Ajker Patrika

হেগসেথ কি আরও ধনী হওয়ার জন্য ইরানিদের হত্যা করছেন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
হেগসেথ কি আরও ধনী হওয়ার জন্য ইরানিদের হত্যা করছেন
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে ঘিরে নতুন এক বিতর্ক সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে—ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার আগে তিনি শেয়ারবাজারে প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এই অভিযোগ তিনি অস্বীকার করলেও বিষয়টি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

ব্রিটিশ দৈনিক ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে হেগসেথের এক ব্রোকার বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগের চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘মর্গান স্ট্যানলি’-এর ওই ব্রোকার বিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্পদ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘ব্ল্যাকরক’-এর কাছে একটি নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ) বহু মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করেছিলেন।

এই ইটিএফ-এ অন্তর্ভুক্ত ছিল বড় প্রতিরক্ষা কোম্পানি, যেমন—আরটিএক্স, লকহিড মার্টিন, নর্থরোপ গ্রুমান এবং প্যালেনটির টেকনোলজিস। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর মার্চ মাসের শুরুতেই এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম হু হু করে বেড়ে যেতে দেখা যায়।

তবে শেষ পর্যন্ত এই বিনিয়োগটি বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ হিসেবে জানা যায়, ‘মর্গান স্ট্যানলি’-এর গ্রাহকদের জন্য সংশ্লিষ্ট ইটিএফ উন্মুক্ত ছিল না। এই লেনদেনটি না হলেও অভিযোগ উঠেছে—যদি এটি সফল হতো, তবে এটি একটি সম্ভাব্য ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’-এর উদাহরণ হতে পারত।

হেগসেথের দপ্তর পেন্টাগন অবশ্য এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র দাবি করেছেন, এই ধরনের কোনো বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং এটি জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার একটি অপচেষ্টা।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুদ্ধ চলাকালে তিনি শেয়ারবাজার খোলার আগে বিভিন্ন সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। যেমন, যুদ্ধের অগ্রগতি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়ে তিনি বাজারে পতন ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

একইভাবে, তেলের বাজারেও অস্বাভাবিক লেনদেন লক্ষ্য করা গেছে। এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের একটি ঘোষণার ঠিক আগে কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রায় ৫০ কোটি ডলারের তেল ফিউচার চুক্তি লেনদেন হয়, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। এতে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, কিছু বিনিয়োগকারী আগাম তথ্য পেয়ে লাভবান হয়েছেন।

বিশ্লেষক জন ক্যাসিডি উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধ শুরুর আগেও কিছু অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মে বড় অঙ্কের বাজি ধরা হয়েছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সম্ভাবনা নিয়ে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এতে করে অনেকেই বড় অঙ্কের মুনাফা করেছেন।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও শেয়ারবাজারে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা দেখা গেছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বিভিন্ন বার্তা দিয়েছেন, যেখানে মার্কিন অর্থনীতিকে লক্ষ্য করে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রচেষ্টাগুলো খুব বেশি কার্যকর হয়নি।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান যুদ্ধ হয়তো ইতিহাসে প্রথম বড় সংঘাত, যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি শেয়ারবাজারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘মঞ্চ’ হয়ে উঠেছে। সামরিক সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক বার্তা এবং অর্থনৈতিক লেনদেন—সবকিছুই এখন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

এই প্রেক্ষাপটে, হেগসেথের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো প্রশাসনের নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলতে পারে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে, আধুনিক যুদ্ধে শুধু অস্ত্র নয়—তথ্য এবং অর্থও সমান শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে উঠেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত

২০২৬ সালের ঈদুল আজহা কবে, যা জানা গেল

‘ওকে লাথি মেরে বের করে দিন’—নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুদ্ধে পাঠাতে বললেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী

যুদ্ধবিরতি নয়, সমাপ্তি চাই—আরাঘচির মন্তব্যে নতুন উত্তেজনা

কিশোরগঞ্জে যুবদল নেতার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত