
১৩ আগস্ট চলে গেল ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মদিন। অন্য কোনো বছর হলে হয়তো তাঁকে নিয়ে কিছু লিখিনি বলে আক্ষেপ হতো না, কিন্তু এটা ছিল এই মহান বিপ্লবীর জন্মশতবার্ষিকী। এই বছরে তাঁকে স্মরণ করে কিছু কথা লেখা জরুরি।
কেন লিখতে দেরি হলো, সে কথা নতুন করে বলার নয়। আগস্ট মাসটি আমাদের দেশে নানা তাৎপর্যমণ্ডিত। শোক, বেদনা, স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ—এই সমস্ত কিছুই দেখেছে বাংলাদেশের আগস্ট। তবে এ মুহূর্তে তার বিশদ বিবরণ দিয়ে মূল বিষয় থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিতে চাই না। বিশ্বজুড়ে বিপ্লব ও বিপ্লবীরা এখন মোটেই ভালো নেই। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে বিশ্ব বিপ্লব নিয়ে স্বপ্ন দেখা মানুষের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো থেকে যে সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের কথা ছড়িয়ে যেত বিশ্বময়, খেটে খাওয়া মানুষ যাতে অনুপ্রাণিত হতো, তার দশা আজ কী, তা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে। সমাজতান্ত্রিক ভাবনার এই আপাত পরাজয়ে উগ্র ডানপন্থা যে বিকশিত হচ্ছে, সেটা কি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে? বাস্তব সত্য হলো, ১৯২৬ সালে নবগঠিত বিপ্লবী দেশ সোভিয়েত ইউনিয়ন যে আশার আলো জ্বেলেছিল, ঠিক ১০০ বছর পরে সে আলো অনেকটাই স্তিমিত। এর কারণগুলো বিশ্লেষণযোগ্য বটে, কিন্তু আবারও বলছি, তাতে মূল ব্যাপার থেকে দৃষ্টি সরে যাবে অন্যত্র। তাই জন্মশতবর্ষে ফিদেল কাস্ত্রোই হোক লেখার মূল বিষয়।
২. কিউবাকে কেন স্বাধীনতার দ্বীপ বলা হতো, তা একালের তরুণেরা বুঝবে না। ফিদেল কাস্ত্রো এমন একজন নেতা ছিলেন, যিনি কয়েক দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গিয়েছেন। কিউবার বিপ্লব কোথায় এসে আজ দাঁড়িয়েছে, তা নিয়ে কথা বলার আগে ছোট্ট এই দ্বীপটি কী করে যুক্তরাষ্ট্রের নাকের ডগায় এভাবে টিকে থাকতে পারল, তার কারণ বিশ্লেষণ করতে গেলে দীর্ঘদেহী এই মানুষটির অবয়বই চোখে ভেসে ওঠে। তবে শুরুতেই বলে রাখি, অকারণ প্রশংসা বা সমালোচনা করার জন্য এই লেখা নয়। ফিদেল কাস্ত্রোকে বিশ্বরাজনীতির প্রেক্ষাপটে ভালো-মন্দ হিসাব করেই দেখা হবে।
প্রথমেই বলতে হবে, কাস্ত্রো ও তাঁর সহযোদ্ধারা দুর্নীতিগ্রস্ত ও কর্তৃত্ববাদী শাসক ফুলহেনসিও বাতিস্তার সরকারকে উৎখাত করেছিল এবং একটি জাতীয়, সামাজিক ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী বিপ্লব সংঘটিত করেছিল। এই বিপ্লব তাঁরা করেছিলেন কোনো বিদেশি সেনার সাহায্য ছাড়াই।
ফিদেল বলতেন, তিনি বিপ্লবের বহু আগে থেকেই কমিউনিস্ট ছিলেন, কিন্তু সেই পরিচয় তাঁকে গোপন করে রাখতে হয়েছিল—বাস্তবে বাতিস্তাকে পরাজিত করার পরই তিনি এই মতাদর্শের অনুসারী হন বলে মনে করা হয়। তবে একবার কমিউনিজমে প্রবেশ করার পর ফিদেল এমন সর্বাঙ্গীণভাবে তাতে নিমগ্ন হলেন যে তিনি নিজেই হয়ে উঠলেন বিপ্লবী আদর্শের এক জীবন্ত প্রতীক।
৩. একটা মজার তথ্য দেওয়া যাক ফিদেল সম্পর্কে। স্বয়ং ফিদেল প্রায় এক ডজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের শাসনকালজুড়ে কিউবা শাসন করেছেন। এমনকি কয়েকজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের জন্মই হয়েছিল কাস্ত্রোর কিউবা শাসনকালে।
অনেকেরই নিশ্চয় জানা আছে, কৈশোরে ফিদেল হোয়াইট হাউসের কর্তা ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্টকে চিঠি লিখেছিলেন। আর ফিদেল পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প—যাঁর জন্মই হয়েছিল রুজভেল্টের মৃত্যুর পর।
