
আমার বয়স ১৭ বছর। মা, দুই ভাইসহ আমি একসঙ্গে থাকি। মা-বাবা আলাদা থাকেন সাত বছর ধরে। আমার বাবা কোনোভাবেই আমার মাকে ডিভোর্স দিচ্ছেন না। আমরা বোঝানোর চেষ্টা করেছি। মা আমাদের তিন ভাইবোনের খরচ বহন করেন। তিনি কোনো কিছুই অপূর্ণ রাখেন না। কিন্তু বাবা আমাদের খোঁজ রাখেন না। আমার মা মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন দিন দিন। সন্তান হিসেবে আমরা এমন কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারি কি, যাতে আমার মা-বাবার ডিভোর্স হয়ে যায়?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ঢাকা
উত্তর: আমাদের দেশে বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট আইনি পথ আছে। তবে প্রতিটি আইনি পদক্ষেপ বাস্তবতা, উপযুক্ত প্রমাণ, সময় এবং পেশাদার আইনি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
দেশে মুসলিম দম্পতিদের ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদের একটি পথ হলো, স্বামী কর্তৃক তালাক দেওয়া। এ জন্য স্বামীকে ইউনিয়ন পরিষদ, সিটি করপোরেশন অথবা সংশ্লিষ্ট পৌরসভার চেয়ারম্যান/মেয়রের কাছে লিখিত নোটিশ দিতে হয়। নোটিশের ৯০ দিন পার হলে এবং এ সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে তালাক আইনিভাবে কার্যকর হয়। এটি তুলনামূলকভাবে সহজ ও কম জটিল পদ্ধতি। তবে এর প্রধান শর্ত হলো, স্বামীর সম্মতি, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুপস্থিত।
নিকাহনামার ১৮ নম্বরে স্ত্রীকে তালাকের অনুমতি দেওয়া থাকলে স্বামীর অসম্মতিতে স্ত্রী নিজে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ পাঠাতে পারেন। এটি তিন মাস পর কার্যকর হবে।
এ ছাড়া স্ত্রী জুডিশিয়াল ডিভোর্সের জন্য আদালতের মাধ্যমেও আবেদন করতে পারেন। এর একটি প্রচলিত রূপ হলো ‘খুলা’। সাধারণত এতে স্বামীর সম্মতি প্রয়োজন হলেও স্বামী অসম্মতি জানালে স্ত্রী আদালতে আবেদন করতে পারেন। আদালত নির্দিষ্ট ও যুক্তিসংগত কারণ; যেমন অমানবিক আচরণ, দীর্ঘদিন ভরণপোষণ না দেওয়া কিংবা স্বামীর অনুপস্থিতি প্রমাণিত মনে করলে খুলা বা বিবাহবিচ্ছেদ মঞ্জুর করতে পারেন।
এ ছাড়া জুডিশিয়াল ডিসল্যুশন বা ফাসখ-এর ক্ষেত্রে আদালত বিবেচনা করেন, দাম্পত্য সম্পর্কটি স্থায়ীভাবে অচল, অসহনীয় বা টেকসই কি না। স্বামী যদি দীর্ঘদিন ধরে ভরণপোষণ না দেন, মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন করেন কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হন, তাহলে বিষয়গুলো আদালতে যদি প্রমাণ করা যায়, সে ক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদের আদেশ দিতে পারেন আদালত।
বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আদালতে যেসব কারণ সাধারণত গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়, সেগুলোর মধ্যে আছে, দীর্ঘমেয়াদি ভরণপোষণের অভাব, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, পরিবারের প্রতি দায়িত্বহীনতা এবং মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে একসঙ্গে থাকা অসহনীয় অবস্থা।
আপনার মায়ের জন্য পারিবারিক কোর্টে আদালতের মাধ্যমে জুডিশিয়াল ডিভোর্স বা স্বামীর সম্মতি ছাড়াই খুলার আবেদন করা যেতে পারে। তবে এতে কিছুটা সময় লাগবে।
এই প্রক্রিয়াগুলো সময়সাপেক্ষ। এ জন্য একজন অভিজ্ঞ পারিবারিক আইনজীবীর সহায়তা জরুরি।
একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ পারিবারিক আইনজীবীর সহায়তা নিলে সুবিধা পাবেন অনেক। তিনি প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত, প্রমাণ সংগ্রহ, আদালতের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন এবং মামলার সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন। পাশাপাশি, প্রাথমিক পর্যায়ে সমঝোতার চেষ্টা হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ বা চেয়ারম্যানের অফিসের মাধ্যমে আইনি নোটিশ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। এটি অনেক ক্ষেত্রে আদালতের প্রক্রিয়ার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
আপনার বয়স ১৭ বছর বলে আপনি আইনগতভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক। তাই সরাসরি আইনি সিদ্ধান্ত গ্রহণ বা মামলা পরিচালনা করার ক্ষমতা আপনার নেই। এই প্রক্রিয়ায় আপনার মা-ই প্রধান আবেদনকারী হবেন। সন্তান হিসেবে আপনার মায়ের মানসিক ও শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনগুলো নথিবদ্ধ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং আপনার মা-বাবার মধ্যে যোগাযোগ বা দায়িত্বহীনতার প্রমাণ সংগ্রহে সহায়তা করতে পারেন। এসব উদ্যোগ মামলাকে শক্তিশালী করে এবং আদালতের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সহায়ক।
মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশে বিবাহবিচ্ছেদ একটি তাৎক্ষণিক অথবা সহজ প্রক্রিয়া নয়। তাৎক্ষণিকভাবে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেই।
পরামর্শ দিয়েছেন: ব্যারিস্টার ইফফাত গিয়াস আরেফিন, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্র যখন কোনো দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন শুরু করে, তার আগে পশ্চিমা মিডিয়ায় সে দেশটির বিরুদ্ধে নানা কথা শোনা যায়। এর মাধ্যমে তারা মূলত দেশটিতে হামলা বা অভিযানের যৌক্তিকতা তৈরি করে।
২ দিন আগে
আমি একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় তিন বছর। সম্প্রতি একটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। কখনো ছবি আবার কখনো মেসেজের স্ক্রিনশট ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ইতিমধ্যে আমার কাছ থেকে টাকাপয়সাও হাতিয়ে নিয়েছে নম্বরটির ব্যবহারকারী।
২ দিন আগে
যা ছাড়া এখন জীবন কল্পনা করা যায় না, সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। প্রজন্ম যেটাই হোক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্ল্যাটফর্মগুলোতে তাদের সরব উপস্থিতি। এখানে কেউ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জানান, কেউ নিজের ছবির সঙ্গে জুড়ে দেন মানানসই কবিতা কিংবা গানের লাইন। আবার অনেকে এই মাধ্যমকে ব্যবহার করেন নিজের মতামত...
২ দিন আগে
আজ মৌমাছি দিবস। পৃথিবীর খাদ্যশৃঙ্খল ও কৃষিব্যবস্থার এক-তৃতীয়াংশ পরাগায়ন নির্ভর করে তাদের ওপর। কিন্তু ক্ষতিকর পরজীবী ভ্যারোয়া মাইট, ভাইরাস এবং কীটনাশকের প্রভাবে তারা হারিয়ে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। মৌমাছিদের এই গণমৃত্যু ও বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে এক যুগান্তকারী প্রাকৃতিক সমাধান নিয়ে এসেছিলেন...
২ দিন আগে