উত্তরণ

বাংলাদেশ হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন, যেটি মুসলিম পারিবারিক আইনসংক্রান্ত বহুবিবাহের প্রক্রিয়া। এই রায়ে হাইকোর্ট মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী একজন ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে ‘সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি’ নিতে হবে, এমন বিধান বহাল রেখেছেন। একই সঙ্গে সেই বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে জারি করা রুলটিকে খারিজ করেছেন। অর্থাৎ, তা বাতিল করা হয়নি; বরং আইন অনুযায়ী যেভাবে এখন পর্যন্ত প্রথাগতভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করার নিয়ম রয়েছে, সেভাবেই তা বন্ধ না করে বজায় রাখা হয়েছে।
আইনের বাস্তবতা খুব সংক্ষেপে এই, যদি একজন পুরুষের বিয়ে এখনো স্থায়ী থাকে এবং তিনি আরেকজনকে বিয়ে করতে চান, তাহলে তাঁকে ‘সালিশি কাউন্সিল’ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে। এই কাউন্সিল হলো একটি আইনি সংস্থা, যেখানে আবেদনকারীর বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি থাকলে কিংবা না থাকলে নির্ধারিত ফি ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করা হয়। তারপর কাউন্সিল পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেয়। এই প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে কেউ যদি নতুন বিয়ে করে, তাহলে তা আইনত শাস্তিযোগ্য হতে পারে।
আসলে হাইকোর্টের রায়ে কোনো ব্যক্তির দ্বিতীয় বিয়ে করতে স্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। কিন্তু সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়ার ওপর এটি শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থাৎ, স্ত্রীর সম্মতি থাকলে তা আবেদনপত্রে উল্লেখ করা ভালো। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে আইনত জরুরি নয়।
এর ফলে সামাজিক মিডিয়ায় এই রায় নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, হঠাৎ ‘দ্বিতীয় বিয়ে করতে স্ত্রীর অনুমতি নেই’ এটি রায়ের অন্তর্নিহিত পর্যবেক্ষণ থেকে বাইরে প্রচলিত একটি ভুল বক্তব্য। প্রকৃতপক্ষে এটি আইনগত বাস্তবতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা।
এই রায়ের সামাজিক ও নৈতিক প্রভাব রয়েছে। বাংলাদেশে বহুবিবাহ নিয়ে অনেক দিন ধরে সমালোচনা, বিতর্ক এবং আদালতে মামলা হয়েছে। অনেকে মনে করেন, দ্বিতীয় বিয়ে হলে পরিবারের সার্বিক সুরক্ষা, নারীর অধিকার, শিশুর নিরাপত্তা ইত্যাদি ব্যাপারে ক্ষতি হয়ে থাকে। আবার অনেকের মতে, মুসলিম আইন অনুযায়ী একাধিক বিয়ে করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেটি ব্যবহারের আগে মানবিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থাকা উচিত।
হাইকোর্টের রায় যদি আইনগতভাবে কাউন্সিলের অনুমতি বাধ্যতামূলক করে, তাহলে এটি একধরনের নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া হিসেবেও কাজ করে; যেখানে শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে বিয়ে করা যাবে না; সেটি আইনি পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
হাইকোর্টের রায়টি আইনের কাঠামোকে রক্ষা করেছে এবং সামাজিক আলোচনা ও ভুল ধারণার আলোকে আইনি পরিস্থিতি পরিষ্কার করেছে। প্রচার ও শিরোনামে ‘স্ত্রীর অনুমতির অভাবে দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে’ এটাই ভুল ব্যাখ্যা। বরং হাইকোর্ট বলেছেন, দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে ‘সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি’ বাধ্যতামূলক এবং স্ত্রীর সম্মতি মনে হলেও
সেটা নিজেই আদালতে বা কাউন্সিলে আইনি বাধ্যবাধকতা নয়।

৪ জুন ১৮১৭ সাল। পাগলাগারদের নিঃসঙ্গ, নির্জন শীতল কুঠুরিতে মারা গেছেন একজন নারী। যৌবনে তাঁকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাঁর আর বাড়ি ফেরা হয়নি। কেউ তাঁর জন্য অপেক্ষা করে থাকেনি। প্যারিসের সালপেত্রিয়ের এক মানসিক হাসপাতালে জীবনের ২৩টি বসন্ত অবরুদ্ধ থাকার পর মৃত্যুবরণ করলেন ৫৪ বছরের নারী থেরোইন....
১ দিন আগে
বছরের প্রথম ছয় মাসে ঘরে-বাইরে, লোকচক্ষুর অন্তরালে কিংবা প্রকাশ্য রাজপথে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ভঙ্গুর ছিল। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বিশ্লেষণ করলে এই ভয়ংকর চিত্র ফুটে ওঠে।
১ দিন আগে
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আঙ্গারপাড়া গ্রামের খোদেজা আক্তার সুমা ও ইসমাইল হোসেন দম্পতির প্রথম সন্তান ফাতেমা ইসমাঈল কেয়া। ছোটবেলায় কেয়ার বই পড়ার নেশাটা ধরিয়ে দিয়েছিলেন তাঁর মা। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি বানান শেখার জন্য মা তাঁকে অন্যান্য বই পড়তে দিতেন। আর কেয়া তা বানান করে করে পড়তেন।
১ দিন আগে
সেসিল ব্রুনস্বিক ছিলেন বিশ শতকের প্রথম দিকের ফরাসি নারীবাদী কর্মী। তিনি নারীদের ভোটাধিকার আদায় আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন। পাশাপাশি তিনি নারীদের সমান বেতন, শিক্ষার সুযোগ, কর্মসংস্থানের জন্যও আন্দোলন করেন। ফ্রান্সের জাতীয় শিক্ষাবিষয়ক উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
১ দিন আগে