যেসব সোভিয়েত নেতার সঙ্গে কাজ করেছেন, গর্বাচভ ছাড়া তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁর আগেই পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। এমনকি তাঁর ভেনেজুয়েলীয় মিত্র হুগো শাভেজকেও তিনি ছাড়িয়ে গেছেন জীবনের পথে। শাভেজের জন্ম হয়েছিল ১৯৫৩ সালে ফিদেল ও তাঁর সহযোদ্ধারা মনকাদা সেনাছাউনিতে হামলা চালানোর এক বছর পর।
বাতিস্তার শাসনের পতনের প্রায় অব্যবহিত পর থেকেই কিউবার ‘বারবুদোস’ বা দাড়িওয়ালা বিপ্লবীরা—তাঁদের মতাদর্শের সমমনা শক্তিগুলোকে সাহায্য করতে শুরু করেছিলেন। ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, গুয়াতেমালা ও নিকারাগুয়ায় ঘৃণিত স্বৈরশাসনগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে অংশ নিয়েছিল কিউবানরা।
আফ্রিকা ও এশিয়ায় নব্য-ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রামে কিউবার আন্তর্জাতিকতাবাদী বিপ্লবীদের সহায়তা ছিল অমূল্য। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী ব্যবস্থার পতনে, ইথিওপিয়ার স্বাধীনতা রক্ষায় এবং আফ্রিকা ও এশিয়ার একাধিক বিপ্লবী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সরকারের সামাজিক নীতি বাস্তবায়নে কিউবার সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে লাতিন আমেরিকায় কিউবার এই সাহায্য শুধু বামপন্থীদের নির্মম স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেনি; এর আরেকটি দিকও ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে—কিছু দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কিউবা হস্তক্ষেপ করেছে। বিশেষত এমন দেশগুলোতে, যেখানে ক্ষমতায় ছিল কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসন নয়, বরং জাতীয়তাবাদী-সংস্কারবাদী গণতান্ত্রিক সরকার। উদাহরণ: ভেনেজুয়েলা।
হাভানা আনুষ্ঠানিকভাবে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিল না। কিন্তু খুব দ্রুত কিউবা এই আন্দোলনের মর্যাদাপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠেছিল। অনেকেই গভীর মনোযোগে লক্ষ করতেন, কীভাবে ছোট্ট একটি দেশ তার পররাষ্ট্রনীতিতে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন পথ অনুসরণ করছে। প্রকাশ্যেই শুধু তার বিপরীত মেরুতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করছে। আর সেখানেই থেমে থাকছে না। কাস্ত্রো সরকারের মূল পৃষ্ঠপোষক যে সোভিয়েত ইউনিয়ন, তাকেও বিন্দুমাত্র ছাড় দেননি ফিদেল।
পৃথিবীজুড়ে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আওয়াজ তুলেছিলেন কাস্ত্রো, কিন্তু যখন ১৯৬৮ সালে চেকোস্লোভাকিয়ায় ওয়ারশ চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর সেনাবাহিনী প্রবেশ করল, তখন কিউবা সেই ঘটনাকে সমর্থন করেছিল বটে, কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নকে বিদ্রুপ করতে ভোলেনি। অনেকেরই হাভানার তোলা সেই প্রশ্নটির কথা মনে পড়ে যাবে: ‘যদি সোভিয়েত ইউনিয়নের হাতে এত বিপুলসংখ্যক সৈন্যই থাকে, তাহলে সেই সৈন্যদের সংগ্রামরত ভিয়েতনামের সাহায্যে পাঠানো হচ্ছে না কেন?’ মার্কিনিরা সে সময় ভিয়েতনামীদের বিরুদ্ধে হিংস্র আক্রমণ চালাচ্ছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে হাভানার এই প্রশ্ন।
৪. ফিদেল সর্বাগ্রে ছিলেন একজন জাতীয় কিউবান রাজনীতিক এবং লাতিন আমেরিকার একজন বিপ্লবী—মস্কোর মামুলি পুতুল ছিলেন না। ১৯৬২ সালে পৃথিবীর সামগ্রিক দ্বন্দ্বের উত্তাপ ছড়িয়েছিল কিউবাকে ঘিরেই। দ্বীপটিতে সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছিল যে সংকটের, তা ক্যারিবীয় সংকট নামেই পরিচিত। এই সংকটের কারণে বিশ্ব প্রায় পারমাণবিক মহাপ্রলয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল।
লাতিন আমেরিকার ‘প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র’-এর অর্জনকে রক্ষা করতে সোভিয়েত নেতা নিকিতা খ্রুশ্চভ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি সোভিয়েত ইউনিয়নকে কিউবা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য করতে চেয়েছিলেন। এই শীতল যুদ্ধে মার্কিন ও সোভিয়েত দুই দেশের কথাই বারবার ঘুরেফিরে আসে। কিন্তু এই বিশ্লেষণে প্রায়ই বন্ধনীর বাইরে রেখে দেওয়া হয় স্বয়ং ফিদেলের ভূমিকা। অথচ সেটি করা মোটেই উচিত নয়।
এ ব্যাপারে ফিদেলের অবস্থান কী ছিল? তিনি তখন বিপ্লবী উদ্দীপনায় পরিপূর্ণ একজন স্বপ্নময় পুরুষ। ফিদেল মস্কোকে সে সময় কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, শুধু তা-ই নয়; তিনি এমন কথাও ঘোষণা করেছিলেন যে, ‘বিশ্ববিপ্লবের বিজয়ে যদি তা সহায়ক হয়, তবে তাঁর দেশ তাপ-পরমাণু বিস্ফোরণের আগুনে পুড়ে ছাই হতেও প্রস্তুত।’
কী সাংঘাতিক অঙ্গীকার! এ রকম সাহসী মানুষেরাই তখন স্বপ্ন দেখত, স্বপ্ন দেখাত।
কাস্ত্রোর কৃতিত্বের একটি বড় দিক হলো, তিনি শুধু স্বপ্নের মধ্যে বিচরণ করতেন না, বাস্তবকেও মূল্য দিতেন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তীব্র বৈরিতা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও কিউবা নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার গড়ে তোলার চেষ্টা করেনি। কিংবা অন্য কোনো দেশের পারমাণবিক অস্ত্র নিজের ভূখণ্ডে মোতায়েন করার সামান্যতম চেষ্টাও করেনি।
৫. কিউবার সমাজতন্ত্রের সব সময়ই একটি উল্টো পিঠ ছিল। বাতিস্তার স্বৈরশাসনের পতনের পর কেটে যাওয়া বছরগুলোতে দ্বীপটির জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত দেশ ছেড়ে চলে গেছে এবং আজও সেই অভিবাসনের স্রোত একটুও শুকিয়ে আসেনি।
আমাদের চোখের সামনেই যে অর্থনৈতিক সংকট ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে, তার পেছনে রয়েছে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হওয়া এবং জ্বালানি অবরোধ আরোপ। অর্থনৈতিক দুরবস্থা ১৯৬০-এর দশক থেকেই কিউবার বিপ্লবকে তাড়া করে ফিরেছে। নির্মম আমেরিকান অবরোধের পাশাপাশি এর জন্য দায়ী ছিল কর্তৃপক্ষের অপেশাদারসুলভ কিছু পদক্ষেপও। কিউবার সরকার পরিকল্পিত অর্থনীতির পদ্ধতিকে প্রায় সোভিয়েত ইউনিয়নের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। কিন্তু এই ধরনের অর্থনৈতিক মডেল চালানোর জন্য যে প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক সম্পদ এবং পর্যাপ্তসংখ্যক দক্ষ শ্রমশক্তি দরকার, কিউবার হাতে তার কোনোটিই যথেষ্ট ছিল না।
তবে একই সঙ্গে এটাও সত্য যে তাঁর সহযোদ্ধা বীর গেরিলা এরনেস্তো চে গুয়েভারার বিপরীতে ফিদেল কেবল একজন বামপন্থী তাত্ত্বিক ছিলেন না; তিনি ছিলেন এমন একজন প্রশাসকও, যিনি বাস্তবতার বিচারে অর্থনীতিকে বিপ্লবী গেরিলা যুদ্ধের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।
