
কোরবানি ইসলামের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যার মূল লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাকওয়া অর্জন। কোরবানির পর সেই মাংস দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান বা অলিমা বা অন্য কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে মেহমানদারি করা নিয়ে ইসলামি শরিয়তে কোনো বাধা নেই। তবে এখানে ‘নিয়ত’ বা উদ্দেশ্যের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি সম্পন্ন করার পর সেই মাংস নিজে খাওয়া, আত্মীয়স্বজনকে দেওয়া এবং অভাবগ্রস্তদের খাওয়ানো—সবই বৈধ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা তা থেকে খাও এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্রদেরও খাওয়াও।’ (সুরা আল-হজ: ২৮)।
সুতরাং, কোরবানির মাংস দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান বা অলিমার মেহমানদের আপ্যায়ন করা সম্পূর্ণ জায়েজ। এতে কোরবানির কোনো ক্ষতি হয় না।
কোরবানি কবুল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো বিশুদ্ধ নিয়ত। এ ক্ষেত্রে দুটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:
১. আল্লাহর সন্তুষ্টি বনাম অনুষ্ঠান আয়োজন: যদি কারও মূল উদ্দেশ্য হয় বিয়ের অনুষ্ঠানের মাংসের চাহিদা মেটানো বা বাজার খরচ বাঁচানো, তবে সেই কোরবানি সহিহ হবে না। কোরবানি হতে হবে একমাত্র আল্লাহর জন্য। পশুর মাংস বা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না, পৌঁছায় কেবল বান্দার ‘তাকওয়া’। (সুরা হজ: ৩৭)
২. এক অংশে দুটি নিয়ত নয়: যদি বড় পশুর (গরু বা মহিষ) একটি নির্দিষ্ট অংশে কেউ একই সঙ্গে কোরবানি ও অলিমার নিয়ত করেন, তবে তা সঠিক হবে না। বরং নিয়ম হলো সম্পূর্ণ অংশটি কোরবানির নিয়তেই জবাই করতে হবে। এরপর সেই কোরবানির মাংস দিয়ে আপনি চাইলে বিয়ে বা অলিমার মেহমানদারি করতে পারেন।
সারকথা হলো, কোরবানির মাংস দিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান বা অলিমা করাতে কোনো ধর্মীয় বাধা নেই। তবে কোরবানি দেওয়ার সময় নিয়ত থাকতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। বিয়ের মাংসের প্রয়োজন মেটানো যেন কোরবানির মূল উদ্দেশ্যকে ছাপিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনকারীর জন্য থাকছে পবিত্র ওমরাহ পালনের সুবর্ণ সুযোগ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীর জন্য রয়েছে যথাক্রমে একটি ডেস্কটপ ও একটি ল্যাপটপ। এ ছাড়া সেরা ১০ বিজয়ীর হাতে তুলে দেওয়া হবে বিশেষ স্মারক ও পুরস্কার।
১৭ ঘণ্টা আগে
বিদায় হজ সেরে মদিনায় ফেরার পর থেকেই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র কথা ও আচরণে এক বিদায়ী সুর ফুটে উঠছিল। শরিয়তের পূর্ণতায় বিধান নাজিল হলো, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম।’ (সুরা মায়িদা: ৩)। গভীর প্রজ্ঞাসম্পন্ন সাহাবিগণ মহানবী...
১৮ ঘণ্টা আগে
পবিত্র ধূলির ধরণিতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বরকতময় আগমন থেকে শুরু করে মহান রবের পানে প্রস্থান—সুদীর্ঘ এই পুরো জীবনপরিক্রমায় যে কয়জন ধন্য মানুষ তাঁকে সবচেয়ে কাছ থেকে দেখার ও পরম মায়ায় আগলে রাখার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন, তাঁদের অনন্য উচ্চতায় হজরত উম্মে আইমান (রা.)।
১৮ ঘণ্টা আগে
‘দায়েমি’ শব্দের শাব্দিক অর্থ নিরবচ্ছিন্ন, চিরন্তন, সার্বক্ষণিক বা সর্বদা পালনীয়। সাধারণ সামাজিক বা ব্যক্তিগত জীবনে এমন কিছু বিধান রয়েছে, যেগুলো নির্দিষ্ট কোনো সময় বা ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে পালন করা আবশ্যক।
১৮ ঘণ্টা আগে