
প্রতি বর্ষায় একই দৃশ্য, একই আর্তনাদ। এবারও টানা বর্ষণে ডুবে গেছে যশোরের ভবদহ অঞ্চল। বাড়িঘর, রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাছের ঘের তলিয়ে লক্ষাধিক মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে। চার দশকে হাজার কোটি টাকা ব্যয় এবং একের পর এক প্রকল্প নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বর্ষাতেই ফিরে আসে একই সংকট। স্থানীয়দের অভিযোগ, অসম্পূর্ণ নদী খনন, আমডাঙ্গা খাল সংস্কারে দীর্ঘসূত্রতা এবং পানি নিষ্কাশনে বাধার কারণেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতা আরও গভীর হচ্ছে।
বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে মনিরামপুর উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের বাসিন্দা বীথি রানীর তিনটি ঘরের দুটি। মাথা গোঁজার শেষ সম্বল মেটে ঘরটি কোনোমতে টিকে থাকলেও যেকোনো মুহূর্তে সেটি ধসে পড়তে পারে। আকাশে একটুখানি মেঘ জমলেই উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় পড়েন বীথি। বলেন, ‘অসুস্থ শ্বশুর-শাশুড়ি আর স্বামী-সন্তান নিয়ে এই বাড়িতে দিন কাটাতাম। কিন্তু গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ডুবেছে মাঠ, ঘের, রাস্তা। সেই জল বাড়িতে ঢুকেছে। উঠানে কোমরপানি, জল ঢুকেছে গোয়ালঘর, রান্নাঘরেও। গরু-ছাগল নিয়েছি উঁচু রাস্তায়। সেখানেই চালা বানিয়ে সবাই রাতযাপন করছি। রান্নাবান্নায় কষ্ট। চারদিকে জল আর জল! সাপ, পোকামাকড়ের সঙ্গে বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে এভাবে বাঁচা যায়, বলেন?’
শুধু বীথি রানী নন, যশোরের দুঃখখ্যাত ভবদহ অঞ্চলের শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ এমন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। টানা বর্ষণে যশোরের মনিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর উপজেলার ভবদহ এলাকার শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক ডুবে যাওয়ায় হাজারো মানুষ রয়েছে চরম দুর্ভোগে। অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়ে উঁচু সড়কে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিদিনই পানি বাড়ায় পরিস্থিতি মানবিক বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। দুর্দশা লাঘবে গত চার দশকে ব্যয় হয়েছে হাজার কোটি টাকা। নেওয়া হয়েছে একের পর এক প্রকল্প, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি। সর্বশেষ ২০২৫ সালে নেওয়া ১৪০ কোটি টাকার নদী খনন প্রকল্পে আশায় বুক বেঁধেছিল ভবদহের বাসিন্দারা। কিন্তু সেই আশাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে এই বর্ষণ।
স্থানীয়দের দাবি, অভয়নগরের আমডাঙ্গা খাল খনন না করা এবং ভবদহের স্লুইসগেট ও নদী দিয়ে ঠিকমতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর সরকার ভবদহ সমস্যার সমাধানে আমডাঙ্গা খাল সংস্কার, হরি নদীসহ সংশ্লিষ্ট নদী খনন এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে ধীরগতি সংকটকে আরও গভীর করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আমডাঙ্গা খালের সংস্কারের কার্যাদেশ দুই বছর আগে দেওয়া হলেও কাজ এখনো শুরু হয়নি। অথচ এই খাল দিয়ে ভবদহ এলাকার প্রায় ২৫ শতাংশ পানি নিষ্কাশনের সুযোগ রয়েছে। আর ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ দশমিক ৫ কিলোমিটার হরি ও ভদ্রা নদী খনন প্রকল্পের কাজও এখনো অসম্পূর্ণ। নদী খননের সময় খর্নিয়া সেতুর দক্ষিণ পাশে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধ এবং জমে থাকা পলি অপসারণ না করায় এবারের বর্ষায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
মনিরামপুরের কুলটিয়া, নেহালপুর ও অভয়নগরের পায়রা, প্রেমবাগ, চলিশিয়া, সুন্দলী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই অঞ্চলের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ পানিবন্দী। স্থায়ী জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় এখন দিন কাটছে তাদের। এসব গ্রামে বাড়িঘর, স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, ধর্মীয় উপাসনালয় তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে ঘেরের মাছ। নিরাপদ চলাফেরার পাশাপাশি গোখাদ্য, সুপেয় পানির অভাব আর নাজুক স্যানিটেশন ব্যবস্থার কারণে তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে।
মনিরামপুর উপজেলার ডহর মশিয়াহাটী গ্রামের সুবেন বিশ্বাস বলেন, ‘বাড়ির উঠানে হাঁটুপানিতে মাছ ধরার চারো পেতেছি। যাতায়াতের জন্য উঠোনে বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছি।’ সুজাতপুর গ্রামের সুভাষ বিশ্বাস বলেন, ‘জলের মধ্যে খুবই খারাপ অবস্থায় আছি। যেভাবে জল বাড়ছে, তাতে এবারও জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগের অন্ত থাকবে না।’
ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, ইতিমধ্যে ভবদহ অঞ্চলের তিন জেলার (যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা) দুই শতাধিক গ্রাম তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ এখন দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি জানান, খর্নিয়া সেতুর প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা হয়েছে। ভবদহের তিনটি স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। দ্রুতই আরও কয়েকটি গেট খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। গেটগুলো দিয়ে এরই মধ্যে দ্রুতগতিতে পানি নামছে। আশা করছি, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

উপজেলায় এখন আউশ ধান কাটার মৌসুম চলছে। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতে এ বছর আউশ ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখেছিলেন চাষিরা। কিন্তু জমিগুলোতে দিনভর ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই, বাবুইসহ নানা জাতের পাখি এসে বসছে, পাখির দল ধান কিছুটা খেয়ে যাচ্ছে, ধানগাছ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্তও করছে। বাধ্য হয়ে অনেকে কাঁচা ধান কেটে
৪ মিনিট আগে
নাটোরের গুরুদাসপুরে এ বছর পাটের উৎপাদন বেড়েছে, কিন্তু বাজারদর কমে যাওয়ায় হতাশ চাষিরা। চাঁচকৈড় হাটে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা মৌসুমের শুরুর প্রায় ৫ হাজার টাকা থেকে কম। ব্যয় মিটিয়ে লাভ নামমাত্র বলছেন কৃষকেরা।
৫ মিনিট আগে
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে ডুবে অজ্ঞাতনামা যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউনিয়া গ্রামের কলাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
১৫ মিনিট আগে
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ছেলেকে বাঁচাতে পুকুরে নেমে বরেন্দ্র পাম্পের ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জামাল উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে উদয়পুর ইউনিয়নের ইটাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত ছেলে রাসেল বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
১৭ মিনিট আগে