
দেশে নারীদের মোটরসাইকেল চালনার হার ধীরে ধীরে বাড়ছে। বর্তমানে মোট মোটরসাইকেল চালকের প্রায় ১ শতাংশ নারী। তবে গবেষকেরা জানাচ্ছেন, সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তন, যানজট, ব্যক্তিগত চলাচল এবং আয়ের প্রয়োজন বেড়ে যাওয়ায় নারী বাইকারের সংখ্যা বাড়ছে।
কিছু পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির তথ্যমতে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৬ লাখ। দেশে ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী নারীর সংখ্যা ৩ হাজার ৬৪৬ জন। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৬৮০ জন রয়েছেন ঢাকা শহরে।
বাংলাদেশ উইমেন রাইডার্স ক্লাবের তথ্যমতে, দেশে ২ হাজারের বেশি নারী সক্রিয়ভাবে মোটরসাইকেল চালান; তাঁদের প্রায় ৮০ ভাগ কর্মজীবী নারী ও শিক্ষার্থী। বাংলাদেশ পুলিশের ২৯ জন নারী ট্রাফিক সার্জেন্টের মধ্যে ১৮ জন দায়িত্ব পালনকালে মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন।
আশা ও বাস্তবতার ফারাক
একাধিক গবেষণায় দেখা যায়, নারীদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালনার আগ্রহ বেশি দেখা গেলেও লাইসেন্সধারী নারীর সংখ্যা এখনো বেশ কম। প্রশিক্ষিত নারী চালক কম থাকায় শুধু নারীদের জন্য চালু হওয়া রাইড শেয়ারিং সেবাগুলো বড় পরিসরে কার্যক্রম চালাতে পারেনি। বাজারে স্পষ্ট চাহিদা থাকা সত্ত্বেও লিলি, ও বোন, পিংক স্যামের মতো নারীকেন্দ্রিক রাইড শেয়ারিং উদ্যোগগুলো দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারেনি।
এই প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের ব্যবসার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় দিনে ১৫০ থেকে ২৫০টি রাইডের অনুরোধ পেত। কিন্তু সীমিত প্রশিক্ষিত নারী চালকের কারণে মাত্র ১৫টি রাইড চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতো। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, নারীদের জন্য সঠিক এবং উন্নত মানের প্রশিক্ষণ এবং অর্থায়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আছে সম্ভাবনা
দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নারী বাইকারদের প্রশিক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ভারতের ‘হার রাইড’ কর্মসূচিতে ১ লাখের বেশি নারীকে নিরাপদ মোটরসাইকেল চালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের ‘উইমেন অন হুইলস’ উদ্যোগে হাজারো নারীকে ক্ষমতায়ন করা হয়েছে এবং ইতিবাচক নীতি পরিবর্তনের প্রেরণা দেওয়া হয়েছে।
অনেক নারী মোটরসাইকেলচালক এবং যাত্রী তাঁদের দৈনন্দিন কাজে, যাতায়াতের জন্য বা অবসর সময়ে স্বাধীনভাবে মোটরসাইকেল চালাতে আগ্রহী। গবেষণায় দেখা গেছে, সুযোগ থাকলে ৯৭ শতাংশ নারী যাত্রী চালক হিসেবে বেছে নেবেন নারী মোটরসাইকেলচালককে।
নারীদের চলাচলের স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে মোটরসাইকেল চালনা একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে। এ জন্য প্রয়োজন নারীবান্ধব প্রশিক্ষণ, নিরাপদ সড়ক পরিবেশ এবং সহজ লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া। নারীরা সুযোগ পেলে এই খাতে দ্রুত এগিয়ে আসবেন। কিন্তু তাঁদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আহমেদ নাজমুল হোসাইন পরিচালক, রোড সেফটি প্রোগ্রাম, ব্র্যাক
নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, এর মাধ্যমে নারীরা ব্যক্তিগত চলাচলের স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেন। নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে মোটরসাইকেল ব্যবহার নারীদের স্বাধীনতা, শিক্ষা, চাকরি ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। এ ছাড়া মোটরসাইকেল চালনার মাধ্যমে বাংলাদেশের নারীদের চলাচল, আয় এবং আর্থিক স্বাধীনতার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
নারী যাত্রীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে রাইড শেয়ারিং এবং ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে নারীদের অংশগ্রহণের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। উবার এবং পাঠাওয়ের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠান এই সম্ভাবনাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রশিক্ষিত নারী মোটরসাইকেলচালকের ঘাটতিকে তারা অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
উবার-অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ‘রাইড
