
খেলনা গাড়িটার ভেতরে কী আছে, সেটা দেখতে আস্ত গাড়িটি ছিন্নভিন্ন করে ফেলা। আবার বড় কেউ দেখে ফেলার আগে সেটাকে সারানোর চেষ্টা করা। এমনকি কখনো কখনো আস্ত টিভিই খুলে ভেতরের বিস্ময়কর জগৎ দেখা এবং বড়দের চোখে পড়ার আগে সারিয়ে ফেলার প্রাণান্ত প্রচেষ্টা। এসবের জন্য প্রথমে সবার চোখ যায় সাধারণত ছেলেশিশুদের দিকে। কিন্তু মেয়েদের মধ্যেও যে অনেকে সারাইয়ের কাজ করতে ভালোবাসে, সে খবর আছে?
সাবরিনা নামের মেয়েটির কথাই ধরুন। ছোটবেলা থেকে নানান কিসিমের জিনিসপত্র সাড়াই করতে পছন্দ করতেন। এটা করতে করতে তাঁর মনে হয়েছিল, যেসব জিনিস সাড়াই করা যায়, সেগুলো তো নিজে নিজে বানানোও যায়। তাই বুঝি সাবরিনা কিশোরী বয়সেই আস্ত একটা প্লেন বানিয়ে ফেলেছিলেন! তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৪ বছর। হ্যাঁ, সে বয়সেই সাবরিনা প্লেনের ইঞ্জিন বানিয়ে ফেলেছিলেন। তবে তাঁর প্লেনে চড়ে ঘুরে বেড়াতে একটু সময় লেগেছে। দুই বছরের মধ্যে প্লেন পুরোপুরি বানিয়ে চালানোটাও শিখে নেন। এরপর নিজের বানানো প্লেন নিয়ে মিশিগান লেকের ওপর চক্কর মারেন।
সাবরিনার ছোটবেলা থেকে প্লেন বানানোর ভূত মাথায় চেপেছিল এক কানাডিয়ান তরুণের গল্প জেনে। সেই তরুণও অল্প বয়সে পাইলট হয়েছিলেন। সাবরিনা তাঁর সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে-পড়ে বিশাল এক রচনা লিখেছিলেন। সেই তরুণের মতো হতে চেয়েছিলেন সাবরিনা। কিন্তু সম্ভবত ওই তরুণকে তথা অনেক অনেক প্রতিভাবানকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। নইলে কি আর সবাই তাঁকে ‘নয়া আইনস্টাইন’ বলে ডাকে!
তাঁর পুরো নাম সাবরিনা গনজালেস পাস্তারস্কি। আমেরিকার শিকাগো শহরে ১৯৯৩ সালের ৩ জুন মার্ক পাস্তারস্কির স্ত্রী মারিয়া গনজালেস জন্ম দেন তাঁর এই মেধাবী কন্যাটিকে। তড়িৎ প্রকৌশলী বাবা সব সময় চেয়েছেন যেন মেয়ে তাঁর স্বপ্ন পূরণে পিছপা না হয়। পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া স্বাধীনতাই কাজে লাগিয়েছেন সাবরিনা।
কিছুতেই পড়া মুখস্থ রাখতে পারেন না সাবরিনা। দিন-তারিখ পর্যন্ত ভুলে যান। কিন্তু পদার্থ ও গণিত তো আর মুখস্থ করার বিষয় নয়। সেটা বুঝতে পেরে সাবরিনা এই দুই বিষয়ের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন সেই ছোট্টটি থাকতে। পদার্থবিজ্ঞান আর গণিতের সমস্যার সমাধান হয় সঠিক হবে, নয়তো ভুল হবে। ভুল হলে সমাধানের অন্য উপায় খুঁজতে হবে আবার। এ রকমটাই বিশ্বাস করেন সাবরিনা পাস্তারস্কি।
এমআইটি, অর্থাৎ ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়ার স্বপ্ন দেখেন বিজ্ঞানপ্রেমী শিক্ষার্থীরা। সাবরিনাও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। কিন্তু আবেদন করার পর ছিলেন অপেক্ষমাণ তালিকায়। পরে শিক্ষকেরা তাঁর প্লেন বানানো এবং চালানোর ভিডিও দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। ফলে সঙ্গে সঙ্গে সাবরিনা পেয়ে যান এমআইটিতে পড়ার টিকিট।
