম ভালো পেলে লাভবান হতে পারব। আরেক কৃষক সুলতান মাহমুদ বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না হলে দেশীয় পেঁয়াজের ভালো দাম পাওয়ার আশা রয়েছে। তবে এবার সারের জন্য যে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে, এমন কষ্ট আগে কখনো পাইনি।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজন মিয়া বলেন, আমরা মাঠে চাষ করতে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে আমরা কৃষকের পাশে থাকব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন আহমেদ বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। এ নিয়ে কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, পরিপক্ব পেঁয়াজ বিশেষ উপায়ে কন্দপদ্ধতিতে রোপণ করা হয়। এর মাধ্যমে পরিপক্ব পেঁয়াজের মূল থেকে নতুন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। এ কারণে এটিকে মূলকাটা পেঁয়াজ বলে। তবে সাধারণ মানুষের কাছে এটি ‘মুড়িকাটা পেঁয়াজ’ নামেই বেশি পরিচিত।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত