
বিশ্বজুড়ে অনলাইন প্রতারণাকারীদের দ্বিতীয় প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছে ভারত। মেটা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রতারণা চক্রগুলোর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ভারত। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘সেমি-অ্যানুয়াল অ্যাডভারসারিয়াল থ্রেট রিপোর্ট’-এ বিষয়টি তুলে ধরেছে মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে, সাইবার অপরাধীরা অত্যন্ত পেশাদার ও সংঘবদ্ধভাবে সাধারণ অনলাইন ব্যবহারকারীদের টার্গেট করছে। নিজেদের কাজের পরিধি, গতি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতারকেরা এমনভাবে ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো সাজাচ্ছে যা দেখলে বিশ্বাসযোগ্যই মনে হবে। অন্যান্য ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করতে আসল মনে হয় এমন প্রোফাইল ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করছে। এছাড়া প্রতারণার ক্ষেত্রে তারা ‘হাইপার-পার্সোনালাইজড’ এবং ‘সাংস্কৃতিক সংবেদনশীল’ ভাষা ও ভঙ্গি ব্যবহার করছে।
মেটার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অপরাধী চক্রগুলো সবচেয়ে বেশি টার্গেট করছে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ইংরেজিভাষী ব্যবহারকারীদের। এরপরই রয়েছে ভারতের অবস্থান। এর পরের তালিকায় আছে চীন, তাইওয়ান, হংকং ও সিঙ্গাপুরের মান্দারিনভাষী ব্যবহারকারীরা। এর ঠিক পরেই রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনলাইন জগতে আর্থিক প্রতারণা এখন অন্যতম স্থায়ী এবং পরিবর্তনশীল এক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এসব কর্মকাণ্ডের চাতুর্য ও ব্যাপ্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। কিছু অপরাধী চক্র এখন অনেকটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মতো বিশেষায়িত বিভাগ, প্রশিক্ষণ ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। এর ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষে তাদের নজরদারি করা বা শনাক্ত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
মেটার প্রতিবেদন বলছে, এই চক্রগুলোর মধ্যে যেমন সুযোগসন্ধানী ব্যক্তিরা রয়েছে, তেমনি রয়েছে অত্যন্ত দক্ষ ‘ক্রিমিনাল স্ক্যাম সিন্ডিকেট’ (সিএসএস)। নিজেদের বৈধ প্রমাণ করতে এবং শনাক্তকরণ ব্যবস্থা এড়িয়ে চলতে তারা নিয়মিত তাদের কৌশল ও পদ্ধতি পরিবর্তন করছে।
প্রতারণাগুলো হচ্ছে যেভাবে
১. অগ্রিম অর্থ নেওয়ার প্রতারণা
২. বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতারণা
৩. জুয়া বা গ্যাম্বলিং স্ক্যাম
৪. প্রেমের ফাঁদে ফেলার প্রতারণা
৫. ইউজার সাপোর্ট বা সেবা সংক্রান্ত প্রতারণা
৬. সেলিব্রিটি পরিচয়ে প্রতারণা
৭. সরকারি পরিচয়ে প্রতারণা
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রেম ও বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতারণায় জড়িত অপরাধী চক্রগুলো নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে আকর্ষণীয় জীবনযাপনের ছবি বা ভিডিও পোস্ট করে। এরপর যখন ব্যবহারকারী তাদের ওপর আস্থা পান, তখন প্রতারকেরা মেসেজিং অ্যাপে বা প্ল্যাটফর্মের বাইরের যোগাযোগমাধ্যমে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রতারণার ফাঁদে ফেলে।
মেটা জানিয়েছে, সম্প্রতি তারা পাকিস্তানভিত্তিক এমন একটি অভ্যন্তরীণ প্রতারণা চক্র শনাক্ত ও নস্যাৎ করেছে। এই চক্রটি মূলত বাইরের ওয়েবসাইট এবং ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইল ব্যবহার করে নিজেদের কর্মকাণ্ড প্রচার করত। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, প্রতারকেরা এখন বিভিন্ন ভাষায় কনটেন্টের গুণগত মান ও ধারাবাহিকতা রক্ষায় এআই-এর সহায়তা নিচ্ছে এবং স্থানীয়ভাবে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্য করতে অন্যের ছবি বা পরিচয় চুরি করছে।
এ ছাড়া মাদক পাচারকারী গোষ্ঠী ও কার্টেলগুলোও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তারা নিয়োগ, সমন্বয়, চাঁদাবাজি, পাচার এবং প্রপাগান্ডা চালানোর জন্য অনলাইন সেবা ব্যবহার করার চেষ্টা করছে, যা সমাজে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মেটা জানিয়েছে, ২০২৫ সালে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং বিপজ্জনক সংগঠন ও ব্যক্তির বিষয়ে নীতি লঙ্ঘনের দায়ে তারা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ১ কোটি ৯ লাখ অ্যাকাউন্ট, ৬ লাখ ফেসবুক পেজ এবং ১ লাখ ১২ হাজার বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্ট অপসারণ করেছে।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অন্যতম পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। একযোগে অনেক প্রজেক্টে কাজ করার নীতি থেকে সরে এসে কোম্পানিটি এখন কোডিং ও ব্যবসায়িক ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।
১৫ ঘণ্টা আগে
বিশ্বজুড়ে এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) রাজত্ব। এ অবস্থায় উদ্বেগ বেড়ে গিয়েছে ভারতের প্রযুক্তি খাতের। ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যাক-অফিস বা আউটসোর্সিং শিল্পকে ধ্বংস করে দিতে পারে এআই—এমন আশঙ্কায় গত কয়েক সপ্তাহে ভারতের প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে নজিরবিহীন ধস নেমেছে।
১ দিন আগে
রাজশাহীর একটি হাসপাতালে গত বছর অদ্ভুত এক মুহূর্ত এসেছিল। রোগীর এক্স-রে রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে চিকিৎসক যা ধরতে পারেননি, একটি সফটওয়্যার সেটা ধরে ফেলল চোখের পলকে। চিকিৎসক অবাক হলেন না। শুধু বললেন, ‘এটাই এখন সময়ের দাবি।’
১ দিন আগে
স্মার্টফোন ও প্রযুক্তিশিল্পে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাব ঘটছে। স্মার্টফোনকে ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা যাচ্ছে। কোথাও স্মার্টফোনে ড্রোন ব্যবস্থা, কোথাও লুকানো ক্যামেরা। আবার কোনো কোনো স্মার্টফোনে দেখা মিলছে কুলিং ফ্যান। তবে এবার দেখা মিলল সম্পূর্ণ ভিন্ন কিছু।
১ দিন আগে