দশকের পর দশক ধরে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা পরিষদের অন্যান্য দেশ থেকে পাওয়া সাহায্য হাভানার আর্থ-সামাজিক ভুলত্রুটিগুলোকে অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সমাজতান্ত্রিক শিবিরের পতন এবং স্বয়ং সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি কিউবার ওপর প্রচণ্ড আঘাত হানে। সে সময় দেশটি তার বৈদেশিক বাজারের ৮০ শতাংশ হারায় এবং তার মোট দেশজ উৎপাদন এক-তৃতীয়াংশ কমে যায়।
১৯৯০-এর দশকেও ফিদেল ও তাঁর সরকার টিকে যায়। ‘স্বদেশ অথবা মৃত্যু’ স্লোগানের পরিবর্তে তারা গ্রহণ করে ‘সমাজতন্ত্র অথবা মৃত্যু’। শান্তিকালীন ‘বিশেষ সময়কাল’-এর নীতির আওতায় কিছু সীমিত ছাড় দেওয়া হয়; নিকেল খনি ও পর্যটন খাতে বিদেশিদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু একই সময়ে রাজনৈতিক সংস্কারের দিকে যাওয়ার সামান্যতম প্রবণতাকেও তারা কঠোর হাতে রুখে দেয়।
তখন পর্যটনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত কিউবাকে ঐতিহ্যগত চিনি রপ্তানির চেয়েও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা এনে দিতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু শাভেজের ভেনেজুয়েলার সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতা শুরু হওয়ার পর এবং সস্তা তেলের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হাতে আসার পর কিউবার কর্তৃপক্ষ বেসরকারি ব্যবসার ব্যাপক বিকাশের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।
কিউবার বিপ্লব তখন এমন একটি সুযোগ হাতছাড়া করে, যে পথে এগিয়েছিল চীন ও ভিয়েতনাম—সমাজতন্ত্র পরিত্যাগ না করেও যারা অর্থনীতিতে বেসরকারি ব্যবসার ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছিল।
৬. আরও অনেক কথাই বলা যেত ফিদেলকে নিয়ে। তাঁর মতো একজন মানুষের মূল্যায়ন হওয়া দরকার। বর্তমান যুগে যে নেতারা আসছেন, তাঁদের সঙ্গে সে যুগের নেতাদের ব্যক্তিত্ব, চারিত্রিক গুণাবলির একটা তুলনামূলক আলোচনাও হওয়া জরুরি। ফিদেলের জন্মশতবার্ষিকীতে সেই ফিদেলের প্রতি শ্রদ্ধা, যিনি তাঁর দেশ ও জাতিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন।
লেখক: উপসম্পাদক আজকের পত্রিকা

অনেকেই হয়তো ভাবছেন, ঘটনাটা এক হিন্দু পরিবারের, যারা সংখ্যালঘু হিসেবে এ দেশে বসবাস করে। তারা একবারও ভাবছেন না যে এই পরিবারের পরিচয় আর দশটা পরিবারের মতোই বাংলাদেশি। যারা বাংলাদেশকে শুধু মুসলমানদের দেশ হিসেবে ভাবতে ভালোবাসে, তারা বাংলাদেশের হিন্দুধর্মাবলম্বী নাগরিকদের গণনায় আনে না, আনতে চায় না।
১ ঘণ্টা আগে
রাজনীতি, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা ইত্যাদির ব্যাপারে কিছু বলতে গেলেই এত সব ‘যদি কিন্তু’ এসে হাজির হয় যে কোনটা নিয়ে লেখা দরকার, তা বুঝতেই সময় চলে যায়। আশা ও আশাভঙ্গ নিয়ে এত কিছুবলার আছে যে হিসাব করে তার নাগাল পাওয়া দুষ্কর।
১ ঘণ্টা আগে
চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে আজকের সর্বোত্তম চিকিৎসাপদ্ধতি বছরের মধ্যে নতুন গবেষণা, নতুন ওষুধ, নতুন ডিভাইস কিংবা নতুন প্রযুক্তির কারণে পরিবর্তিত হতে পারে।
১৫ ঘণ্টা আগে
আজ ১২ রবিউল আউয়াল—পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। শত শত বছর আগে এই মহিমান্বিত দিনে মক্কার ধূসর প্রান্তরে উদিত হয়েছিল মানবতার এক পরম সূর্য। মা আমিনার কোল আলোকিত করে ধরণিতে পা রেখেছিলেন এক মহামানব, যাঁর আগমনে আরবের জরাজীর্ণ ইতিহাস ফুলে-ফলে ভরে উঠেছিল। অজ্ঞতা, বর্বরতা আর পাপাচারের তিমির রাত্রি ভেদ করে নব
২ দিন আগে