Ajker Patrika

আক্কেলপুর পৌরসভা: অনুমোদনহীন সামগ্রীতে কাজ, নজরদারি নেই

  • স্ল্যাব নির্মাণে ভিন্ন মানের সিমেন্ট ও রড ব্যবহার
  • পরে সিমেন্ট পরিবর্তনের কথা বলা হলেও অনুমোদিত উপকরণের নাম বলতে পারেননি কর্মকর্তারা
নিয়াজ মোরশেদ, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট)
আক্কেলপুর পৌরসভা: অনুমোদনহীন সামগ্রীতে কাজ, নজরদারি নেই
পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় নালা নির্মাণকাজ। সম্প্রতি জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে। ছবি: আজকের পত্রিকা

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভায় বিশ্বব্যাংক ও এডিবির সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় নালা নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যাচাই করা ও অনুমোদিত উপকরণের পরিবর্তে ভিন্ন মানের উপকরণ ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এবং আক্কেলপুর পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে দায়সারা দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার অনুমোদিত উপকরণ ব্যবহার করছেন কি না—সে বিষয়ে যথাযথ নজরদারি নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় পৌরসভার পাঁচটি স্থানে মোট ২ হাজার ৯০১ মিটার নালা নির্মাণের কাজ শুরু হয়, যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর নওগাঁর ঠিকাদার সাকলাইন মাহমুদ তরফদার কার্যাদেশ পেয়ে আক্কেলপুর-বদলগাছী সড়কের আলিশান হোটেল থেকে আমুট্ট সেতু পর্যন্ত ৮৫৭ মিটার নালার কাজ শুরু করেন। চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালের ১২ আগস্টের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে না পেরে কাজ ফেলে রেখে যান।

পরে আংশিক কাজের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৫ কোটি ৪৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি পায় বগুড়ার সোনাতলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সালেক পাওয়ার লিমিটেড। তারা গত বছরের জুলাই মাসে পশুর মোড় থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনের সামনে প্রায় ৪০০ মিটার নালা নির্মাণকাজ শুরু করে। ওই অংশে নালার স্ল্যাব নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মোড় থেকে উপজেলা পরিষদের গেট পর্যন্ত খননকাজ চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পশুর মোড় থেকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মোড় পর্যন্ত নালা নির্মাণের সময় শুরুতে যাচাই করা মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হলেও পরে ভিন্ন মানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। সে সময় তৎকালীন ইউএনও মনজুরুল আলম কাজ বন্ধ করে দেন। পরে আবার কাজ শুরু করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নালার স্ল্যাব নির্মাণে ভিন্ন মানের সিমেন্ট ও রড ব্যবহার করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পরে সিমেন্ট পরিবর্তন করা হলেও কোন উপকরণ অনুমোদিত ছিল—সে বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল বারী ও পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী স্পষ্ট করে বলতে পারেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল বারী বলেন, তিনি যোগদানের আগেই নালার কাজ শুরু হয়েছিল। চলতি মাসে কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তবে এখনো অনেক বাকি রয়েছে। ঠিকাদার সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছেন। যাচাই করা উপকরণ ব্যবহারের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যে উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা একই মানের। শিডিউল অনুযায়ী কাজ বুঝে নেওয়া হচ্ছে।’

জানতে চাইলে নালা নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা আক্কেলপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান বলেন, অনুমোদনহীন উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়। তবে কোন ব্র্যান্ডের সিমেন্ট ও রড যাচাই করা হয়েছে—সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

গোপালগঞ্জ-৩: বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারে সাবেক বিএনপি নেতা হাবিব

বাংলাদেশে জামায়াতকে ‘বন্ধু’ হিসেবে চায় যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন কূটনীতিকের অডিও ফাঁস

কেরানীগঞ্জে বিএনপি নেতাকে গুলি

নির্বাচন ঘিরে টানা চার দিন ছুটি

নবম বেতন কমিশন: সরকারি চাকরিজীবীদের কোন পে স্কেলে বেতন বেড়ে কত হচ্ছে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত