
জাহীদ রেজা নূর
জাহীদ রেজা নূর
সকল লেখা

কৃষণ চন্দর, ঘৃণা ও দুধকলা দিয়ে পোষা কালসাপ
বাংলাদেশ তার জন্মযন্ত্রণা নিয়ে আশপাশের দেশগুলো থেকে কেন আলাদা, তার ইতিহাস সবাই জানে। তারপরও তা থেকে যে কোনো শিক্ষা নেওয়া হয়নি, সেটা বোঝা যায় বর্তমান সময়ে কিছু মানুষের কিছু মনোভঙ্গি দেখলে। পাশেই তো ভারত, সে দেশ পার হলে পাকিস্তান। কিন্তু এই দুটি দেশের জন্ম হয়েছিল ব্রিটিশদের সঙ্গে সমঝোতা করে।

চাপের মুখে কৌতুকে দিন মন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিকে চোখ রাখলে বরাবরের মতোই মনে হয়, এ দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইছে। বাক্স্বাধীনতার এ এক স্বর্গরাজ্য যেন। যে যার মতো কথার তুবড়ি ছোটাচ্ছেন। কেউ অন্তর্বর্তী সরকারকে এক তুড়িতে ফেলে দিচ্ছেন, কেউ শেখ হাসিনাকে নিমেষে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করে

কানপুরে রবিকাহিনি ও বিচ্ছিন্ন কিছু ভাবনা
ভারত বিষয়ে বাংলাদেশের অনেক মানুষের মনে বিদ্বেষ আছে। বিভিন্ন প্রশ্নে ভারতের দাদাগিরির কারণে এই বিদ্বেষ যেমন জন্মেছে, তেমনি কোনো কোনো মহল ভারতবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার জন্য নানা কথা ছড়িয়েছে, যা এই বিদ্বেষকে পোক্ত করেছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী চৈনিক বাম আর পাকিস্তানিদের

কোন পথে এগোবে বাংলাদেশ
না বুঝে কিছু বলার চেয়ে ঘটনা যা ঘটছে, সেদিকে দৃষ্টি রাখা ভালো। পরিবর্তন কী হচ্ছে, কতটা হচ্ছে, আদৌ হচ্ছে কি না, সেই সব প্রশ্ন নিয়ে এখনই বিতর্ক করার সময় আসেনি। কেবল তো ক্ষমতা হাতে নিল অন্তর্বর্তী সরকার। সত্যিই এমন কোনো সংস্কার করা সম্ভব কি না, যাতে ক্ষমতাসীন কেউ স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে, সেদিকে গণ-অভ

অস্থির সময়ে
গতকালই আমি লিখেছিলাম, ‘এই বেলা থেকে বাঁধনটাতে দাও মন’ নামে একটি উপসম্পাদকীয়। একটি রাষ্ট্র যখন চলনশক্তি হারিয়ে ফেলে, যখন তাকে টেনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, তখন তাকে বাঁচাবার উপায় কী—এ-ই ছিল লেখার বিষয়।

এই বেলা থেকে বাঁধনটাতে দাও মন
সময় যখন রাজনৈতিকভাবে কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে থাকে, তখন আশপাশে যা ঘটছে, তা বুঝতে কষ্ট হয়। যারা দল করে, তারা সেই দলের পেছনেই ছোটে পঙ্গপালের মতো। সত্য তখন তাদের কোনো পক্ষের কাছেই বড় নয়। যেকোনো উপায়ে নিজের মতকে প্রতিষ্ঠিত করাই তখন তাদের ব্রত হয়ে দাঁড়ায়। আর তাই তারা চোখে শুধু সেটুকুই দেখে, যেটুকু তারা দেখতে চায়

বিড়ম্বনার কাল
কদিন আগের কথা। পেনড্রাইভ নিতে এসেছিল মাসুদ। বলল, ‘মাঝে মাঝে বাইরে যাবেন, ভাইয়া। ঘরে বসে থাকবেন না। ঐতিহাসিক সময়ের সাক্ষী হতে হবে তো!’

শুকশিনের কথা
গতকাল ভাসিলি শুকশিনের ৯৫তম জন্মদিন ছিল। সোভিয়েত লেখক তিনি। আমার এই লেখা ২৫ জুলাই ছাপা হতে পারত, কিন্তু মন্থর ইন্টারনেটের কারণে তাঁর ছবি পাওয়া অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। অথচ আমার মন চাইছিল, ছবিসহ তাঁকে নিয়ে একটা লেখা ছাপা হোক।

দুর্নীতি ও থলের বিড়াল
দুর্নীতিতে যাঁরা শীর্ষ আসন দখল করেছেন, তাঁদের কারও কারও কাণ্ডকীর্তি ফাঁস হওয়ার পর অনেক প্রশ্ন এসে সামনে দাঁড়িয়েছে। হঠাৎ করে ঝাঁকে ঝাঁকে দুর্নীতিবাজ ধরা পড়ছে কেন? এ জন্য কাকে সাধুবাদ দিতে হবে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুদক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, নাকি আমজনতাকে?

আহা! কাবাব!
যে যা-ই বলুক, স্বীকার করুক আর না-ই করুক, রসনার সঙ্গে কাবাবের একটা যোগাযোগ আছে। প্রাচীনকালের জিহ্বাও কাবাবের অসাধারণত্ব স্বীকার করে নেয়। আজ বিশ্ব কাবাব দিবসে কাবাব নিয়ে কিছু কথা হোক।

কৌতুক দিবসে কিছু সুখ-দুঃখের কথা
আজ ১ জুলাই বিশ্ব কৌতুক দিবস। এ রকম একটি দিনে ভারী ভারী কথা লেখার কোনো অর্থ হয় না। কৌতুক আর রসিকতার মাধ্যমে জীবনের নির্যাস যদি পাওয়া যায়, তাহলে অনর্থক বড় বড় কথা বলার কী দরকার?

তারপর যেতে যেতে যেতে...আমিশদের গ্রাম
পেন স্টেশন থেকে ল্যাংকেস্টারের ট্রেনে উঠতে হবে। সকাল ৯টা ৯ মিনিটে ট্রেন। সুতরাং বাস আর সাবওয়ের জন্য বেশ খানিকটা সময় বরাদ্দ রেখে আমি আর সনকা সকাল সোয়া সাতটায় কুইনস ভিলেজ থেকে বের হলাম। গন্তব্য আমিশ ভিলেজ। আরো স্পষ্ট করে বললে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ল্যাংকেস্টার কাউন্টির আমিশ ভিলেজ।

ত্যাগের কথা, মহিমার কথা
বাংলার ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ঈদসহ ধর্মীয় উৎসবগুলো বরাবরই ঘটা করে পালন করা হতো। বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গেলে মীর্জা নাথানের বর্ণনার কাছে যেতে হয়।

আকাশে ওড়ার বিড়ম্বনাগুলো
লেখাটা যখন শুরু করেছি, তখনো হাতের কাছে পরিচয় প্রকাশিত হয়, এমন সব ডকুমেন্ট আমার হাতে রাখতে হচ্ছিল। যদিও দেখাতেই হবে কাউকে, এমন নয়, কিন্তু যেকোনো সময় পুলিশ এসে পরিচয়পত্র চাইতে পারে।

চুকনগর হত্যাকাণ্ড: হৃদয়বিদারক সেই দিনটি
আজ ২০ মে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক হৃদয়বিদারক দিন। বাংলাদেশের জন্মলগ্নে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেভাবে এই বাংলার মানুষদের সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছিল, তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ এই ২০ মে। এই দিনে খুলনার চুকনগরে ঘটেছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়কার সবচেয়ে বড় হত্যাকাণ্ড। সবচেয়ে কম পরিসংখ্যানেও দেখা যায়, ২০ মে বেলা

তর্কের বিষয় যখন রবীন্দ্রনাথ
বেশ কয়েক বছর ধরেই আমাদের দেশে শুরু হয়েছে রবীন্দ্রনাথের প্রতি বিষোদ্গার। আগে মূলত করত স্বল্পশিক্ষিত ধর্মান্ধ মানুষ। এই ধর্মান্ধ মানুষের প্ররোচনায় সাধারণ মুসলমানেরাও একসময় এসব কুৎসায় বিশ্বাস আনত।
