বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে এখন বড় প্রশ্ন—এই সংঘাতে দীর্ঘ মেয়াদে কে বেশি চাপ সহ্য করতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণে ইঙ্গিত মিলছে, এই মুহূর্তে কৌশলগতভাবে ইরান এগিয়ে থাকতে পারে।
এই বিষয়ে সিএনএন-এর এক নিবন্ধে বলা হয়েছে—যুদ্ধে সরাসরি বড় ধরনের বোমা হামলার আশঙ্কা আপাতত কম থাকায় তেলের দাম বাড়ানোর মূল লক্ষ্যটি আংশিকভাবে ইরান অর্জন করছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। তবে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কোনো দুর্বলতার কথা স্বীকার করছেন না। তিনি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন—সময় তাঁর পক্ষেই রয়েছে, ইরানের নয়।
এদিকে ইরান-ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যম তাদের সম্ভাব্য নতুন লক্ষ্যবস্তুর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে থাকা সমুদ্রতলের ডাটা কেবলগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ইরান আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকেও হুমকির আওতায় এনেছে, যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রুওয়াইস রিফাইনারি এবং সৌদি আরবের আবকাইক তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র—যা বিশ্বের বৃহত্তম তেল শোধনাগারগুলোর একটি।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ইরানের তুলনায় অনেক বেশি হলেও বাস্তব পরিস্থিতি কিছুটা জটিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ইরানের নৌবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু ইরান ছোট ছোট দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালির কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি জটিল। গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, একটি সমঝোতা খুব কাছাকাছি। কিন্তু তাঁর আশাবাদী এসব মন্তব্য শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায়। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পকে সরাসরি ‘মিথ্যাবাদী’ বলে অভিহিত করেন। এরপর ইসলামাবাদে নির্ধারিত বৈঠকে ইরানের অনুপস্থিতি উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তোলে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইরান-সম্পর্কিত জাহাজের ওপর অবরোধ জোরদার করেছে এবং ৩০ টির বেশি জাহাজ আটক করেছে। অন্যদিকে ইরান সুযোগমতো অন্তত পাঁচটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গালিবাফ দাবি করেছেন, কৌশলগতভাবে ইরানই এগিয়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে ধাপে ধাপে কৌশল প্রয়োগে দক্ষ। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময়ও ইরান আলোচনার টেবিলে ধীরে ধীরে নিজেদের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ে এসেছিল। এবারও তারা একই কৌশলে প্রকাশ্যে কিছু না বলে আড়ালে নিজেদের লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তবে ট্রাম্প প্রশাসন তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। ফলে আলোচনার আড়ালে চলা কূটনৈতিক তৎপরতা আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
এই নীরব কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে সবচেয়ে জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে বৈশ্বিক বাজারে। তেলের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ অনিশ্চয়তা এবং বাণিজ্য ঝুঁকি—সব মিলিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, এই স্নায়ুযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত কে আগে চোখের পলক ফেলবে।

আধুনিক রাজনীতিতে ষড়যন্ত্রতত্ত্বকে মূলধারায় টেনে আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী আর কেউ আছেন—এমনটা বলা মুশকিল। কিন্তু ট্রাম্প ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে নিজে যে ‘দানব’ তৈরি করেছিলেন, সেটিই এখন তাঁর দিকেই ফিরে আসছে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
১ দিন আগে
ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষদিকে এবং জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে উপস্থাপিত নথিটি প্রথম দর্শনে প্রথাগত দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা বলেই মনে হয়...
২ দিন আগে
আমেরিকার রাজনীতিতে ইসরায়েল কি তার পুরোনো বন্ধু হারাল? একসময় যে ইসরায়েলকে আমেরিকানরা ‘ডেভিড’ (অল্প শক্তির বীর) এবং আরব বিশ্বকে ‘গোলিয়াথ’ (বিশাল শক্তিশালী শত্রু) হিসেবে দেখত, সেই চিত্র এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আধুনিক আমেরিকার বড় একটি অংশ এখন ইসরায়েলকে দেখে কেবল এক আগ্রাসী সামরিক শক্তি হিসেবে।
২ দিন আগে
ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার দিনটি শুরু হয়েছিল ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ইসলামাবাদে নিয়ে যেতে প্রস্তুত ছিল এয়ার ফোর্স–টু।
২ দিন আগে