Ajker Patrika

কাঠিনৃত্য

সম্পাদকীয়
কাঠিনৃত্য

অনেকের মতে, প্রাচীন রাজা বা জমিদারের লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে কাঠিনাচের সূত্রপাত। পরবর্তীকালে ভূমিজ সম্প্রদায়ের মানুষ এটিকে গ্রহণ করে এবং নিজস্ব রূপ দেয়। এটি মূলত একটি দলগত পরিবেশনা, যেখানে শিল্পীরা হাতে দুটি ছোট কাঠি নিয়ে ছন্দে ছন্দে তালে তাল মিলিয়ে নাচেন। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে এই নৃত্যের প্রচলন দেখা যায়। গুজরাটে প্রচলিত ‘ডান্ডিয়া’ নাচের সঙ্গে কিছুটা সাদৃশ্য লক্ষ করা গেলেও কাঠিনৃত্যের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। সিলেট অঞ্চলের চা-শ্রমিকদের মধ্যে নাচটির প্রচলন দেখা যায়। দোল বা ফাগুয়া উৎসবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গানের দল এই নৃত্য পরিবেশন করে থাকে। নৃত্যশিল্পীদের মধ্যে একজনকে রাধা ও একজনকে কৃষ্ণ সাজানো হয়। প্রত্যেকের হাতে থাকে একটি করে আবির রাঙানো কাঠি। জোড়ায় জোড়ায় একে অপরের কাঠিতে ঠোকা দিয়ে নৃত্য করেন তাঁরা। মাদল, করতাল, বাঁশি আর কাঠির ধ্বনিতে যেন নেচে ওঠে চা-জনগোষ্ঠীর আদি-আঙিনা। শ্রীকৃষ্ণ ও রাধাকে কেন্দ্র করে গাওয়া গানগুলোর সঙ্গে পরিবেশিত হয় এই লোকনৃত্যটি। গানের মাঝে মাঝে ‘হো হো হোই’ ধ্বনি নৃত্যশিল্পীদের উৎসাহ জোগায়। এটিকে ‘কাঠিনাচের হেস-হেসানি’ বলা হয়।

লেখা ও ছবি: শিশির কুমার নাথ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত