বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

সেকশন

 

সারের জন্য কৃষকের হাহাকার

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২২, ১২:৩৫

সারের জন্য কৃষকের হাহাকার বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে দোকানে দোকানে ঘুরে ইউরিয়া সার না পেয়ে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন তাঁদের দোকানে ইউরিয়া সার নেই। ডিলাররা বলছেন, বরাদ্দ পাওয়া সার দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলছেন, উপজেলায় সারের সংকট নেই। এদিকে, শিবগঞ্জে সার পাওয়া গেলেও তা কিনতে হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। এতে নাভিশ্বাস উঠেছে কৃষকদের।

গত কয়েক দিন ধরে সারসংকট দেখা গেছে সারিয়াকান্দিতে। উপজেলার হাসনাপাড়া, নিজবলাইল, নারচী, হাটফুলবাড়ী, রামচন্দ্রপুর, ছাগলধরা, জোড়গাছা, কড়িতলা, কুতুবপুর, মথুরাপাড়া, শাহজালাল, শোনপঁচাসহ কয়েকটি বাজারে রয়েছে শতাধিক খুচরা বিক্রেতাদের সারের দোকান। এসব দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে কোথাও ইউরিয়া সার নেই।

গত কয়েকদিন ধরে সারসংকট চলছে সারিয়াকান্দিতে। শিবগঞ্জে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে সার। নির্ধারিত ডিলারদের থেকে কৃষকদের সার কেনার পরামর্শ।

সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউপির ইন্দুরমারা চরের কৃষক রিপন মিয়া বলেন, ‘আমি প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে আউশ ধানের কাতার ছিটিয়েছি। জমিতে এখন ইউরিয়া সার দেওয়া খুবই প্রয়োজন। কয়েক দিন ধরে দোকানে দোকানে ঘুরছি কোনো সার পাচ্ছি না।’

উপজেলার কুতুবপুর ইউপির কৃষক রাজু মিয়া বলেন, ‘এবার ১ মণ ধান উৎপাদন করতে অনেক খরচ হবে। একদিকে চড়া দামে কিষাণদের মজুরি পরিশোধ করতে হচ্ছে, অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির জন্য শতকরা ২৫ আঁটি ধান শ্যালো মেশিনচালকদের দিতে হবে। এখন আবার ইউরিয়া সার পাওয়া যাচ্ছে না। ফসল নিয়ে খুবই চিন্তায় আছি।’

উপজেলার হাসনাপাড়া বাজারের খুচরা সার বিক্রেতা জুয়েল মিয়া বলেন, ‘বেশ কয়েকবার উপজেলার ডিলারের কাছে সার ক্রয় করতে গিয়েছিলাম। কোনো ইউরিয়া সার পাইনি। কৃষকেরা সার কিনতে এসে ফেরত যাচ্ছেন।’

এ বিষয়ে উপজেলার সার ডিলার শফিকুল ইসলাম জানান, এক মাসে যে সার বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল তা দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। তবে অচিরেই সার চলে আসবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। দাম সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকেরা মনে করছেন সার আর পাওয়া যাবে না। তাই তাঁরা একবারে বেশি করে সার কিনেছেন। তবে কয়েকদিনের মধ্যেই সার পাওয়া যাবে।

এদিকে, বগুড়ার শিবগঞ্জে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে সার। পটাশ ও ইউরিয়াসহ প্রায় সব ধরনের সারই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।

উপজেলার কিচক, দেউলী মোকামতলা, রায়নগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকার দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব এলাকায় প্রতি ৫০ কেজি বস্তা পটাশ (এমওপি) সার বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার টাকায়। যেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্য ৭৫০ টাকা। এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ১০০ টাকা বস্তার টিএসপি ১ হাজার ৮০০ ও ৮০০ টাকা বস্তার ডিএপি সার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ টাকায়।

উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের পাকুড়তলা বন্দরের কীটনাশক ব্যবসায়ী ও খুচরা সার বিক্রেতা মিনহাজ বলেন, ‘আমি মোকামতলা বন্দরের মামুন ট্রেডার্সে পাইকারি দামে পটাশ কিনতে গেলে তাঁরা বলেন পটাশ নেই। তবে বেশি টাকা দিলে ব্যবস্থা করা যাবে। তখন বাধ্য হয়ে দেড় হাজার টাকা বস্তা পটাশ সার কিনেছি।’

তবে মোকামতলা বন্দরের মামুন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মামুন হোসেন বলেন, ‘আমার দোকানে পটাশ সার নেই। আমি পটাশ বিক্রি করিনি।’

মোকামতলা ইউনিয়নের সার ডিলার ও মোকামতলা ফারুক ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান রায়হান বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করছি। আমাদের কাছে পটাশ সারের ঘাটতি নেই।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মুজাহিদ সরকার বলেন, ‘উপজেলায় বর্তমানে পটাশ সার পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত আছে। খুচরা বিক্রেতারা বাইরের ডিলারদের থেকে সার কিনে হয়তো চড়া দামে বিক্রি করছেন। সেজন্য আমরা ডিলারের কাছ থেকে সার কিনতে কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে থাকি। নির্ধারিত ডিলার যদি সারের দাম বেশি নিয়ে থাকেন, এমন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     

    দুদিনেও উইকেটের দেখা পাননি শান্তরা

    সাক্ষাৎকার

    আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল ‘তুফান টু’ বানানোর

    সামিটের এলএনজি টার্মিনাল সিঙ্গাপুরে, গরমে বাড়বে লোডশেডিং

    ঈদের চতুর্থ দিনের টিভি আয়োজন

    আবারও টালিউড সিনেমায় তারিন

    মারজুকের সঙ্গে আলী হাসানের ‘নানা-নাতি’

    বেবি বাম্প নিয়ে সিনেমার প্রচারে দীপিকা

    যাত্রাবাড়ীর বাসা থেকে দম্পতির লাশ উদ্ধার, পুলিশ বলছে হত্যা

    তানজিম সাকিবদের ‘ভয়ংকর’ মনে করে না অস্ট্রেলিয়া

    বন্ধুর গোপনাঙ্গ কেটে নিজেরও কাটলেন তরুণ, হাসপাতালে মৃত্যু

    এবারও চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, নাকি অন্য কেউ

    বিদেশি ফলে ভরছে দেশের মাঠ, ৫টির চাষ সবচেয়ে বেশি