
যা ছাড়া এখন জীবন কল্পনা করা যায় না, সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। প্রজন্ম যেটাই হোক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্ল্যাটফর্মগুলোতে তাদের সরব উপস্থিতি। এখানে কেউ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা জানান, কেউ নিজের ছবির সঙ্গে জুড়ে দেন মানানসই কবিতা কিংবা গানের লাইন। আবার অনেকে এই মাধ্যমকে ব্যবহার করেন নিজের মতামত ও পছন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য।
প্রতিদিন শত শত নারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কোনো না কোনোভাবে সম্মানহানি বা হয়রানির শিকার হচ্ছে। ব্যক্তিগত মতামত, তাদের কার্যক্রম এবং জীবনধারা নিয়ে নানান কটূক্তি ঘুরে বেড়ায় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। সম্প্রতি অপুষ্টি, অসচেতনতা এবং মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ার কারণে শিশুদের রোগাক্রান্ত হওয়া নিয়ে একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে। সেই বক্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে নারীদের দোষারোপ ও কটূক্তির খেলা। নারীর পেশা, কর্মঘণ্টা, এমনকি একজন নারী অবসরে কী করবে, তা ঠিক করে দিচ্ছে পুরুষদের একটি দল। কেন এই কাজ করা এত সহজ? এককথায় এর উত্তর নেই। আমরা শুধু পরিসংখ্যান দেখতে পারি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং ইউএনএফপিএর ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা যায়, দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারী প্রায় ৮৯ শতাংশ নারী জীবনে অন্তত একবার অনলাইন সহিংসতার বা সাইবার বুলিং কিংবা হেনস্তার শিকার হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকিতে আছেন ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীরা। এ বয়সী তরুণী ও নারীরা অনলাইন অপপ্রচার, ব্ল্যাকমেল ও অশালীন বার্তার শিকার হন বেশি। ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার শিকার হওয়া নারীদের ৪০ শতাংশের কম কোনো ধরনের সাহায্য চান। যাঁরা সাহায্য চান, তাঁদের মধ্যে ১০ শতাংশের কম পুলিশের দ্বারস্থ হন। বেশির ভাগ পরিবার ও বন্ধুদের ওপর ভরসা করেন।
ভুল স্বীকার করতে পারা মানুষের দারুণ এক গুণ। কিন্তু একই বিষয়ে বারবার ভুল করে ক্ষমা চাওয়া সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়ালে তার ব্যাখ্যা কী হবে। শুধু বলা যায়, একই ধরনের ভুল বারবার করা একধরনের অপরাধ। এ ধরনের মানসিকতা একটি সমাজকে কাঠামোগতভাবে দুর্বল করে দেয়। ডিজিটাল দুনিয়ার হয়রানির প্রভাব শুধু স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি একজন নারীর মানসিক স্বাস্থ্য ধ্বংস করে দিতে পারে। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ক্যারিয়ারের বিদায়ঘণ্টা বাজার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক সময় এটি বাস্তব জীবনে স্টকিং, শারীরিক সহিংসতা বা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০২৫ সালে প্রকাশিত ইউএন উইমেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ১৬ থেকে ৫৮ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতা বা হেনস্তার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন প্রযুক্তিগুলো এই পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। ছবি বা ভিজ্যুয়াল কনটেন্টভিত্তিক হেনস্তার ঘটনা এখন হু হু করে বাড়ছে। এক আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, ইন্টারনেটে থাকা ডিপফেক ছবি ও ভিডিওর ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশেই নারীদের আপত্তিকর বা যৌন উদ্দীপক উপায়ে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার নারীদের জন্য নতুন ফাঁদ তৈরি করেছে। ইউএন উইমেনের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে ১৫ বছর বয়সের পর থেকে প্রতি ১০ জনে ১ জন নারী সাইবার হয়রানির শিকার হয়েছেন। এদিকে আরব অঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ নারী ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বিগত বছরে অনলাইন সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে ৭৩ শতাংশ নারী সাংবাদিক অনলাইন সহিংসতার শিকার হন।
এ ছাড়া ৫টি অঞ্চলের ৮২ শতাংশ নারী সংসদ সদস্য তাঁদের কাজের মেয়াদে মানসিক ও লৈঙ্গিক ভিত্তিক কটূক্তির শিকার হয়েছেন।
এত কথার পরেও সেই প্রশ্নই করে রাখি, আইন থাকার পরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন সহজে নারীদের কটূক্তি করা যায়?

৪ জুন ১৮১৭ সাল। পাগলাগারদের নিঃসঙ্গ, নির্জন শীতল কুঠুরিতে মারা গেছেন একজন নারী। যৌবনে তাঁকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাঁর আর বাড়ি ফেরা হয়নি। কেউ তাঁর জন্য অপেক্ষা করে থাকেনি। প্যারিসের সালপেত্রিয়ের এক মানসিক হাসপাতালে জীবনের ২৩টি বসন্ত অবরুদ্ধ থাকার পর মৃত্যুবরণ করলেন ৫৪ বছরের নারী থেরোইন....
৭ দিন আগে
বছরের প্রথম ছয় মাসে ঘরে-বাইরে, লোকচক্ষুর অন্তরালে কিংবা প্রকাশ্য রাজপথে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ভঙ্গুর ছিল। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বিশ্লেষণ করলে এই ভয়ংকর চিত্র ফুটে ওঠে।
৭ দিন আগে
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আঙ্গারপাড়া গ্রামের খোদেজা আক্তার সুমা ও ইসমাইল হোসেন দম্পতির প্রথম সন্তান ফাতেমা ইসমাঈল কেয়া। ছোটবেলায় কেয়ার বই পড়ার নেশাটা ধরিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর মা। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বানান শেখার জন্য মা তাঁকে অন্যান্য বই পড়তে দিতেন। আর কেয়া তা বানান করে করে পড়তেন।
৭ দিন আগে
সেসিল ব্রুনস্বিক ছিলেন বিশ শতকের প্রথম দিকের ফরাসি নারীবাদী কর্মী। তিনি নারীদের ভোটাধিকার আদায় আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। পাশাপাশি তিনি নারীদের সমান বেতন, শিক্ষার সুযোগ, কর্মসংস্থানের জন্যও আন্দোলন করেন। ফ্রান্সের জাতীয় শিক্ষাবিষয়ক উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
৭ দিন আগে