Ajker Patrika

শেরপুরে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দুই পক্ষের বাগ্‌বিতণ্ডা-উত্তেজনা

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি  
আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৬, ২০: ১৩
শেরপুরে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দুই পক্ষের বাগ্‌বিতণ্ডা-উত্তেজনা
বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি জমি নিবন্ধন-সংক্রান্ত তদন্তকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হামলাচেষ্টার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে পৌরশহরের বারোদুয়ারি পাড়া এলাকায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বেলা ৩টা পর্যন্ত জমি কেনাবেচার নিবন্ধন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ থাকে।

জানা গেছে, উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের একটি জমি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে তদন্ত ঘিরে জমির ক্রেতা সাদেকা খানমের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে এবং দলিল লেখক পক্ষের বিরোধ বাধে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, তদন্ত চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করেন।

অফিসের একাধিক কর্মচারী জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বেলা সাড়ে তিনটা পর্যন্ত দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল। এতে নিবন্ধনের জন্য আসা শতাধিক নারী-পুরুষ ভোগান্তিতে পড়েন।

শেরপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা নাঈমা সিদ্দিকা বলেন, শাহবন্দেগী ইউনিয়নের একটি জমি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে কয়েক মাস ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার তদন্তের জন্য উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে ডাকা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে জমির ক্রেতার পক্ষের নুর আলম শাকিল নামের একজন দলিল লেখক পক্ষের মো. আরিফকে উদ্দেশ করে কটূক্তি ও গালিগালাজ করেন এবং হামলার চেষ্টা করেন। বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রার ও শেরপুর থানার ওসিকে অবহিত করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে নুর আলম শাকিল বলেন, জমি নিবন্ধন-সংক্রান্ত দুটি পে-অর্ডারে প্রায় ২০ লাখ টাকা ছিল। তাঁদের না জানিয়ে ওই পে-অর্ডার ভাঙানো হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন। এ বিষয় নিয়ে কর্মকর্তার কার্যালয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় কিছু ব্যক্তি তাঁর ওপর চড়াও হয়ে হামলা চালান এবং তিনি আহত হন। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানান তিনি।

অফিসের দলিল লেখক ও দলিল লেখক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ বলেন, উপজেলার খন্দকারটোলা মৌজার ৩২৮ শতাংশ জমির ক্রেতাদের মধ্যে বিরোধের জেরেই নিবন্ধন প্রক্রিয়া আটকে আছে। তদন্ত চলাকালে নুর আলম কটূক্তি ও হামলার চেষ্টা করলে তাঁকে বাধা দিতে গিয়ে তিনি আহত হন।

শেরপুর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রার কর্মকর্তা মৌখিকভাবে হামলার অভিযোগ জানিয়েছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত