বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করার অপরাধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্রলীগ নেতাসহ ১১ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে তাদেরকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি।
এর মধ্যে ১ জনকে স্থায়ীভাবে ও বাকি ১০ জনকে সাময়িক বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সভায় বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হলের আবাসিকতা বাতিল ও সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন শৃঙ্খলা কমিটির একাধিক সদস্য।
সভা সূত্রে জানা গেছে, স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর নাম—আশিকুল্লাহ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
সাময়িক বহিষ্কারের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত চার ছাত্রলীগ নেতা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সহ-সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম শান্ত, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সোলাইমান এবং আইবিএ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সিনহা।
এ ছাড়া ২০২১-২২ সালের ভর্তি জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ইয়াসির আরাফাত, নজরুল, মাহিন, শাফিউল্লাহ, আলিফ ও শিশিরকে সাময়িক বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলা চলমান রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অপরাধের শাস্তির বিষয়টি নির্ধারিত হয় শৃঙ্খলা কমিটির সভায়। প্রতি বছর অন্তত দুইবার এই কমিটির সভা হওয়ার কথা। পদমর্যাদা অনুযায়ী শৃঙ্খলা কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন উপাচার্য এবং সদস্যসচিবের দায়িত্বে থাকেন প্রক্টর। তবে গত ১৪ বছরে সভা হয়েছে মাত্র দুটি। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শৃঙ্খলা কমিটির একাধিক সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে চলতি বছরের গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কৃষ্ণ রায়কে মারধর ও ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে হত্যার হুমকির ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ছাত্রলীগ নেতা নাঈম ও সোলাইমানের ছাত্রত্ব সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শৃঙ্খলা কমিটি। সেই সঙ্গে অনাবাসিক শিক্ষার্থী হওয়ায় তাদেরকে দ্রুত হল থেকে অপসারণ করার সুপারিশ করা হয়।
২০২২ সালের জুনে আইন বিভাগের এক শিক্ষিকার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে একই বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আশিকুল্লাহের বিরুদ্ধে। সে সময় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে সেই অভিযোগেই তাঁকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
একই বছরে ১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় আইবিএ ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সিনহাকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হাসিবুল ইসলাম শান্তকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা কমিটি।
এ ছাড়াও বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকজনকে সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর আজকে শৃঙ্খলা কমিটির সভা হয়েছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কারও আবাসিকতা বাতিল, সাময়িক ছাত্রত্ব বাতিল ও সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে। আগামী সিন্ডিকেট সভায় বিষয়গুলো উত্থাপন করা হবে। তারপর বিস্তারিত জানানো হবে।’

চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ২১ সদস্যকে আটক করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের হাসান আলী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, লেকেরপাড়, স্টেডিয়াম রোড, মাদ্রাসা রোড, পৌর পার্ক, কবরস্থান রোড, প্রেসক্লাব রোডসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
১০ মিনিট আগে
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর বিছানায় খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্কে দিন কাটছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের। এই চিত্র কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ডের। গত শনিবার হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার শিশু ওয়ার্ডে হঠাৎ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে।
৬ ঘণ্টা আগে
রাজধানী ঢাকায় গত এক বছরে আলোচিত সব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে ভাড়াটে খুনি। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নির্দেশদাতারা নেপথ্যে থেকে টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে শুটার দিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এসব মামলার তদন্তে নেমে রাজধানীতে সক্রিয় ৪০১ জন ভাড়াটে শুটার বা খুনিকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাদের তালিকাও করেছে পুলিশ।
৬ ঘণ্টা আগে
সুনামগঞ্জের হাওর রক্ষা বাঁধে মাটির কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি। অথচ এখনো অনেক বাঁধে মাটি ফেলা হচ্ছে। একাধিক হাওর ঘুরে কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে—এমন বাঁধ খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাউবো ৭২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে দাবি করলেও হাওর আন্দোলনের নেতারা বলছেন, বাস্তবে অর্ধেক কাজও হয়নি।
৭ ঘণ্টা আগে