Ajker Patrika

ভ্যান রাখাকে কেন্দ্র করে চালকের চোখে ‘চাবির আঘাত’ বিএনপি নেতার

বাগেরহাট প্রতিনিধি
ভ্যান রাখাকে কেন্দ্র করে চালকের চোখে ‘চাবির আঘাত’ বিএনপি নেতার
চোখে আঘাতপ্রাপ্ত ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে রাস্তায় ভ্যান রাখাকে কেন্দ্র করে রবিউল ইসলাম নামের এক ভ্যানচালককে মারধর ও চোখে চাবি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলনের বিরুদ্ধে। ওই নেতা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করতে সাহস পাননি। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে মোরেলগঞ্জ ফেরিঘাটের বারইখালী অংশের রাস্তায় ভ্যান রাখাকে কেন্দ্র করে আসাদুজ্জামান মিলনের লোকজনের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন গাড়ির চাবি দিয়ে রবিউলের চোখে আঘাত করেন। এ সময় মিলনের ভাইসহ কয়েকজন স্থানীয় ভ্যানচালকদের মারধর করেন। এই ঘটনার জেরে প্রায় দুই ঘণ্টা মোরেলগঞ্জে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। মিলন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ তখন থানায় অভিযোগ করতে সাহস পাননি।

ভুক্তভোগী ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। কোনো ঝামেলা চাই না। আমি শুধু বিচার চাই। আর একটু হলে আমার চোখই নষ্ট হয়ে যেত।’

এ ঘটনার বিচারের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার বারইখালী ফেরিঘাট এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভ্যানচালক ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তাঁর অপশক্তিতে আতঙ্কিত সাধারণ জনতা। তাঁদের ভয়ে এলাকায় মুখ খুলতে সাহস পান না কেউ। মারধরে নষ্ট হতে চলেছে ভ্যানচালক রবিউলের চোখ। তাঁরা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

অভিযুক্ত পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন দাবি করেন, কৃষক দল নেতা কবির ও বিএনপি নেতা রমজান লোকজন নিয়ে তাঁর ছোট ভাই ইলিয়াসকে মারধর করেন। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ জানান, গালিগালাজ করেন। তবে তিনি কারও গায়ে হাত তোলেননি।

আসাদুজ্জামান মিলন জানান, দলের লোকজন জড়িত থাকায় স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য দলীয় নেতারা বলেছেন। আশা করা হচ্ছে, দু-একদিনের মধ্যে এর সমাধান হয়ে যাবে।

মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ থানায় কোনো অভিযোগ দেননি। তবে শুনেছি, বিষয়টি উভয় পক্ষ নিজেরাই সালিস-মীমাংসার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত