Ajker Patrika

ভাষাকে মনস্তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করেন জুলিয়া

ফিচার ডেস্ক
ভাষাকে মনস্তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করেন জুলিয়া
জুলিয়া ক্রিস্তেভা। ছবি: সংগৃহীত

বিখ্যাত বুলগেরিয়ান-ফরাসি দার্শনিক ও মনোবিশ্লেষক জুলিয়া ক্রিস্তেভা। তাঁর গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভাষা, সংস্কৃতি এবং সাহিত্যের আন্তসম্পর্ক। প্রথাগত ভাষাতত্ত্ব কেবল ব্যাকরণ ও কাঠামোর ওপর জোর দেয়। তবে জুলিয়া মানুষের জীবন্ত শরীর, আবেগ এবং অবচেতন মনকে ভাষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ফিরিয়ে আনেন।

ভাষা গবেষণায় জুলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদান হলো ‘রেভল্যুশন ইন পোয়েটিক ল্যাঙ্গুয়েজ’ গ্রন্থে উপস্থাপিত তত্ত্ব। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত এই বইতে তিনি দাবি করেন, ভাষার অর্থ প্রকাশের প্রক্রিয়াটি দুটি উপাদানের মিথস্ক্রিয়ায় গঠিত। একটি সিম্বলিক বা সাংকেতিক, অন্যটি সেমিওটিক অর্থাৎ আবেগময় কিংবা শারীরিক।

‘পাওয়ার্স অব হরর’, ‘টেলস অব লাভ’ এবং ‘ব্ল্যাক সান’—এই তিনটি বইকে একত্রে জুলিয়ার ট্রিলজি বলা হয়। এই বইগুলোতে তিনি তুলে ধরেন মানুষের ঘৃণা, ভালোবাসা এবং বিষণ্নতার মতো জটিল আবেগগুলো কীভাবে ভাষায় প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া ‘স্ট্রেঞ্জার্স টু আওয়ারসেলভস’ গ্রন্থে তিনি অভিবাসন, নির্বাসন এবং পরত্ব বা ভিন্নতা নিয়ে বিশ্লেষণমূলক ধারণা দেন। এই বিষয়গুলো আধুনিক সমাজবিজ্ঞানে অত্যন্ত প্রভাবশালী।

ভাষা কীভাবে মানুষের মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে জুলিয়া ক্রিস্তেভার গবেষণা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। বিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদ হিসেবে ভাষাতত্ত্ব ও নারীবাদী তত্ত্বে তাঁর অবদান আজও বিশ্বজুড়ে গবেষকদের অনুপ্রাণিত করে। বিশেষ করে লৈঙ্গিক পরিচয় এবং মানবসত্তার বিকাশে ভাষার ভূমিকা ব্যাখ্যায় জুলিয়া এক অনন্য উচ্চতায় আসীন।

সূত্র: গার্ডিয়ান

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত