ফিচার ডেস্ক

যেখানে নৃশংসতা কখনো কাম্য নয়, সেখানে নৃশংসতার চিত্র এখন পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের ঘরে ঘরে, হাতের মুঠোয়। নৃশংসতার ঘটনাগুলো মানুষকে সমাজের প্রতি ভীত করে তোলে। নৃশংসতার চিত্র ধারণ করে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন সেই ভয় মানুষকে গভীরভাবে আঘাত করে। সম্প্রতি আর্জেন্টিনায় ১৫ বছরের এক কিশোরী ও ২০ বছর বয়সের দুই তরুণীকে নৃশংসভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। যে ঘটনার বর্ণনায় নিহত তরুণীর দাদা বলেছেন, তারা যা করেছে, পশুর সঙ্গেও তা করা যায় না। অপরাধীরা এখানেই থেমে থাকেনি, তারা সেই নির্যাতনের দৃশ্য ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম গ্রুপে সরাসরি সম্প্রচার করেছিল। যদিও ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা মেটা প্ল্যাটফর্মে লাইভ স্ট্রিম হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম জানিয়েছে, নির্যাতনকারীরা নিহত তরুণীদের আঙুল কেটে ফেলেছিল, নখ উপড়ে নিয়েছিল এবং তাঁদের পিটিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে গত রোববার আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের রাস্তায় জড়ো হয়েছে হাজারো মানুষ। এই ঘটনাকে নার্কো ফেমিসাইড বলে উল্লেখ করেছে অনেকে। নারীবিদ্বেষের অন্যতম উদাহরণ ফেমিসাইড। ১৮০১ সালে ইংল্যান্ডে নারীবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বড়সড় আওয়াজ উঠলে প্রথম ফেমিসাইড শব্দটি ব্যবহৃত হয়। তবে গত শতাব্দীর সত্তরের দশক থেকে শব্দটির ব্যবহার সর্বজনীন রূপ পায়। এটি মূলত লিঙ্গভিত্তিক বিদ্বেষমূলক অপরাধ। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৫১ হাজার ১০০ নারী ও কন্যা তাদের অন্তরঙ্গ সঙ্গী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছে। তবে সংখ্যাটি বিশ্বজুড়ে নারী হত্যার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না বলে মনে করা হয়। তবু বেশির ভাগ আইনি ব্যবস্থায় এই হত্যাকাণ্ডকে সাধারণ হত্যা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এই কারণে নারী হত্যার নির্দিষ্ট আইনি স্বীকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭০ থেকে ১৯৯০-এর দশকের শেষ পর্যন্ত কোনো দেশের আইনে নারী হত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
নারী হত্যার হুমকি শুধু একটি বিচারিক সংকট নয়। এটি একটি গভীর অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সমস্যা। সহিংসতার ভয় নারী ও মেয়েদের জীবনে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। তাদের চলাচল, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। উইমেন, বিজনেস অ্যান্ড দ্য ল সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে ২৯টি দেশ নারী হত্যা মোকাবিলার জন্য আইন প্রণয়ন করেছে। এই তথ্য ১৯৭০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বিস্তৃত। তাদের পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত ১৯০টি দেশে বসবাসকারী ৩ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন নারীর মধ্যে আনুমানিক ৪৫০ মিলিয়ন নারী এমন দেশে বাস করেন, যেখানে নারী হত্যার বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা রয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০০ নারীর মধ্যে ১১ জন নারী হত্যার বিরুদ্ধে আইনত সুরক্ষিত। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে হত্যার অপরাধের একটি গুরুতর পরিস্থিতি হিসেবে ভুক্তভোগীর লিঙ্গকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করে দেশগুলো। যার মধ্যে প্রথম স্পেন। তারা ১৯৯৬ সালে এই স্বীকৃতি দেয়। এর প্রায় এক দশক পরে হাতে গোনা কয়েকটি দেশ ধীরে ধীরে অপরাধের লিঙ্গভিত্তিক প্রকৃতি বিবেচনা করে স্পষ্ট সংজ্ঞা এবং শাস্তির মাধ্যমে নারী হত্যাকে আরও ব্যাপক আকারে চিহ্নিত ও অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে।
মেক্সিকো ২০১২ সালে নারী হত্যার ওপর প্রথম স্বতন্ত্র ফেডারেল আইন গ্রহণ করে। ইকুয়েডর ২০১৪ সালে নতুন গৃহীত দণ্ডবিধিতে নারী হত্যা এবং গুরুতর নারী হত্যাকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। ২০১৩ সালে পেরু প্রথম নারী হত্যাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। আইনিভাবে নারী হত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা সাধারণ হত্যার চেয়ে ভিন্নভাবে এই অপরাধের বিচার করতে সাহায্য করে। এটি অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করে, প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং অর্থপূর্ণ ডেটা সংগ্রহে সাহায্য করে, যা শক্ত সামাজিক নীতি তৈরি করতে সহায়ক।
সূত্র: বিবিসি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক

যেখানে নৃশংসতা কখনো কাম্য নয়, সেখানে নৃশংসতার চিত্র এখন পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের ঘরে ঘরে, হাতের মুঠোয়। নৃশংসতার ঘটনাগুলো মানুষকে সমাজের প্রতি ভীত করে তোলে। নৃশংসতার চিত্র ধারণ করে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন সেই ভয় মানুষকে গভীরভাবে আঘাত করে। সম্প্রতি আর্জেন্টিনায় ১৫ বছরের এক কিশোরী ও ২০ বছর বয়সের দুই তরুণীকে নৃশংসভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। যে ঘটনার বর্ণনায় নিহত তরুণীর দাদা বলেছেন, তারা যা করেছে, পশুর সঙ্গেও তা করা যায় না। অপরাধীরা এখানেই থেমে থাকেনি, তারা সেই নির্যাতনের দৃশ্য ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম গ্রুপে সরাসরি সম্প্রচার করেছিল। যদিও ইনস্টাগ্রামের মূল সংস্থা মেটা প্ল্যাটফর্মে লাইভ স্ট্রিম হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
