মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪

সেকশন

 

ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের শরীরে কলেরার জীবাণু

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২২, ১৩:৩৮

চট্টগ্রামের বিআইটিআইডি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত কয়েকজন শিশু। ছবি: আজকের পত্রিকা দুই মাসের মাথায় চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা, ইপিজেড এলাকায় আবারও ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। গত সোমবার থেকে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ওই এলাকার কমপক্ষে আড়াই শ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের শরীরে কলেরার জীবাণু পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মামুনুর রশিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ডায়রিয়া নয়, কলেরা। আমরা হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করে তাতে ভিব্রিও কলেরার জীবাণু পেয়েছি। আজ ঢাকা থেকে রোগতত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে একটি দল চট্টগ্রাম আসছে। তারা সরেজমিন গিয়ে পর্যবেক্ষণ করবে। তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কলেরার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে আমরা কয়েকজনের নমুনা পরীক্ষা করেছি। ওই সব নমুনার মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি নমুনায় কলেরার জীবাণু পেয়েছি।’

বিআইটিআইডি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত চার দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ওই এলাকার অন্তত ২১১ জন বিআইটিআইডিতে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম দিন সোমবার বিআইটিআইডিতে ৬৯ রোগী ভর্তি হয়। এরপর দিন মঙ্গলবার ৫৭ জন, বুধবার ৪৫ জন এবং বৃহস্পতিবার ৪০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শুক্রবার কতজন ভর্তি হয়েছেন সেটি শনিবার সকালে জানা যাবে। ডা. মামুনুর রশিদ বলেছেন, ‘শুক্রবার সকালে নিয়মিত রাউন্ড আপে গিয়ে দেখেছি, ওয়ার্ডের ভেতরে বেডে রোগী ছিল ৬৫ জন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৭০ শতাংশের মতো রোগী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছেন।’

অনেক দিন ধরে পতেঙ্গা এলাকায় সুপেয় পানির অপর্যাপ্ততা রয়েছে। সমুদ্রঘেঁষা হওয়ায় পানিতে লবণাক্ততা বেশি। পাশাপাশি নিচু এলাকা হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই ওই সব এলাকায় জোয়ারের পানি ওঠে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বন্দরটিলা, ইপিজেড, পতেঙ্গা এলাকার সমুদ্র তীরবর্তী যেসব এলাকায় জোয়ারের সময় পানি ওঠে, মূলত সেসব এলাকার মানুষই গণহারে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

দুই মাস আগেও ওই এলাকার বাসিন্দারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। দুই মাসের মাথায় এখন আবার কেন ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। সেটি নিয়ে সিভিল সার্জন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। ডায়রিয়ার কারণ খতিয়ে দেখতে শুক্রবার বিকেলে আইইডিসিআর থেকে একটি টিম চট্টগ্রাম এসেছে। বিআইটিআইডির সহযোগিতায় তারা কলেরার কারণ খতিয়ে দেখবে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী বলেন, বিআইটিআইডি হাসপাতালে যেসব রোগী ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য যা যা লাগে, সেসবের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। ডায়রিয়ায় কেন আক্রান্ত হচ্ছে, সেটি বের করার চেষ্টা চলছে। আজ আইইডিসিআর থেকে একটি টিম আসছে, তারা এটি খতিয়ে দেখবে।’

সিভিল সার্জন আরও বলেন, ‘ডায়রিয়া ও কলেরা যেহেতু পানিবাহিত রোগ। তাই প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, পানি সংক্রান্ত দূষণ থেকে ওই এলাকার লোকজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। খাবার থেকেও কলেরার জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    লিফট ও এসি দেখতে বিদেশ যাচ্ছেন আমলারা

    সমৃদ্ধ হচ্ছে রঙিন মাছের অর্থনীতি

    নজরুলসংগীত নিয়ে ভারত ও কানাডা যাচ্ছেন ফেরদৌস আরা

    মানুষ বড় কাঁদছে

    কানে গিয়ে নতুন সিনেমায় ভাবনা

    প্রশান্তির জন্য মেডিটেশন

    লিফট ও এসি দেখতে বিদেশ যাচ্ছেন আমলারা

    সমৃদ্ধ হচ্ছে রঙিন মাছের অর্থনীতি

    নজরুলসংগীত নিয়ে ভারত ও কানাডা যাচ্ছেন ফেরদৌস আরা

    মানুষ বড় কাঁদছে

    কানে গিয়ে নতুন সিনেমায় ভাবনা

    প্রশান্তির জন্য মেডিটেশন