
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা এলো। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পুনরায় ‘ভর্তি পরীক্ষা’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে মেধার মূল্যায়ন আবশ্যক। লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে না। আমরা চাই প্রতিটি শিক্ষার্থী তার যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাক।’
ভর্তি পরীক্ষার কাঠিন্য ও শিশুদের ওপর মানসিক চাপের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রথম শ্রেণির পরীক্ষা হবে খুবই প্রাথমিক ও সহজতর। আমরা শিশুদের নিউরোসার্জন বানাতে ভর্তি নিচ্ছি না; বরং তাদের স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তি যাচাই করতে চাই। আমার মতে, লটারি পদ্ধতি মেধার অবমূল্যায়ন করে।’ মন্ত্রী আরও দাবি করেন, যেহেতু পরীক্ষা হবে অত্যন্ত সাধারণ মানের, তাই এতে কোচিং বাণিজ্য বা বিশেষ তদবিরের কোনো সুযোগ থাকবে না।
বিতর্কের কেন্দ্রে ভর্তি বাণিজ্য ও বৈষম্য
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরপরই শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের প্রধান ভয়ের জায়গা হলো ‘ভর্তি বাণিজ্য’ ও ‘কোচিং প্রথা’।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ মনে করেন, এই পদ্ধতিটি চরম বৈষম্যমূলক। তিনি বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষা মানেই হলো অসম প্রতিযোগিতা। যে শিশুটির পরিবার সচ্ছল এবং তাকে ভালো কোচিং সেন্টারে পাঠাতে পারছে, সে পরীক্ষায় এগিয়ে থাকবে। অন্যদিকে, গ্রামীণ বা নিম্নবিত্ত পরিবারের শিশুরা মেধা থাকা সত্ত্বেও প্রস্তুতির অভাবে ছিটকে পড়বে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বলেন, ‘প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া উচিত নয়। বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত দেশে শিশুদের কোনো পরীক্ষা ছাড়াই এলাকায় নিকটস্থ স্কুলে ভর্তি করা হয়। ভর্তি পরীক্ষা শিশুদের শৈশবকে ট্রমার মধ্যে ফেলে দেবে এবং তাদের ওপর অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতার বোঝা চাপিয়ে দেবে।’
কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ ও বিকল্প প্রস্তাব
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাঠ্যবই সংশোধন কমিটির অন্যতম সমন্বয়ক সাজ্জাদুর রহমান (রাখাল রাহা) এক ভিন্নধর্মী বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, লটারি পদ্ধতি যেমন ত্রুটিপূর্ণ ছিল, হঠাৎ করে পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করাও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাঁর মতে, ভর্তি পরীক্ষা সফল করতে হলে প্রথমে স্কুলগুলোর মানের ব্যবধান কমিয়ে আনতে হবে। তিনি প্রস্তাব করেন:
১. শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত কমানো এবং যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা।
২. বিদ্যালয়গুলোর সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষার পরিবেশের ভিত্তিতে ‘গ্রেডিং’ করা।
৩. বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ বা ম্যানেজিং কমিটিতে টাউট-বাটপারদের বদলে প্রকৃত শিক্ষানুরাগী অভিভাবকদের প্রাধান্য দেওয়া।
লটারি বাতিলের সমর্থনও আছে
তবে লটারি বাতিলের সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে যারা মনে করেন লটারির ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীরা নামকরা স্কুলে পড়ার সুযোগ হারাচ্ছিল। বিশ্লেষক শাফকাত রাব্বী অনিক মনে করেন, বুয়েট, ক্যাডেট কলেজ বা মেডিকেল কলেজের সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর ভর্তি পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষা ফিরিয়ে আনলে স্কুলগুলোর মধ্যেও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ফিরবে এবং শিক্ষার মান বাড়বে। তারা সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপকে ‘শতভাগ সাপোর্ট’ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ভর্তি পরীক্ষার নজরদারি ও জনবল সংকট
আরেকটি বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো সারা দেশে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। আর দেশে সর্বমোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজারের বেশি। এতগুলো সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া এবং তার স্বচ্ছতা বজায় রাখা। সমালোচকেরা বলছেন, এত বিশাল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা তদারকি করার মতো পর্যাপ্ত জনবল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেই। ফলে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বা স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠেয় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাটি আর বাধ্যতামূলক নয়। এটি হবে সম্পূর্ণ ‘ঐচ্ছিক’। যে শিক্ষার্থী তার মেধা যাচাই করতে আগ্রহী, সে কেবল এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। ২০২৫ সালে আইনি জটিলতায় পরীক্ষা নেওয়া না গেলেও ২০২৬ থেকে এটি নিয়মিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কোন দিকে নিয়ে যায়—তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। একদিকে মেধার জয়গান, অন্যদিকে বৈষম্যের ভয়; এই দুই মেরুর মাঝেই দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের কয়েক কোটি শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।

বিশ শতকের বিজয়ী ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর দেশটি শুধু অতুলনীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তির অধিকারীই হয়নি, বরং সাংবিধানিক সরকারব্যবস্থা ও স্বাধীনতার মতো বহু কাঙ্ক্ষিত মূল্যবোধেরও প্রতীক হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই অবস্থান স্থায়ী হয়নি।
১ দিন আগে
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ঘোষণার পর ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং এ বছরের নির্বাচনে আবারও ক্ষমতায় ফেরার প্রত্যাশী নাফতালি বেনেত বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক চুক্তি ঘোষণার পর তিনি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এমন একটি...
১ দিন আগে
একসময় প্রযুক্তি খাতের চাকরিতে টিকে থাকতে মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের বলা হতো, ‘কোডিং শিখুন।’ কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুগে সেই সমীকরণ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এখন বিশ্বের বড় বড় এআই গবেষণাগার ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো দার্শনিকদের খুঁজছে।
২ দিন আগে
সপ্তাহ দুয়েক আগে বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্কের নেতৃত্বাধীন স্পেসএক্স তাদের শেয়ারের একটি অংশ নাসডাকে তালিকাভুক্ত করেছে। কোম্পানিটির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হচ্ছে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের উপরে। এটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও বা প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার ঘটনা।
২ দিন আগে