Ajker Patrika

বাঁওড়ের মাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ, সাবেক ব্যবস্থাপকের ২০ বছরের কারাদণ্ড

­যশোর প্রতিনিধি
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ০৯
বাঁওড়ের মাছ বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ, সাবেক ব্যবস্থাপকের ২০ বছরের কারাদণ্ড
প্রতীকী ছবি

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর বাঁওড়ের মাছ বিক্রির সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাবেক বাঁওড় ব্যবস্থাপক মোল্যা নুরুল আবছারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা ১৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬৩ টাকা জরিমানা করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে যশোরের স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস এম নূরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সিরাজুল ইসলাম।

দণ্ডপ্রাপ্ত মোল্যা নুরুল আবছার চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার ঘোষবিলা গ্রামের মৃত এম এ ওহাবের ছেলে। তিনি পলাতক রয়েছেন। আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০০২-০৩ অর্থবছরে বলুহর বাঁওড়ে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১১ মেট্রিক টন। ওই অর্থবছরে মাছ বিক্রি বাবদ মোট ৭০ লাখ টাকা আয় হয়। বাঁওড় প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, বিক্রি করা মাছের ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৪২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা ছিল।

তৎকালীন বাঁওড় ব্যবস্থাপক নুরুল আবছার বিভিন্ন চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর শাখায় মোট ৩৬ লাখ ২১৭ টাকা ৭২ পয়সা জমা দেন। ফলে সরকারি অংশের অবশিষ্ট ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭৮২ টাকা ২৮ পয়সা তিনি আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া মাছ বিক্রির অতিরিক্ত প্রাপ্ত অর্থের মধ্যে ২০০৩ সালের ৯ আগস্টের তিনটি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে মোট ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮১ টাকা ব্যাংকে জমা হয়েছে বলে ক্যাশবুকে উল্লেখ করেন তিনি। তবে তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের তথ্য যাচাই করে ওই অর্থ জমা না দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

দুদকের তদন্তে আরও উঠে আসে, আত্মসাতের ঘটনা আড়াল করতে নুরুল আবছার বাঁওড় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সরিয়ে ফেলেন বা বিনষ্ট করেন। এর মধ্যে ক্যাশবুক, মাছ আহরণ ও হিসাব দানের বই, আদায়ের রসিদ বই, ট্রেজারি চালান ও বিভিন্ন প্রতিবেদন ছিল।

মামলাটি তদন্ত করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা মো. ওয়াজেদ আলী গাজী। তদন্ত শেষে নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাঁকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ৪২০ ধারায় চার বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০১ ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এ ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড ও আত্মসাৎকৃত ১৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬৩ টাকা ২৮ পয়সা জরিমানা হিসেবে ধার্য করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে ওই অর্থ আদায়যোগ্য বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত