এলিস মরিসনকে বলা হয় নারী ইন্ডিয়ানা জোন্স। তিনি একজন ব্রিটিশ অভিযাত্রী, লেখক এবং টিভি উপস্থাপক। মধ্যবয়সে এসে তিনি নিজের স্থিতিশীল করপোরেট জীবন ছেড়ে অজানার উদ্দেশে পা বাড়িয়েছেন। ৫ বছর বয়সে উগান্ডার পাহাড়ে সাপ তাড়িয়ে বেড়ানো শিশুটি আজ বিশ্বের অন্যতম রুক্ষ মরুভূমি আর নদীপথ পাড়ি দিয়ে গড়েছেন একের পর এক বিশ্ব রেকর্ড। তাঁর সাহসিকতা এবং পৃথিবীর মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের এই নেশা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
করপোরেট জীবন থেকে লিক্রা ড্রেসে রূপান্তর
এলিসের জন্ম ১৯৬৩ সালে, এডিনবরায়। কিন্তু বেড়ে উঠেছেন আফ্রিকার উগান্ডা ও ঘানায়। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সফল। বিবিসি নিউজের সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। সেখানে তিনি ব্রেকিং নিউজ গ্যালারি সামলাতেন। এরপর দীর্ঘ ৯ বছর একটি মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ২০১১ সালে সরকারি বাজেট কাটের ফলে প্রতিষ্ঠানটি যখন সংকটে পড়ে, এলিস তাঁর পিন স্ট্রাইপ স্যুট ছেড়ে সাইক্লিংয়ের পোশাক পরে পথে নেমে পড়েন। তিনি প্রমাণ করেছেন, অভিযানের জন্য বয়সের কোনো সীমা নেই। তিনি বলেন, ‘আমি ২৫ বছর বয়সে এটা করতে পারতাম না। কারণ, এর জন্য যে জীবন অভিজ্ঞতার প্রয়োজন ছিল, তা তখন আমার ছিল না।’ তিনি মনে করেন, আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে একজন অভিযাত্রী আছে, যাকে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন।
ইতিহাসের প্রথম রেকর্ড
এলিসের অন্যতম বড় অর্জন হলো সৌদি আরব উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্ত হেঁটে পাড়ি দেওয়া। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে ১১২ দিনে তিনি প্রায় ২ হাজার ১৯৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন। এটি বিশ্ব রেকর্ড। এর আগে আর কেউ এই নির্দিষ্ট রুটে পুরো সৌদি আরব হেঁটে পাড়ি দেয়নি। বালুঝড়, তীব্র হাওয়া এবং পায়ে মারাত্মক ফোসকা নিয়ে তিনি প্রতিদিন গড়ে ২৫ কিলোমিটার হাঁটতেন। এর পাশাপাশি সে সময় তিনি সৌদি আরবের দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বিশেষ করে সেখানকার নারীদের গল্প বিশ্বের কাছে তুলে ধরেছিলেন।
বিশ্ব রেকর্ড এবং অভিযান
এলিসের অর্জনের তালিকা দীর্ঘ এবং বৈচিত্র্যময়। ২০১৯ সালে তিনি বিশ্বের প্রথম নারী হিসেবে মরক্কোর দীর্ঘতম ড্রা নদীর উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত হেঁটে অতিক্রম করেন। সে জন্য তাঁকে হাঁটতে হয়েছিল ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। এরপর তিনি কায়রো থেকে কেপটাউন পর্যন্ত ১২ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন সাইকেল চালিয়ে। সফলভাবে শেষ করেন ম্যারাথন দে সাবল। এই ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয় মরক্কোর সাহারা মরুভূমিতে। এই প্রতিযোগিতা পৃথিবীর কঠিনতম পদযাত্রাগুলোর অন্যতম। এ ছাড়া হিমালয়ের প্রতিকূল পরিবেশে ১৫০ কিলোমিটার আলট্রা ম্যারাথন দৌড়েছেন তিনি।
জলবায়ু আর সমাজ নিয়ে কাজ
এলিস শুধু শারীরিক কসরত দেখানোর জন্য অভিযান করেন না, তিনি মরক্কোর অ্যাটলাস পর্বতমালায় বসবাস করেন। সেখানে ২০২৩ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় তিনি সাইকেল চালিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষের দুর্দশার কথা বিবিসি এবং সিএনএনের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষের গোঁড়ামি দূর হয় এবং ভিন্নমত এবং সেই মতের মানুষের প্রতি সহানুভূতি বাড়ে। এলিস তাঁর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাগুলো বই
এবং ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ করেন। তাঁর জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ওয়াকিং উইথ নম্যাডস’, ‘অ্যাডভেঞ্চারস ইন মরক্কো’ এবং ‘ডগলিং এলিফ্যান্টস’। বিবিসির জন্য তিনি ‘অ্যারাবিয়ান অ্যাডভেঞ্চারস: সিক্রেটস অব দ্য নাবাতেনস’ এবং ‘ফ্রম মরক্কো টু টিম্বাক্তু’ নামক তথ্যচিত্র তৈরি করেছেন।
সূত্র: সিএনএন, ইউরো নিউজ

যুক্তরাষ্ট্র যখন কোনো দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন শুরু করে, তার আগে পশ্চিমা মিডিয়ায় সে দেশটির বিরুদ্ধে নানা কথা শোনা যায়। এর মাধ্যমে তারা মূলত দেশটিতে হামলা বা অভিযানের যৌক্তিকতা তৈরি করে।
২ দিন আগে
আমি একটি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে প্রায় তিন বছর। সম্প্রতি একটি মোবাইল ফোন নম্বর থেকে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। কখনো ছবি আবার কখনো মেসেজের স্ক্রিনশট ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ইতিমধ্যে আমার কাছ থেকে টাকাপয়সাও হাতিয়ে নিয়েছে নম্বরটির ব্যবহারকারী।
২ দিন আগে
যা ছাড়া এখন জীবন কল্পনা করা যায় না, সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। প্রজন্ম যেটাই হোক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্ল্যাটফর্মগুলোতে তাদের সরব উপস্থিতি। এখানে কেউ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জানান, কেউ নিজের ছবির সঙ্গে জুড়ে দেন মানানসই কবিতা কিংবা গানের লাইন। আবার অনেকে এই মাধ্যমকে ব্যবহার করেন নিজের মতামত...
২ দিন আগে
আজ মৌমাছি দিবস। পৃথিবীর খাদ্যশৃঙ্খল ও কৃষিব্যবস্থার এক-তৃতীয়াংশ পরাগায়ন নির্ভর করে তাদের ওপর। কিন্তু ক্ষতিকর পরজীবী ভ্যারোয়া মাইট, ভাইরাস এবং কীটনাশকের প্রভাবে তারা হারিয়ে যাচ্ছে আশঙ্কাজনক হারে। মৌমাছিদের এই গণমৃত্যু ও বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচাতে এক যুগান্তকারী প্রাকৃতিক সমাধান নিয়ে এসেছিলেন...
২ দিন আগে