ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে নটিংহ্যামের সুপ্রাচীন বনে প্রায় হাজার বছর আগে জন্ম নিয়েছিল এক লোকগাথা। ধনীদের সম্পদ ছিনিয়ে গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে রবিন হুড নামের এক দস্যু হাজার বছর ধরে অমর হয়ে আছে মানুষের মনে, বইয়ের পাতায় আর টেলিভিশনের পর্দায়।
রবিন হুডের এই কাহিনি আদৌ সত্যি নাকি চারণ কবিদের রচিত, তা নিয়ে দ্বিধা আছে খোদ নটিংহ্যামবাসীর। জনদরদি দস্যু নিয়ে তাদের দ্বিধায় মেশানো গর্ব থাকলেও সত্যিকারের গর্ব করার জায়গা তাদের আছে।
এই নটিংহ্যামেই রূপকথার জন্ম দিয়েছিল একটা ফুটবল দল। এলাম, দেখলাম, জয় করলাম-এই মন্ত্রে ১৯৭৯ ও ১৯৮০ সালে বিশ্ব ফুটবলকে চমকে দিয়ে টানা দুইবার ইউরোপিয়ান কাপ (এখনকার চ্যাম্পিয়নস লিগ) জিতেছিল নটিংহ্যাম ফরেস্ট ফুটবল ক্লাব।
কিংবদন্তি কোচ ব্রায়ান ক্লফের কোচিংয়ে আশির দশকে নিজেদের অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল নটিংহ্যাম ফরেস্ট। ১৯৭৮-৭৯ ও ৭৯-৮০ মৌসুমে জিতেছিল টানা দুই ইউরোপিয়ান লিগ শিরোপা। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে জিতেছিল নিজেদের প্রথম লিগ। যেভাবে চমক জাগিয়ে ইউরোপিয়ান ফুটবলে আবির্ভাব হয়েছিল নটিংহ্যামের তেমনি ধুঁকতে ধুঁকতেই একসময় প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন ঘটে দলটার। মনে অনেক অভিমান জমে থাকা সেই দলটাকে ২৩ বছর প্রিমিয়ার লিগে ফিরিয়ে এনে আরেক রূপকথার জন্ম দিয়েছেন কোচ স্টিভ কুপার।
১৯৯৯ সালে লিগ থেকে অবনমনের পর ফেরা তো দূরের কথা উল্টো চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ থেকে অবনমন হয়ে তৃতীয় বিভাগেও নেমে গিয়েছিল নটিংহ্যাম। গত সেপ্টেম্বরেও এই দলটাই ছিল সদ্য শেষ হওয়া চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের তলানির দল। সেই মাসেই নটিংহ্যামের দায়িত্ব নিয়ে দলটাকে রীতিমতো পাল্টে ফেলে নায়ক স্টিভ কুপার। গতকাল রাতে ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নশিপের প্লে-অফে ভাগ্যটা হেলেছিল নটিংহ্যামের দিকে। হার্ডাসফিল্ডের লেভি কলউইলের করা আত্মঘাতী গোলটাতেই ১৯৯৯ সালের পর প্রিমিয়ার লিগে ফেরার সুযোগ করে দেয় নটিংহ্যামকে।
লিভারপুল-রিয়াল সম্পর্কিত জানতে - এখানে ক্লিক করুন
একসময়ের ইউরোপ আর বিশ্ব সেরা দলটার এভাবে ফেরা যেন ঘুম ভেঙে শিকারের খোঁজে বের হওয়া সিংহের মতো। সর্বোচ্চ আসরে আসরে ফিরে স্টিভ কুপার বিশ্বকে মনেও করিয়ে দিলেন, নটিংহ্যাম ফিরেছে। বলেছেন, ‘বিশ্বকে আমরা মনে করিয়ে দিতে চাই এই দলটা কী অসাধারণ আর বিশাল। এটা আমার কাছে অনেক কিছু। গত আট-নয় মাসে আমরা যে পরিশ্রম করেছি এই জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল। নটিংহ্যাম জাদুকরী একটা দল আর বিশ্বকে আবারও আমরা সেটা মনে করিয়ে দিতে চাই।’
খেলা সম্পর্কিত আরও পড়ুন:

সবুজ গালিচায় তিনি যখন বল নিয়ে ছোটেন, প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বুকে তখন অবধারিতভাবেই কাঁপন ধরে। শরীরী শক্তি, অতিমানবীয় গতি আর গোলপোস্টের সামনে বরফশীতল মানসিকতা—সব মিলিয়ে আর্লিং হালান্ড যেন আধুনিক ফুটবলের এক নিখুঁত বিজ্ঞাপন।
৪৪ মিনিট আগে
নেইমার কাঁদছেন, অঝোরে কাঁদছেন। তাঁর সঙ্গে রিও ডি জেনিরো, সা পাওলোসহ পুরো ব্রাজিলই কি নয়? কাঁদছে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা ব্রাজিল সমর্থকেরা। বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে এভাবে বিদায়। শেষ ষোলো থেকে ব্রাজিল সর্বশেষ কবে বিদায় নিয়েছে? ১৯৯০ বিশ্বকাপ, সেই ৩৬ বছর আগে।
৪৪ মিনিট আগে
রিও ডি জেনিরোর বিশাল মিলনায়তনে প্রায় ৭০০ সাংবাদিকের উপস্থিতিতে কার্লো আনচেলত্তি যেদিন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করলেন, নেইমার সেটা বাসায় বসে দেখছিলেন পরিবার- বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে। আনচেলত্তি যখনই ঘোষণা করলেন নেইমারের নাম—চারদিকে কী উল্লাস, চিৎকার! নেইমারের চোখে তখন পানি; সেটা ছিল আনন্দাশ্রু।
১ ঘণ্টা আগে
আটলান্টার দিনটা কি আবার লিওনেল মেসির হবে? নাকি সেই আলো কেড়ে নেবেন মোহামেদ সালাহ? ৯০ মিনিটে (যদি অতিরিক্ত সময় না লাগে) একজনের বিশ্বকাপ-স্বপ্ন আরও বড় হবে, অন্যজনের যাত্রা থেমে যাবে সেখানেই। বিশ্বকাপের নকআউটে সৌন্দর্যের চেয়ে বেঁচে থাকাটাই বড়। কে কত ভালো খেলল, সেটি ইতিহাস খুব বেশি মনে রাখে না;
১ ঘণ্টা আগে