সাবরিনাই প্রথম নারী যিনি কম বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন, পেয়েছেন বৃত্তি। তিনি অ্যাকাডেমিক পড়াশোনায় খুব ভালো ফলাফল করেছিলেন। কৃষ্ণগহ্বর, মহাকর্ষীয় বল ইত্যাদি বিষয় তাঁর কাছে খুব সহজ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাও করেছেন এগুলো নিয়ে। গবেষণা করতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, এত দিন খুব কম জানতেন। এই উপলব্ধি তাঁকে আরও স্পৃহা জুগিয়ে দিল, নতুনকে জানতে আগ্রহী করে তুলল।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং নিজের গবেষণায় সাবরিনার কাজের উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন। এসব কারণেই একগাদা সম্মান আর পুরস্কার জিতেছেন তিনি। এ ছাড়া ফোর্বস ম্যাগাজিনের অনূর্ধ্ব ৩০ বিজ্ঞান গবেষকের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন সেই ২০১৫ সালে।
পদার্থবিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের জন্য বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন পেয়েছিলেন নোবেল পুরস্কার। আইনস্টাইনের পরে এখন এ বিষয়ে আলাপ করলে বিজ্ঞানীরা নাকি সাবরিনা গনজালেস পাস্তারস্কির নামটাই উচ্চারণ করেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দাবি করা হচ্ছে, পরবর্তী আইনস্টাইন এই সাবরিনা। আর তাই তাঁকে এখন সবাই ‘নয়া আইনস্টাইন’ নামে চেনে।
সূত্র: ফোর্বস, স্কলারলি কমিউনিটি এনসাইক্লোপিডিয়া এবং ডিসকভারি কানাডা চ্যানেলে প্রচারিত ডেইলি প্ল্যানেট অনুষ্ঠানের তথ্যচিত্র ‘মিট সাবরিনা গনজালেস পাস্তারস্কি একেএ দা নিউ আইনস্টাইন’।

খেলনা গাড়িটার ভেতরে কী আছে, সেটা দেখতে আস্ত গাড়িটি ছিন্নভিন্ন করে ফেলা। আবার বড় কেউ দেখে ফেলার আগে সেটাকে সারানোর চেষ্টা করা। এমনকি কখনো কখনো আস্ত টিভিই খুলে ভেতরের বিস্ময়কর জগৎ দেখা এবং বড়দের চোখে পড়ার আগে সারিয়ে ফেলার প্রাণান্ত প্রচেষ্টা। এসবের জন্য প্রথমে সবার চোখ যায় সাধারণত ছেলেশিশুদের দিকে। কিন্তু মেয়েদের মধ্যেও যে অনেকে সারাইয়ের কাজ করতে ভালোবাসে, সে খবর আছে?
সাবরিনা নামের মেয়েটির কথাই ধরুন। ছোটবেলা থেকে নানান কিসিমের জিনিসপত্র সাড়াই করতে পছন্দ করতেন। এটা করতে করতে তাঁর মনে হয়েছিল, যেসব জিনিস সাড়াই করা যায়, সেগুলো তো নিজে নিজে বানানোও যায়। তাই বুঝি সাবরিনা কিশোরী বয়সেই আস্ত একটা প্লেন বানিয়ে ফেলেছিলেন! তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৪ বছর। হ্যাঁ, সে বয়সেই সাবরিনা প্লেনের ইঞ্জিন বানিয়ে ফেলেছিলেন। তবে তাঁর প্লেনে চড়ে ঘুরে বেড়াতে একটু সময় লেগেছে। দুই বছরের মধ্যে প্লেন পুরোপুরি বানিয়ে চালানোটাও শিখে নেন। এরপর নিজের বানানো প্লেন নিয়ে মিশিগান লেকের ওপর চক্কর মারেন।
সাবরিনার ছোটবেলা থেকে প্লেন বানানোর ভূত মাথায় চেপেছিল এক কানাডিয়ান তরুণের গল্প জেনে। সেই তরুণও অল্প বয়সে পাইলট হয়েছিলেন। সাবরিনা তাঁর সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে-পড়ে বিশাল এক রচনা লিখেছিলেন। সেই তরুণের মতো হতে চেয়েছিলেন সাবরিনা। কিন্তু সম্ভবত ওই তরুণকে তথা অনেক অনেক প্রতিভাবানকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। নইলে কি আর সবাই তাঁকে ‘নয়া আইনস্টাইন’ বলে ডাকে!
