Ajker Patrika

কমলনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

যন্ত্রপাতি থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে ১৮ বছর বন্ধ এক্স-রে সেবা

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ১০
যন্ত্রপাতি থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে ১৮ বছর বন্ধ এক্স-রে সেবা
টেকনিশিয়ান না থাকায় সেবাবঞ্চিত রোগীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টেকনিশিয়ানের অভাবে ১৮ বছর ধরে এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালে এনালগ ও ডিজিটাল—দুটি এক্স-রে মেশিন থাকলেও সেগুলো অব্যবহৃত পড়ে আছে। রোগ নির্ণয়ে উপকূলীয় এলাকার দরিদ্র রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসা ব্যয় ও দুর্ভোগ বাড়ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৭৪ সালে উপজেলার করইতলা এলাকায় কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবার চাহিদা বিবেচনায় ২০১৫ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।

হাসপাতালে ২০০২ সালে প্রথম একটি এনালগ এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয়। চালুর প্রায় পাঁচ বছর পর, ২০০৭ সালে দায়িত্বে থাকা টেকনিশিয়ান বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেলে এক্স-রে সেবা বন্ধ হয়ে যায়। নতুন টেকনিশিয়ান নিয়োগ না হওয়ায় এরপর আর সেবাটি চালু হয়নি।

এরপর ২০২০ সালের শেষ দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাসপাতালে একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেশিনটি স্থাপন করা হলেও টেকনিশিয়ান নিয়োগ না হওয়ায় সেটিও চালু করা সম্ভব হয়নি। পুরোনো এনালগ ও নতুন ডিজিটাল—দুটি মেশিনই এখন তালাবদ্ধ কক্ষে পড়ে রয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মো. দিদার ও আবু সায়েদ বলেন, দুর্ঘটনায় পা ভেঙে যাওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করতে বলা হয়। হাসপাতালের মেশিন বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে বাইরে বেসরকারি ক্লিনিকে এক্স-রে করাতে হয়েছে। এতে অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়েছে।

চরপাগলা এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সৈয়দ আহাম্মদ বলেন, দুর্ঘটনায় তাঁর বুকে আঘাত লাগে। হাসপাতালে আসার পর এক্স-রে প্রয়োজন হওয়ায় তাঁকে সদর হাসপাতালে যেতে বলা হয়। তাঁর ভাষ্য, কমলনগর হাসপাতালে এক্স-রে সেবা চালু থাকলে এ ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকার পরও শুধু টেকনিশিয়ানের অভাবে সেবা বন্ধ থাকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। বাইরে গিয়ে এক্স-রে করাতে হওয়ায় দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়ছে।

কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন রয়েছে। কিন্তু টেকনিশিয়ানের অভাবে এগুলো চালানো সম্ভব হচ্ছে না। উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র রোগীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দ্রুত টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল দ্রুত প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়ে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এতে উপকূলীয় এলাকার হাজারো রোগীর চিকিৎসা ব্যয় ও দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত