
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ভারসাম্য ও সঠিক ভঙ্গিমা বজায় রাখা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বয়স্কদের মধ্যে হঠাৎ পড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এই পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতে নতুন এক সহায়ক ডিভাইস তৈরি করেন জাপানের গবেষকেরা।
বয়স্কদের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার পেছনে কাজ করে একাধিক কারণ—পেশি ও দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং শরীরের অবস্থান শনাক্ত করার ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়া। এই পরিবর্তনগুলোর ফলে বয়স্করা অনেক বেশি হারে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর প্রায় ৪০ শতাংশ বয়স্ক মানুষ অন্তত একবার পড়ে যান, যার ফলে অনেক সময় গুরুতর চোটও লাগে।
অনেক দিন ধরেই চিকিৎসক ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, ভারসাম্য রক্ষার অনুশীলন বা ব্যালান্স ট্রেনিং এই ঝুঁকি কমাতে কার্যকর। এই অনুশীলন মানুষকে হঠাৎ ধাক্কা খাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত শরীরকে সামলাতে শেখায়।
তবে ভারসাম্য অনুশীলনের প্রচলিত যন্ত্রপাতিগুলো বেশ বড়, দামি এবং জটিল হওয়ায় তা ঘরে বসে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না, যা অনেককে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন থেকে দূরে রাখে।
তবে এই চিত্র বদলে দিতে পারে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন। টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক মাসাতাকা ইয়ামামতো এবং তাঁর গবেষণা দল এমন এক ধরনের হালকা ও সহজে পরিধানযোগ্য ভারসাম্য অনুশীলন ডিভাইস ডব্লিউবিইডি (WBED) তৈরি করেন। গবেষণাটি ২০২৩ সালে আইইইই জার্নাল অব ট্রান্সলেশনাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন হেলথ অ্যান্ড মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছে।
ডব্লিউবিইডি কী
ডব্লিউবিইডি বা ওয়্যারেবল ব্যালান্স এক্সারসাইজ ডিভাইস দেখতে অনেকটা সাসপেন্ডার বেল্টের মতো, যা শরীরকে অল্প করে অপ্রত্যাশিতভাবে এক পাশ থেকে অন্য পাশে কাত করে। এতে দুটি কৃত্রিম পেশি রয়েছে, যা ব্যবহারকারীর শরীরকে সামান্য নড়াচড়া করিয়ে তার ভারসাম্য ধরে রাখার প্রতিক্রিয়া অনুশীলন করায়।
বাস্তব জীবনের মতো হঠাৎ শরীর কেঁপে ওঠার পরিস্থিতিতে কীভাবে ভারসাম্য ধরে রাখতে হয়, ডব্লিউবিইডি সে অভ্যাস গড়ে তোলে। এটি সহজে বহনযোগ্য, হালকা এবং ঘরেই ব্যবহারের উপযোগী, যা অন্যান্য ভারী যন্ত্রপাতির তুলনায় অনেক সুবিধাজনক।
গবেষণায় ডিভাইসটির কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য ১৮ জন সুস্থ পুরুষের ওপর একটি পরীক্ষা চালানো হয়। তাঁদের দুটি দলে ভাগ করা হয়—এক দল ডব্লিউবিইডি দিয়ে অনুশীলন করে, আরেক দল একটি ‘ডামি’ ডিভাইস ব্যবহার করে, যা কোনো ভারসাম্য পরিবর্তন ঘটায় না।
প্রশিক্ষণ শুরুর আগে ও শেষে সবার ভারসাম্য যাচাই করা হয়। পরীক্ষার পর দেখা যায়, যারা ডব্লিউবিইডি ব্যবহার করেছে, তাদের হঠাৎ ধাক্কা খাওয়ার পরিস্থিতিতে ভারসাম্য ধরে রাখার ক্ষমতা বেড়েছে। এর মানে, ডিভাইসটি শরীরকে অপ্রত্যাশিত নড়াচড়ার সময় সঠিকভাবে প্রতিক্রিয়া করতে সাহায্য করে।
ডব্লিউবিইডি প্রতিদিন ব্যবহার করলে বয়স্কদের ভারসাম্য উন্নত হতে পারে। ফলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং তাতে চোট পাওয়ার সম্ভাবনাও কমবে।
এটি সহজে ব্যবহারযোগ্য ও বাড়িতেই কাজ করে। ফলে ভারসাম্য অনুশীলনকে অনেক বেশি সহজ ও সবার জন্য সুলভ করে তোলে।
শুধু বয়স্করাই নন, এটি অ্যাথলেটদের জন্যও উপকারী
জিমন্যাস্টিকস, ফুটবল ও বাস্কেটবলের মতো খেলায় ভারসাম্য এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডব্লিউবিইডি ব্যবহার করে অ্যাথলেটরাও তাঁদের প্রতিক্রিয়া শক্তি ও পারফরম্যান্স উন্নত করতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বয়স্ক মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে। এর ফলে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে বাঁচতে সহায়ক প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ছে।
জাপানের মতো দেশে, যেখানে বয়স্ক জনসংখ্যা বেশি, ডব্লিউবিইডির মতো প্রযুক্তি মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের গুণগত মান উন্নত করতে পারে।
ডব্লিউবিইডি কেবল বয়স্কদের স্বাস্থ্য ও পুনর্বাসনের জন্য আশার আলো নয়, বরং ভারসাম্য অনুশীলনে আগ্রহী যেকোনো মানুষের জন্যই এটি ভবিষ্যতের পথ দেখায়।
তথ্যসূত্র: নোরিডজ সায়েন্স

জাপানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি বা এআই চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’ ব্যবহার করে সাইবার হামলার উপযোগী সফটওয়্যার তৈরির অভিযোগে ১৫ বছর বয়সী এক হাইস্কুল শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই সাইবার হামলার কারণে জাপানের জনপ্রিয় এনিমে স্ট্রিমিং সেবা ‘বান্দাই চ্যানেল’-এর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং
৩ ঘণ্টা আগে
রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি আরও জানান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান টেলিটক কিনতে বা অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করলেও সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে বিক্রি না করে আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেবে।
১ দিন আগে
ফুটবল শুধু ২২ জনের শারীরিক কসরত নয়, এটি আসলে মানুষের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বা বোঝাপড়ার জটিল এক মনস্তাত্ত্বিক খেলা। বিশ্ব ফুটবলে যুগে যুগে কত কৌশল, তত্ত্ব ও ট্যাকটিক্যাল সিস্টেমের যে জন্ম হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই।
১ দিন আগে
আমরা এরই মধ্যে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, টাচ স্ক্রিন প্রযুক্তি পেয়ে গেছি। এগুলো দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তি এবং অনুভবের প্রযুক্তিগত প্রয়োগ। তবে বিজ্ঞানীরা এখন কাজ করছেন ঘ্রাণশক্তি নিয়ে। সম্প্রতি গবেষকেরা তৈরি করেছেন ইলেকট্রিক নাক বা ই-নাক।
১ দিন আগে