ইশতিয়াক হাসান

এখনো মানুষ গুহায় থাকতে পারে, এটা বিশ্বাস হয়? ইরানের উত্তর-পশ্চিমের দুর্গম এলাকায় গেলে আপনি সত্যি দেখা পেয়ে যাবেন আধুনিক যুগের গুহাবাসী মানুষের। দেশটির পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের এই গ্রামের নাম কান্দোভান। ধারণা করা হয়, আজ থেকে ৭০০ বছর আগে গোড়াপত্তন হয় গ্রামটির। এখন পর্যটকদের ভারি প্রিয় এক গন্তব্য এটি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে ও ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, মঙ্গোল সেনাদের থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসে এখানকার গুহায় আশ্রয় নেন এখন কান্দোভানে যারা বাস করছে তাদের পূর্ব-পুরুষেরা। পরে ধীরে ধীরে এটি স্থায়ী আবাস হয়ে যায় তাদের। স্থানীয় ভাষায় এখানকার এই গুহাবাড়িগুলো পরিচিত ‘কারান’ নামে, যার অর্থ মৌমাছির বাসা।
কান্দোভান গ্রামটির চেহারাটা আসলেই অস্বাভাবিক। সাধারণ গুহাবাড়িও বলা মুশকিল একে। দেখে হঠাৎ বিশাল এক উইপোকার কলোনি বলেও মনে হতে পারে একে। আজ থেকে ১১ হাজার বছর আগে মাউন্ট সাহান্দে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হলে সেখানকার ছাইসহ উৎক্ষিপ্ত নানান বস্তু ছড়িয়ে পড়ে এই এলাকায়। পরের বছরগুলোতে ছাই কঠিন হয়ে পাহাড়ের গায়ে এ রকম মোচাকৃতির গুহার মতো কাঠামোর জন্ম হয়।
ধীরে ধীরে নিজেদের প্রয়োজনে এখানকার অধিবাসীরা তাদের এই গুহা-আস্তানার পরিধি বাড়িয়েছে। বেশির ভাগ গুহাবাড়ি দোতলা থেকে চারতলা; যেখানে থাকে শোওয়ার ঘর, গুদাম, পশু-পাখির খোয়াড়। পাথর কুঁদে তৈরি করা হয়েছে জানালা, দরজা, বারান্দা, সিঁড়িসহ এমন অনেক কিছু।
গুহাবাড়িগুলো সব দিক থেকেই বেশ সুবিধাজনক। লম্বা শীতল মাসগুলোতে এই গুহাবাড়ির অভ্যন্তর থাকে অনেক আরামদায়ক। তেমনি গ্রীষ্মেও বাড়িগুলোর ভেতরের আবহাওয়া থাকে বেশ শীতল।
কান্দোভান থেকে কিছু কিছু মানুষ শহরের দিকে চলে গেলেও এখনো প্রায় ৬০০ মানুষের বাস গ্রামটিতে। সর্বশেষ তথ্যে ১২০টির কাছাকাছি পরিবারের বাস সেখানে।
চৌদ্দ শতকের দিকে গ্রামটির গোড়াপত্তন হয় বলে সাধারণভাবে ধারণা করা হয়। তবে কারও কারও ধারণা, সপ্তম শতকের দিকে এখানে মানুষ বসবাসের সূচনা হয়। দু-একটি সূত্রের অবশ্য দাবি, ৭ হাজার বছর আগেও এই গুহাগুলোয় মানুষের বাস ছিল।
এখানকার অধিবাসীদের পানিরও কোনো সমস্যা হয় না। পাশর সাহান্দ পার্বত্য এলাকায় পানির অনেক উৎস আছে। তাই গ্রামটির বাসিন্দারা আশপাশে কৃষিকাজ ও পশু পালন করে ভালোই আয় করে। এখানে আসা পর্যটকদের খাবারের ব্যবস্থা করে এবং তাঁদের কাছে স্থানীয় সব সুন্দর হস্তশিল্পসামগ্রী বিক্রি করেও রোজগার হয়।
জায়গাটি এখন পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তাবরিজে যাঁরা জান তাঁরা এই গুহাগ্রামে একবার ঢুঁ মারতে ভুল করেন না। গুহার মধ্যে কয়েকটি হোটেল-রেস্তোরাঁও তৈরি হয়েছে এখন। সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে গুহাবাড়িগুলো দেখে স্বাদ নিতে পারবেন এখানকার আশ্চর্য জীবনের।
তাবরিজ পূর্ব আজারবাইাজান প্রদেশের রাজধানী । তাবরিজ থেকে কান্দোভানের দূরত্ব বেশি নয়, মোটে ৩৪ মাইল। গাড়িতে চেপে এক ঘণ্টার পথ। চাইলে দিনে গিয়ে দিনেও ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকে পর্যটকেরা। কাজেই ইরানে গেলে আশ্চর্য এই গুহারাজ্য দর্শনের সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবে বলে মনে হয় না।
তবে একটি কথা, কোন সময় এখানে যাওয়া উচিত তা জানা না থাকলে আশাহত হতে পারেন। শীতে ইরানের এই অঞ্চলের আবহাওয়া বড় শীতল। এমনকি তুষারও পড়ে। কাজেই ওই সময়টা সেখানে যাওয়ার জন্য মোটেই ভালো নয়। বসন্তের মাঝামাঝি থেকে সেখানে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়। অক্টোবর পর্যন্ত যেতে পারেন, তখন আবহাওয়া ধীরে ধীরে শীতল হতে শুরু করে।
সূত্র: এটলাস অবসকিউরা, হিস্টরি হিট ডট কম, পেক টু ইরান ডট কম

এখনো মানুষ গুহায় থাকতে পারে, এটা বিশ্বাস হয়? ইরানের উত্তর-পশ্চিমের দুর্গম এলাকায় গেলে আপনি সত্যি দেখা পেয়ে যাবেন আধুনিক যুগের গুহাবাসী মানুষের। দেশটির পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের এই গ্রামের নাম কান্দোভান। ধারণা করা হয়, আজ থেকে ৭০০ বছর আগে গোড়াপত্তন হয় গ্রামটির। এখন পর্যটকদের ভারি প্রিয় এক গন্তব্য এটি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে ও ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, মঙ্গোল সেনাদের থেকে বাঁচতে পালিয়ে এসে এখানকার গুহায় আশ্রয় নেন এখন কান্দোভানে যারা বাস করছে তাদের পূর্ব-পুরুষেরা। পরে ধীরে ধীরে এটি স্থায়ী আবাস হয়ে যায় তাদের। স্থানীয় ভাষায় এখানকার এই গুহাবাড়িগুলো পরিচিত ‘কারান’ নামে, যার অর্থ মৌমাছির বাসা।
কান্দোভান গ্রামটির চেহারাটা আসলেই অস্বাভাবিক। সাধারণ গুহাবাড়িও বলা মুশকিল একে। দেখে হঠাৎ বিশাল এক উইপোকার কলোনি বলেও মনে হতে পারে একে। আজ থেকে ১১ হাজার বছর আগে মাউন্ট সাহান্দে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হলে সেখানকার ছাইসহ উৎক্ষিপ্ত নানান বস্তু ছড়িয়ে পড়ে এই এলাকায়। পরের বছরগুলোতে ছাই কঠিন হয়ে পাহাড়ের গায়ে এ রকম মোচাকৃতির গুহার মতো কাঠামোর জন্ম হয়।
ধীরে ধীরে নিজেদের প্রয়োজনে এখানকার অধিবাসীরা তাদের এই গুহা-আস্তানার পরিধি বাড়িয়েছে। বেশির ভাগ গুহাবাড়ি দোতলা থেকে চারতলা; যেখানে থাকে শোওয়ার ঘর, গুদাম, পশু-পাখির খোয়াড়। পাথর কুঁদে তৈরি করা হয়েছে জানালা, দরজা, বারান্দা, সিঁড়িসহ এমন অনেক কিছু।
গুহাবাড়িগুলো সব দিক থেকেই বেশ সুবিধাজনক। লম্বা শীতল মাসগুলোতে এই গুহাবাড়ির অভ্যন্তর থাকে অনেক আরামদায়ক। তেমনি গ্রীষ্মেও বাড়িগুলোর ভেতরের আবহাওয়া থাকে বেশ শীতল।
কান্দোভান থেকে কিছু কিছু মানুষ শহরের দিকে চলে গেলেও এখনো প্রায় ৬০০ মানুষের বাস গ্রামটিতে। সর্বশেষ তথ্যে ১২০টির কাছাকাছি পরিবারের বাস সেখানে।
চৌদ্দ শতকের দিকে গ্রামটির গোড়াপত্তন হয় বলে সাধারণভাবে ধারণা করা হয়। তবে কারও কারও ধারণা, সপ্তম শতকের দিকে এখানে মানুষ বসবাসের সূচনা হয়। দু-একটি সূত্রের অবশ্য দাবি, ৭ হাজার বছর আগেও এই গুহাগুলোয় মানুষের বাস ছিল।
এখানকার অধিবাসীদের পানিরও কোনো সমস্যা হয় না। পাশর সাহান্দ পার্বত্য এলাকায় পানির অনেক উৎস আছে। তাই গ্রামটির বাসিন্দারা আশপাশে কৃষিকাজ ও পশু পালন করে ভালোই আয় করে। এখানে আসা পর্যটকদের খাবারের ব্যবস্থা করে এবং তাঁদের কাছে স্থানীয় সব সুন্দর হস্তশিল্পসামগ্রী বিক্রি করেও রোজগার হয়।
জায়গাটি এখন পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তাবরিজে যাঁরা জান তাঁরা এই গুহাগ্রামে একবার ঢুঁ মারতে ভুল করেন না। গুহার মধ্যে কয়েকটি হোটেল-রেস্তোরাঁও তৈরি হয়েছে এখন। সামান্য কিছু অর্থ দিয়ে গুহাবাড়িগুলো দেখে স্বাদ নিতে পারবেন এখানকার আশ্চর্য জীবনের।
তাবরিজ পূর্ব আজারবাইাজান প্রদেশের রাজধানী । তাবরিজ থেকে কান্দোভানের দূরত্ব বেশি নয়, মোটে ৩৪ মাইল। গাড়িতে চেপে এক ঘণ্টার পথ। চাইলে দিনে গিয়ে দিনেও ঘুরে আসতে পারেন সেখান থেকে পর্যটকেরা। কাজেই ইরানে গেলে আশ্চর্য এই গুহারাজ্য দর্শনের সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবে বলে মনে হয় না।
তবে একটি কথা, কোন সময় এখানে যাওয়া উচিত তা জানা না থাকলে আশাহত হতে পারেন। শীতে ইরানের এই অঞ্চলের আবহাওয়া বড় শীতল। এমনকি তুষারও পড়ে। কাজেই ওই সময়টা সেখানে যাওয়ার জন্য মোটেই ভালো নয়। বসন্তের মাঝামাঝি থেকে সেখানে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়। অক্টোবর পর্যন্ত যেতে পারেন, তখন আবহাওয়া ধীরে ধীরে শীতল হতে শুরু করে।
সূত্র: এটলাস অবসকিউরা, হিস্টরি হিট ডট কম, পেক টু ইরান ডট কম

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় জঙ্গলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত নতুন করে উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। দেশটির ঝাড়খণ্ড রাজ্যের সারান্ডা বনাঞ্চলে একটি দাঁতাল হাতির হামলায় মাত্র এক সপ্তাহে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
৩ দিন আগে
বলকান অঞ্চলের নস্ত্রাদামুস হিসেবে পরিচিত বুলগেরীয় ভবিষ্যদ্বক্তা বাবা ভাঙ্গা বিশ্বের নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য আলোচিত। এর আগে তিনি, ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা, প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু এবং চীনের উত্থানের মতো ঘটনাও তিনি আগেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন বলে দাবি করা হয়।
৩ দিন আগে
চীনে ৬২ বছর বয়সী এক নারী গর্ভধারণের ছয় মাস পার করছেন। তিনি অনাগত সন্তানকে তাঁর মৃত একমাত্র ছেলের পুনর্জন্ম হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
৪ দিন আগে
জাপানের টোকিওতে ঐতিহ্যবাহী নববর্ষের মাছ নিলামে ইতিহাস গড়ল একটি বিশালাকার ব্লুফিন টুনা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোরে টোকিওর টয়োসু ফিশ মার্কেটে অনুষ্ঠিত নিলামে বিক্রি হওয়া ওই প্যাসিফিক ব্লুফিন টুনাটির ওজন ছিল ২৪৩ কেজি।
৭ দিন আগে