রোববার, ১৯ মে ২০২৪

সেকশন

 

বালু উত্তোলনে বাঁধের সর্বনাশ

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৫:৩৫

বালু উত্তোলনে বাঁধের সর্বনাশ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন খোলপেটুয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছেই। নদী থেকে এভাবে বালু তোলায় উপকূল রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে সখ্য গড়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বালু তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নদীর গভীর থেকে বালু উত্তোলনের কারণে সম্প্রতি দুর্গাবাটি এলাকার উপকূল রক্ষা বাঁধের কিছু অংশ ধসে যায় এবং তা মেরামত করা হয়। এভাবে এক-দুই মাস পর পরই বাঁধের কোথাও না কোথাও ভাঙার খবর আসে। পরে তা মেরামতও করা হয়।

গত বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউনিয়নের মধ্যভাগ দিয়ে প্রবাহিত খোলপেটুয়া নদীর মাঝ বরাবর বিশালাকারের কার্গো নোঙর করা রয়েছে। কার্গোতে স্থাপন করা ড্রেজার মেশিনের সহায়তায় নদীর তলদেশ থেকে খনন করে বালু উত্তোলনের পর তা একই কার্গোযোগে বুড়িগোয়ালিনীর মাসুদ মোড় এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ সময় লম্বা পাইপের সহায়তায় কার্গোভর্তি বালু স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা আকরাম হাজীর বালুর গাদা ও জাপান ফাস্ট ট্রেডের ক্রয় করা জমিতে ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ভাঙনকবলিত ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হলেও খোলপেটুয়া নদী থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। কালিকাপুরের হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৮-৯ জন শ্রমিক প্রকাশ্যে খোলপেটুয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন এবং পরে অবৈধভাবে সংগৃহীত বালু গাদায় নিয়ে বিক্রি করলেও কেউ কিছু বলছে না। এদিকে বারবার ভাঙনের মুখে পড়া উপকূল রক্ষা বাঁধ দিনে দিনে স্থানীয়দের আতঙ্কে পরিণত হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।

দাতিনাখালীর আব্দুল আজিজ ও গাবুরার চকবারা গ্রামের আব্দুস সালামসহ কয়েকজন জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতিবছর তাদের এলাকায় নদীভাঙন হচ্ছে। এই 
অবস্থায় ভাঙনপ্রবণ এলাকার নদী থেকে নতুন করে আবার বালু উত্তোলনের ঘটনায় চর দেবে যাওয়াসহ বাঁধ ভাঙনের আতঙ্কে ভুগছে উপকূল পাড়ের বাসিন্দারা।

পোড়াকাটলা গ্রামের পরীক্ষিত মণ্ডলসহ স্থানীয়রা জানায়, খোলপেটুয়া নদী থেকে বালু উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কর্তৃপক্ষের নীরবতার সুযোগে প্রায় প্রতিদিন প্রভাবশালীরা চৌদ্দরশি এলাকায় খোলপেটুয়ার বুক থেকে বালু উত্তোলন করছে। হাবিবুর রহমান ও তাঁর লোকজন বালু উত্তোলনের পর আকরাম হাজী নামের বালুগাদা মালিক সেই বালু বিক্রি করছে বলেও তিনি জানান।

বালুগাদার মালিক ব্যবসায়ী আকরাম হোসেন হাজী জানান, তিনি টাকার বিনিময়ে উত্তোলনকারীদের থেকে বালু কিনছেন। সরবরাহকারীরা কোথা থেকে বালু সংগ্রহ করছে সেটা তাঁর জানার বিষয় না। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ নজরুল ইসলাম জানান, গোটা এলাকা খুবই ভাঙনকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। বালু উত্তোলনে এসব এলাকা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

বালু উত্তোলনের নেতৃত্বে থাকা হাবিবুর রহমান জানান, শ্যামনগরের কয়েকজন ওই এলাকা নির্দিষ্ট করে দিয়ে তাঁকে বালু উত্তোলনের কাজ দিয়েছেন। বিনিময়ে প্রতি ফুট বালুতে সাড়ে তিন থেকে চার টাকা পাচ্ছেন দাবি করলেও কার্গো ও সরঞ্জামাদির মালিক হাবিবুর রহমান তাঁকে বালু উত্তোলনের কাজ দেওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জানাতে অস্বীকৃতি জানান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী আরিফুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউএনওকে বিষয়টি আমি দেখার জন্য বলছি।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    বাড়তি ভাড়ার খড়্গ আম রপ্তানিতে

    সাক্ষাৎকার

    ট্রলকে কখনোই পাত্তা দিই না, আমার যোগ্যতা আমি জানি

    উপাচার্য-শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা

    মুজিবনগর সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গি

    ইউরোপে অভিবাসন: কপাল পুড়ছে বাংলাদেশিদের

    বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের অনেক চ্যালেঞ্জ

    ৭২ লাখ টাকা জরিমানা দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ছাড়ল বিদেশি জাহাজ

    শরীয়তপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ওপর হামলা, আহত ১০ 

    মাকে হত্যার আসামি হওয়ার পর জানলেন তিনি আসলে পালিত কন্যা

    চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

    কিরগিজস্তানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নেপথ্যে

    ইরানে দুই নারীসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, ফাঁসিতে ঝুলতে পারে আরেক ইহুদি