Ajker Patrika

জয়পুরহাটে হামলার ৩১ দিন পর আহত পাম্প কর্মচারীর মৃত্যু, ময়নাতদন্ত চায় পুলিশ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটে হামলার ৩১ দিন পর আহত পাম্প কর্মচারীর মৃত্যু, ময়নাতদন্ত চায় পুলিশ
অরুণ কুমার দেবনাথ। ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটে ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে ক্রেতার ধাক্কায় পড়ে গিয়ে আহত হওয়া অরুণ কুমার দেবনাথ (৫২) নামে এক কর্মচারী মারা গেছেন। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ধাক্কায় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ৩১ দিন পর তাঁর মৃত্যু হলো। তবে তাঁর মৃত্যুর মূল কারণ অসুস্থতা নাকি পড়ে গিয়ে আঘাতের কারণে—তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত করাতে চাইছে পুলিশ। অন্যদিকে অরুণ কুমারের স্বজনেরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

অরুণ কুমার জয়পুরহাট শহরের সবুজনগর এলাকার বাসিন্দা। তিনি পুরানাপৈল এলাকার আরাফাত ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী ছিলেন।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন বিকেলে পুরানাপৈল আরাফাত ফিলিং স্টেশনে একটি পিকআপ নিয়ে তেল নিতে আসেন আসামি লাভলু (৪৫)। তিনি জয়পুরহাট সদরের পারুলিয়া মাদরাসার পিছনের এলাকার বাসিন্দা। ওই সময় পাম্পে বিদ্যুৎ না থাকায় কর্মচারী অরুণ কুমার তাঁকে কিছু সময় অপেক্ষা করতে বলেন। লাভলু জেনারেটর চালু করতে বললে অরুণ কুমার জানান, মালিকের অনুমতি ছাড়া জেনারেটর চালোনো সম্ভব নয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লাভলু তাঁকে গালিগালাজ করেন এবং হাতে ইট নিয়ে দৌড়ে এসে তাঁকে ধাক্কা দেন। ধাক্কায় অরুণ কুমার পাম্পের তেলের মিটারের পাশের পিলারের আঘাত পেয়ে পড়ে যান এবং মাথার পেছনে গুরুতর জখম হন। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি বাড়িতে ফেরেন। তবে কিছুদিন পর আবারও অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে আবারও শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। আজ রাত সাড়ে ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেনি পুলিশ।

এর আগে ২২ জুন ধাক্কায় আহত হওয়ার ঘটনায় অরুণ কুমারের ভাতিজা শ্রবন দেবনাথ বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় একটি মামলা করেন।

জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, ‘ভিকটিমের স্বজনেরা অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ পাওয়ার আবেদন করেছেন। তবে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং মাথায় পূর্বের আঘাতের কারণে মৃত্যুর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছে কি না—তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমরা পরিবারের সেঙ্গ কথা বলছি এবং আইনি বাধ্যবাধকতা থেকেই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। ময়নাতদন্ত শেষ না হওয়ায় লাশ হস্তান্তর করা হয়নি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত