কয়েক দিন আগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি তাদের ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, তারা গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেবে। সেই তথ্য দেখে সহকর্মী বাপ্পি বলছিলেন, ‘ভাই, তাহলে তো ফাহিরও টাকা পাবে।’ কথাটা শোনার পর অনেকক্ষণ তাকিয়ে ছিলাম ফাহিরের ডেস্কের জন্য আনা প্লাস্টিকের একটি ফুলের দিকে। এখন ফাহির শুধু একটি নাম।
ফাহির, যার কেতাবি নাম মো. ফখরুল ইসলাম ভূঁইয়া। ঠিক এক বছর আগে তিনি ছুটি নিয়েছেন। এখনো ছুটিতে আছেন। আর থাকবেনও। যেদিন ফাহির চিরদিনের জন্য ছুটি নিলেন, সেদিনটা ছিল শনিবার (১১ ডিসেম্বর, ২০২১)। শনিবার আমার সাপ্তাহিক ছুটি। তাই তাঁর ছুটি নেওয়ার দিন আমার সঙ্গে দেখা হয়নি। তবে কথা হয়েছিল অনেকবার।
যেহেতু ফাহিরের সঙ্গে আমার চেনাজানার বয়স ৯ মাস, সেহেতু অনেকটা স্মৃতি জমে আছে। ফাহির উদ্যোক্তা হতে চাইতেন। কখনো ভাবতেন একটা ছোট্ট জুসের দোকান দেবেন, কখনো আবার পিৎজা। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় যেখানেই দোকান ভাড়ার ‘টু-লেট’ দেখতেন, সেখানেই উঁকি দিতেন। জিজ্ঞেস করে খোঁজ-খবর নিতেন। হয়তো বেঁচে থাকলে এতদিনে একটা জুস বা পিৎজা বা কফিশপ হয়ে যেত ফাহিরের।
ফাহিরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বন্ধুর মতো হলেও একে অপরকে আপনি বলে সম্বোধন করতাম। আমি যদি কোনো কারণে রাগতাম, তখন বলে উঠতেন, আরেহ পাগলা…। তবে সহকর্মী হিসেবে সম্মানের জায়গাটা আলাদাভাবেই ছিল। ফাহির বিনয়ী ছিলেন। যে কারও সমস্যায় এগিয়ে আসতেন। অন্যের সমস্যা নিজের ওপর নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করতেন। তবে শিশুদের মতো অভিমানীও ছিলেন ফাহির।
একদিনের ঘটনা মনে পড়ছে। ফাহিরের তখন বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছে। ২০২২ সালের জানুয়ারির ৭ তারিখ তাঁর বিয়ে। ফাহিরের মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তেজগাঁওয়ে একটা টং দোকানে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিলাম আমরা। সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল। ফাহির বলছিলেন, ‘ওয়াদুদ ভাই, আমার বিয়ে হয়তো শুক্রবার হবে। অফিসের সবাই তো যেতে পারবে না। আপনাকে আর সুপ্রিয় ভাইকে কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে যেতে হবে। নেলসন ভাইকে আগে থেকেই বলে রাখবেন।’
বলেছিলাম, ‘দেখি।’ কিন্তু ফাহিরের অভিমান তা মানবে কেন? বলে উঠেছিলেন, ‘আপনাদের কোনো কথা আমি ফেলি না। আপনারা না গেলে আর কিছু শুনব না।’

এমনই ছিলেন ফাহির। মাথা হুটহাট গরম করতেন। কিন্তু একবার যদি তাঁর দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ সুরে ডাক দিতাম, ‘ফাহিইইর...’, তবেই চুপচাপ। অনেকটা শিশুর মতো। যে কিনা শাসনও বোঝে, আবার স্নেহও।
ফাহিরের চলে যাওয়ার এক বছর হয়ে গেল। এই এক বছরে পৃথিবী অনেক বদলে গেছে, বদলে গেছি আমি, আমরা। আর হ্যাঁ, ফাহির আপনাকে বলা হয়নি, আমাদের পদোন্নতি হয়েছে, যেটার অপেক্ষায় আপনিও ছিলেন। কত কিছুই তো ভাবতেন, কত কিছু পরিকল্পনা করতেন। আপনি ছুটি না নিলে আপনারও পদোন্নতি হয়ে যেত আর আপনার যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটাও কিছুটা হলেও পূরণ হতো।
ফাহির জানেন, আপনার ডেস্কে যে প্লাস্টিকের ফুল ছিল, সেটা আমি এখনো যত্ন করে রেখে দিয়েছি। আমার ডেস্কে আপনার ওই একটা স্মৃতিই আছে। মাঝে মাঝে মনে পড়লে আপন মনে দেখি, আপনার কর্মকাণ্ডের কথা ভাবি। প্লাস্টিকের ফুল তো, শুকাবে না কখনো। মাঝে মাঝে ছবিও তুলে দেব। ঠিকানাটা দিয়েন ফাহির, পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা থাকবে।
হয়তো ভালো আছেন। ভালো থাকবেন, ফাহির।

শত শত বছর আগে আরবের মরুভূমিতে ঘুরে বেড়ানো বেদুইনদের কাছে আধুনিক উপায়ে খাবার সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তারা যখন শিকার করত বা পশু জবাই করত, তখন এগুলোর মাংস যেন নষ্ট না হয়ে দীর্ঘদিন ভালো থাকে ও সহজে বহন করা যায়, সেজন্য মাটির নিচে মাংস রান্নার এক পদ্ধতি আবিষ্কার করে তারা।
৬ ঘণ্টা আগে
এস্তোনিয়ায় রাই বা কালো রুটি সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার। সে দেশের নাগরিকেরা প্রতিদিন খাবারের তালিকায় রাখে এটি। এই রুটির নাম লেইব। এটি মূলত কালো রাই আটা, পানি, লবণ ও টক খামির দিয়ে তৈরি হয়। ঘনত্ব বাড়াতে অনেক সময় এতে বীজ বা ওটস মেশানো হয়। খামিরটি দীর্ঘ সময় ধরে, প্রায় ১৮ থেকে ২৪ ঘণ্টা গাঁজানো হয়।
১ দিন আগে
অনেকে গরম-গরম স্যুপ ও নুডলস খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু উত্তর কোরিয়াবাসীর কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার ঠান্ডা নুডলস। তাঁদের এই ঠান্ডা নুডলসের নাম পিয়ংইয়ং ন্যাংমাইয়ন। বাকহুইট বা ঢেমশির আটা থেকে তৈরি লম্বা লম্বা সেদ্ধ নুডলস ছেড়ে দেওয়া হয় হালকা স্বাদের ঠান্ডা গরু বা শূকরের মাংসের ঝোল এবং মুলার...
৮ দিন আগে
কবিতা আমাকে ‘হেলাল হাফিজ’ বানিয়েছে। একটা পরিচিতি পেয়েছি। কিন্তু আমার সব সময়ই মনে হয়, সে তুলনায় আমি কিছুই দিতে পারিনি। মাত্র দুটি বই। ভাবো একবার। মাঝেমধ্যে মনে হয় আমি অন্যায় করেছি, নিজের সঙ্গে, পাঠকের সঙ্গে। মাথায় কত কিছু আসছে, কিন্তু লিখতে সাহস হয়নি।
১৪ দিন আগে