হেইলিং: আ প্ল্যাটফর্ম ফর উইমেন’স ইকোনমিক অপরচুনিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গবেষণা পরিচালনা করা হয় ঢাকা শহরকে কেন্দ্র করে।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত গবেষণাটির তথ্য অনুযায়ী, রাইড শেয়ারিংয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে নিতে পারলে ২০২৮ সালের মধ্যে ঢাকার শ্রমবাজারে ৩ লাখ নতুন নারী কর্মী যোগ হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে নারীদের শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ ১৩ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা আছে।
আছে প্রতিবন্ধকতাও
২০২৫ সালের অক্টোবরে রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং ব্যারিয়ারস অ্যান্ড অপরচুনিটিস ফর উইমেন মোটরসাইক্লিস্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা
হয়। ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির এ গবেষণা ঢাকা ও চট্টগ্রামে পরিচালিত হয়। গবেষণায় নারী বাইকারদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার কথা বলা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, পারিবারিক বিধিনিষেধ, নেতিবাচক জনমত, নারীরা শক্তিহীন ও অদক্ষ—এমন সামাজিক বিশ্বাস।
বিদ্যমান ড্রাইভিং স্কুলগুলোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত, অসম্পূর্ণ বা নারীদের জন্য অনুপযোগী। নারী প্রশিক্ষক ও স্পষ্ট দিকনির্দেশনার অভাব নারীদের দক্ষতা গড়ে তোলার অন্তরায়। দুর্ঘটনার ঝুঁকি, সড়কে হয়রানি, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং অন্যদের ঝুঁকিপূর্ণ বা অসৌজন্যমূলক আচরণ নারীদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়।
দেশীয় প্রচেষ্টা
আমাদের দেশে ‘ফোর হুইলস টু ফ্রিডম’ শীর্ষক উদ্যোগের মাধ্যমে ২ হাজার ৪০ জন নারীকে পেশাদার ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ দিয়েছে ব্র্যাক।
তাঁদের মধ্যে ৩৮৪ জন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে আসা। প্রশিক্ষিত নারীর ৭০ ভাগ বর্তমানে কর্মরত। ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ২ হাজার ২৬২ নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালনাও অন্তর্ভুক্ত।
প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে নারীদের জন্য উপযোগী প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা তৈরি এবং নারী প্রশিক্ষক রাখা; মোটরসাইকেল কেনার জন্য ব্যাংক এবং ক্ষুদ্র ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত করা; সমাজের নেতিবাচক ও ভুল ধারণাগুলো দূর করতে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো; সড়কে নিরাপত্তা বাড়ানো এবং নারীবান্ধব পরিবহন নীতি শক্তিশালী করা; টেকসই ফল পাওয়ার জন্য সরকার, বেসরকারি খাত এবং নাগরিক সমাজের সঙ্গে অংশীদারত্ব তৈরি করা।

আগুনে পুড়ে খাঁটি সোনা হওয়ার গল্প আমরা অনেক শুনেছি। কিন্তু ঝু কুনফেইর গল্পটাকে বলতে হয় কাচ ঘষে হীরা হওয়ার গল্প। চীনের এক প্রত্যন্ত গ্রামের চরম দারিদ্র্য থেকে উঠে আসা এই ব্যক্তিত্ব আজ বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ ধনী ‘সেলফ-মেড’ নারী। অ্যাপল, স্যামসাং কিংবা টেসলার মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের টাচস্ক্রিন সাম্র
১৯ ঘণ্টা আগে
বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আদালতে যেসব কারণ সাধারণত গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়, সেগুলোর মধ্যে আছে, দীর্ঘমেয়াদি ভরণপোষণের অভাব, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, পরিবারের প্রতি দায়িত্বহীনতা এবং মানসিক, সামাজিক ও আর্থিকভাবে একসঙ্গে থাকা অসহনীয় অবস্থা।
২০ ঘণ্টা আগে
বিখ্যাত বুলগেরিয়ান-ফরাসি দার্শনিক ও মনোবিশ্লেষক জুলিয়া ক্রিস্তেভা। তাঁর গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভাষা, সংস্কৃতি এবং সাহিত্যের আন্তসম্পর্ক। প্রথাগত ভাষাতত্ত্ব কেবল ব্যাকরণ ও কাঠামোর ওপর জোর দেয়। তবে জুলিয়া মানুষের জীবন্ত শরীর, আবেগ এবং অবচেতন মনকে ভাষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ফিরিয়ে আনেন।
২১ ঘণ্টা আগে
আগামীকাল দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এতে বেশ উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও একটি জায়গায় খানিক অস্বস্তি রয়ে গেছে। তা হলো, এবারের নির্বাচনে দেশে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বেশ কম। এই নির্বাচনে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল নারীদের মনোনয়ন দেয়নি।
৮ দিন আগে