তাঁর পুরো নাম সাবরিনা গনজালেস পাস্তারস্কি। আমেরিকার শিকাগো শহরে ১৯৯৩ সালের ৩ জুন মার্ক পাস্তারস্কির স্ত্রী মারিয়া গনজালেস জন্ম দেন তাঁর এই মেধাবী কন্যাটিকে। তড়িৎ প্রকৌশলী বাবা সব সময় চেয়েছেন যেন মেয়ে তাঁর স্বপ্ন পূরণে পিছপা না হয়। পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া স্বাধীনতাই কাজে লাগিয়েছেন সাবরিনা।
কিছুতেই পড়া মুখস্থ রাখতে পারেন না সাবরিনা। দিন-তারিখ পর্যন্ত ভুলে যান। কিন্তু পদার্থ ও গণিত তো আর মুখস্থ করার বিষয় নয়। সেটা বুঝতে পেরে সাবরিনা এই দুই বিষয়ের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন সেই ছোট্টটি থাকতে। পদার্থবিজ্ঞান আর গণিতের সমস্যার সমাধান হয় সঠিক হবে, নয়তো ভুল হবে। ভুল হলে সমাধানের অন্য উপায় খুঁজতে হবে আবার। এ রকমটাই বিশ্বাস করেন সাবরিনা পাস্তারস্কি।
এমআইটি, অর্থাৎ ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়ার স্বপ্ন দেখেন বিজ্ঞানপ্রেমী শিক্ষার্থীরা। সাবরিনাও এর ব্যতিক্রম ছিলেন না। কিন্তু আবেদন করার পর ছিলেন অপেক্ষমাণ তালিকায়। পরে শিক্ষকেরা তাঁর প্লেন বানানো এবং চালানোর ভিডিও দেখে মুগ্ধ হয়ে যান। ফলে সঙ্গে সঙ্গে সাবরিনা পেয়ে যান এমআইটিতে পড়ার টিকিট।
সাবরিনাই প্রথম নারী যিনি কম বয়সে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন, পেয়েছেন বৃত্তি। তিনি অ্যাকাডেমিক পড়াশোনায় খুব ভালো ফলাফল করেছিলেন। কৃষ্ণগহ্বর, মহাকর্ষীয় বল ইত্যাদি বিষয় তাঁর কাছে খুব সহজ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাও করেছেন এগুলো নিয়ে। গবেষণা করতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, এত দিন খুব কম জানতেন। এই উপলব্ধি তাঁকে আরও স্পৃহা জুগিয়ে দিল, নতুনকে জানতে আগ্রহী করে তুলল।
বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং নিজের গবেষণায় সাবরিনার কাজের উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন। এসব কারণেই একগাদা সম্মান আর পুরস্কার জিতেছেন তিনি। এ ছাড়া ফোর্বস ম্যাগাজিনের অনূর্ধ্ব ৩০ বিজ্ঞান গবেষকের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন সেই ২০১৫ সালে।
পদার্থবিজ্ঞানে অসামান্য অবদানের জন্য বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন পেয়েছিলেন নোবেল পুরস্কার। আইনস্টাইনের পরে এখন এ বিষয়ে আলাপ করলে বিজ্ঞানীরা নাকি সাবরিনা গনজালেস পাস্তারস্কির নামটাই উচ্চারণ করেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দাবি করা হচ্ছে, পরবর্তী আইনস্টাইন এই সাবরিনা। আর তাই তাঁকে এখন সবাই ‘নয়া আইনস্টাইন’ নামে চেনে।
সূত্র: ফোর্বস, স্কলারলি কমিউনিটি এনসাইক্লোপিডিয়া এবং ডিসকভারি কানাডা চ্যানেলে প্রচারিত ডেইলি প্ল্যানেট অনুষ্ঠানের তথ্যচিত্র ‘মিট সাবরিনা গনজালেস পাস্তারস্কি একেএ দা নিউ আইনস্টাইন’।

সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘মন জানালা’। ৪০ পেরোনো নারীর মন, শরীর আর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার আকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র ‘থেমে যাওয়া নয়, সময় এখন এগিয়ে যাবার’ শিরোনামে বিশেষ সেশনের আয়োজন করে। ১৬ জানুয়ারি রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
২১ ঘণ্টা আগে
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ইচ্ছা থাকলেও আর্থসামাজিক বাধা ও প্রেক্ষাপটের কারণে নির্বাচনে বেশিসংখ্যক নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া যাচ্ছে না। রাজনীতির মাঠে, বিশেষ করে নির্বাচনে পেশিশক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা—বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়ায়। নারীরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকেন।
৩ দিন আগে
লৈঙ্গিক সমতা শুধু একটি সামাজিক আদর্শ নয়, এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০২৫ সালের সর্বশেষ প্রতিবেদন জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে লৈঙ্গিক বৈষম্য বর্তমানে ৬৮ দশমিক ৮ শতাংশ দূর হয়েছে। তবে বর্তমান অগ্রগতির গতি বজায় থাকলে পূর্ণ সমতা অর্জনে বিশ্বকে আরও ১২৩
৪ দিন আগে
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের ইতিহাসে এক অনন্য নাম ড. রাজিয়া বানু। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান রচনার জন্য যে ৩৪ সদস্যের খসড়া কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তিনি ছিলেন সেই কমিটির একমাত্র নারী সদস্য। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন তিনি।
৪ দিন আগে