
আমেরিকার রাজনীতিতে ইসরায়েল কি তার পুরোনো বন্ধু হারাল? একসময় যে ইসরায়েলকে আমেরিকানরা ‘ডেভিড’ (অল্প শক্তির বীর) এবং আরব বিশ্বকে ‘গোলিয়াথ’ (বিশাল শক্তিশালী শত্রু) হিসেবে দেখত, সেই চিত্র এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আধুনিক আমেরিকার বড় একটি অংশ এখন ইসরায়েলকে দেখে কেবল এক আগ্রাসী সামরিক শক্তি হিসেবে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ৬০ শতাংশ আমেরিকান এখন ইসরায়েলকে নেতিবাচকভাবে দেখে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসির জরিপ অনুযায়ী, এই প্রজন্মের তিন-চতুর্থাংশই ইসরায়েলের চেয়ে ফিলিস্তিনিদের বেশি সমর্থন করে।
৪০ বছরের কম বয়সী আমেরিকানদের কয়জন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আইজ্যাক রবিনকে মনে রেখেছেন? ১৯৯৫ সালে শান্তিপ্রচেষ্টার কারণে কট্টরপন্থীর হাতে রবিন নিহত হওয়ার পর ইসরায়েল যে ডানপন্থী মোড় নিয়েছিল, তারই ফসল বর্তমানের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুগ। রবিন শান্তির জন্য জীবন দিয়েছিলেন, কিন্তু উত্তরসূরি হিসেবে নেতানিয়াহুর ইতিহাস কী বলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ইসরায়েলের সম্পর্কে ফাটল ধরার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ বন্ধ করার জন্য ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে মরিয়া। অথচ সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা ২০১৫ সালের চুক্তির ঘোর বিরোধী ছিলেন নেতানিয়াহু এবং ২০১৮ সালে ট্রাম্পকে সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে প্ররোচিত করেছিলেন তিনি। এখন ট্রাম্প যদি নতুন কোনো চুক্তি করেন, তবে ইসরায়েল নিশ্চিতভাবেই তার বিরোধিতা করবে।
এ ছাড়া অনেক মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মন্ত্রী মার্কো রুবিও, জেডি ভ্যান্স এবং জন র্যাটক্লিফ এই যুদ্ধ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করলেও নেতানিয়াহুর চাপেই ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা শুরু করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে। গত সপ্তাহে ৪৭ জন ডেমোক্র্যাট সিনেটরের মধ্যে ৪০ জনই ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এমনকি প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবি আইপ্যাকের কাছ থেকে টাকা না নেওয়ার অঙ্গীকার করছেন অনেক ডেমোক্র্যাট।
শিকাগোর সাবেক মেয়র রাম ইমানুয়েল তো ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক ৩৮০ কোটি ডলারের অনুদান বন্ধের ডাক দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইসরায়েল প্রয়োজনে বাজারমূল্যে অস্ত্র কিনুক, কিন্তু যুদ্ধের নিয়ম ভাঙলে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। এমনকি আয়রন ডোমের মতো প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন ডেমোক্র্যাটরা।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে রাম ইমানুয়েলের পুরোনো বিরোধ এই পরিস্থিতির এক জ্বলন্ত উদাহরণ। ২০০৯ সালে রাম ইমানুয়েল যখন ওবামার চিফ অব স্টাফ ছিলেন, তখন বসতি স্থাপনের বিরোধিতা করায় নেতানিয়াহু তাঁকে ‘আত্মবিদ্বেষী ইহুদি’ বলে গালি দিয়েছিলেন। ইসরায়েলপন্থীদের একটি বড় কৌশল হলো, যাঁরাই ইসরায়েলের স্বার্থের বাইরে আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ নিয়ে কথা বলেন; তাঁদের ওপর ‘অ্যান্টিসেমিটিক’ বা ইহুদিবিদ্বেষীর তকমা লাগিয়ে দেওয়া। কৌশলটি এখন বুমেরাং হয়ে উঠছে এবং আমেরিকানদের মধ্যে বিরক্তি বাড়াচ্ছে।
ইরানের কাছে বর্তমানে ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আছে, যা দিয়ে ১০টি পারমাণবিক বোমা বানানো সম্ভব। ট্রাম্প চাইছেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দীর্ঘ মেয়াদে স্থগিত করতে। কিন্তু এই চুক্তিতে যদি ইরানের মিসাইল প্রোগ্রাম বা আঞ্চলিক প্রভাব কমানোর শর্ত না থাকে, তবে নেতানিয়াহু তা ঘৃণা করবেন।
এদিকে ট্রাম্পও চাইবেন না তাঁর দেশের সৈন্যদের ইরানের মাটিতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির মুখে ফেলতে। ফলে ট্রাম্প-পরবর্তী সময়ে আমেরিকার নেতৃত্বে যে-ই আসুক, তারা যে ইসরায়েলের প্রতি আগের মতো বন্ধুসুলভ হবে না, তা মোটামুটি নিশ্চিত।
তথ্যসূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে এখন বড় প্রশ্ন—এই সংঘাতে দীর্ঘ মেয়াদে কে বেশি চাপ সহ্য করতে পারবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণে ইঙ্গিত মিলছে, এই মুহূর্তে কৌশলগতভাবে ইরান এগিয়ে থাকতে পারে।
৩ ঘণ্টা আগে
আধুনিক রাজনীতিতে ষড়যন্ত্রতত্ত্বকে মূলধারায় টেনে আনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী আর কেউ আছেন—এমনটা বলা মুশকিল। কিন্তু ট্রাম্প ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে নিজে যে ‘দানব’ তৈরি করেছিলেন, সেটিই এখন তাঁর দিকেই ফিরে আসছে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
১ দিন আগে
ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষদিকে এবং জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে উপস্থাপিত নথিটি প্রথম দর্শনে প্রথাগত দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা বলেই মনে হয়...
২ দিন আগে
ওয়াশিংটনে স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার দিনটি শুরু হয়েছিল ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ইসলামাবাদে নিয়ে যেতে প্রস্তুত ছিল এয়ার ফোর্স–টু।
২ দিন আগে