আর্জেন্টিনার গণমাধ্যম জানিয়েছে, নির্যাতনকারীরা নিহত তরুণীদের আঙুল কেটে ফেলেছিল, নখ উপড়ে নিয়েছিল এবং তাঁদের পিটিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে গত রোববার আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের রাস্তায় জড়ো হয়েছে হাজারো মানুষ। এই ঘটনাকে নার্কো ফেমিসাইড বলে উল্লেখ করেছে অনেকে। নারীবিদ্বেষের অন্যতম উদাহরণ ফেমিসাইড। ১৮০১ সালে ইংল্যান্ডে নারীবিদ্বেষের বিরুদ্ধে বড়সড় আওয়াজ উঠলে প্রথম ফেমিসাইড শব্দটি ব্যবহৃত হয়। তবে গত শতাব্দীর সত্তরের দশক থেকে শব্দটির ব্যবহার সর্বজনীন রূপ পায়। এটি মূলত লিঙ্গভিত্তিক বিদ্বেষমূলক অপরাধ। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৫১ হাজার ১০০ নারী ও কন্যা তাদের অন্তরঙ্গ সঙ্গী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছে। তবে সংখ্যাটি বিশ্বজুড়ে নারী হত্যার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না বলে মনে করা হয়। তবু বেশির ভাগ আইনি ব্যবস্থায় এই হত্যাকাণ্ডকে সাধারণ হত্যা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এই কারণে নারী হত্যার নির্দিষ্ট আইনি স্বীকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৭০ থেকে ১৯৯০-এর দশকের শেষ পর্যন্ত কোনো দেশের আইনে নারী হত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
নারী হত্যার হুমকি শুধু একটি বিচারিক সংকট নয়। এটি একটি গভীর অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সমস্যা। সহিংসতার ভয় নারী ও মেয়েদের জীবনে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। তাদের চলাচল, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। উইমেন, বিজনেস অ্যান্ড দ্য ল সংস্থার দেওয়া তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে ২৯টি দেশ নারী হত্যা মোকাবিলার জন্য আইন প্রণয়ন করেছে। এই তথ্য ১৯৭০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে বিস্তৃত। তাদের পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত ১৯০টি দেশে বসবাসকারী ৩ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন নারীর মধ্যে আনুমানিক ৪৫০ মিলিয়ন নারী এমন দেশে বাস করেন, যেখানে নারী হত্যার বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা রয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০০ নারীর মধ্যে ১১ জন নারী হত্যার বিরুদ্ধে আইনত সুরক্ষিত। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে হত্যার অপরাধের একটি গুরুতর পরিস্থিতি হিসেবে ভুক্তভোগীর লিঙ্গকে স্বীকৃতি দিতে শুরু করে দেশগুলো। যার মধ্যে প্রথম স্পেন। তারা ১৯৯৬ সালে এই স্বীকৃতি দেয়। এর প্রায় এক দশক পরে হাতে গোনা কয়েকটি দেশ ধীরে ধীরে অপরাধের লিঙ্গভিত্তিক প্রকৃতি বিবেচনা করে স্পষ্ট সংজ্ঞা এবং শাস্তির মাধ্যমে নারী হত্যাকে আরও ব্যাপক আকারে চিহ্নিত ও অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে শুরু করে।
মেক্সিকো ২০১২ সালে নারী হত্যার ওপর প্রথম স্বতন্ত্র ফেডারেল আইন গ্রহণ করে। ইকুয়েডর ২০১৪ সালে নতুন গৃহীত দণ্ডবিধিতে নারী হত্যা এবং গুরুতর নারী হত্যাকে স্বতন্ত্র অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। ২০১৩ সালে পেরু প্রথম নারী হত্যাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে। আইনিভাবে নারী হত্যাকে স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা সাধারণ হত্যার চেয়ে ভিন্নভাবে এই অপরাধের বিচার করতে সাহায্য করে। এটি অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করে, প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে এবং অর্থপূর্ণ ডেটা সংগ্রহে সাহায্য করে, যা শক্ত সামাজিক নীতি তৈরি করতে সহায়ক।
সূত্র: বিবিসি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছা থাকলেও আর্থসামাজিক বাধা ও প্রেক্ষাপটের কারণে নির্বাচনে বেশিসংখ্যক নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনীতির মাঠে, বিশেষ করে নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা—বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়। নারীরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেন।
১৩ ঘণ্টা আগে
লৈঙ্গিক সমতা শুধু একটি সামাজিক আদর্শ নয়, এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৫ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে লৈঙ্গিক বৈষম্য বর্তমানে ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ দূর হয়েছে। তবে বর্তমান অগ্রগতির গতি বজায় থাকলে পূর্ণ সমতা অর্জনে বিশ্বকে আরও ১২৩
২ দিন আগে
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ড. রাজিয়া বানু। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার জন্য যে ৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন সেই কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন তিনি।
২ দিন আগে
বাংলাদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন, যেটি মুসলিম পারিবারিক আইনসংক্রান্ত বহুবিবাহের প্রক্রিয়া। এই রায়ে হাইকোর্ট মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী একজন ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে ‘সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি’ নিতে হবে, এমন বিধান
২ দিন আগে