বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বার্তায় এ কথা জানায় তারা।
সংবাদ বার্তায় বলা হয়, বর্তমানে দুটি সাবমেরিন কেবল সিস্টেমের সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭ হাজার ২০০ জিবিপিএস। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ ইতিমধ্যে দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং আরও প্রায় তিন হাজার ১০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা বিএসসিপিএলসির রয়েছে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
সংস্থাটির অভিযোগ, সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যম বিএসসিপিএলসির মতামত গ্রহণ না করেই সাবমেরিন কেবল ব্যবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এবং সম্ভাব্য ব্যান্ডউইডথ ঘাটতি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
বিএসসিপিএলসির তথ্য অনুযায়ী, মোট সাত হাজার ২০০ জিবিপিএস সক্ষমতার মধ্যে মাত্র ১০০ জিবিপিএস লোহিত সাগর হয়ে যায়, যা মোট সক্ষমতার মাত্র এক দশমিক ৩৪ শতাংশ। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদ্যমান কোনো কেবলের সংযোগ নেই। অবশিষ্ট সাত হাজার ১০০ জিবিপিএসের মধ্যে সিঙ্গাপুরে ছয় হাজার জিবিপিএস এবং চেন্নাইয়ে এক হাজার ১০০ জিবিপিএস সংযোগ রয়েছে, যা হরমুজ বা বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নির্ভরশীল নয়। ফলে ‘হুতি বিদ্রোহী বা ইরানের আঘাতে বাংলাদেশ ডিজিটাল অন্ধকারে পড়তে পারে’—এমন প্রচারণা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিএসসিপিএলসি। দেশের আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংযোগের প্রধান সরকারি সংস্থা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দুটি সাবমেরিন কেবল সিস্টেম সিমিউই-৪ (SEA-ME-WE-4) এবং সিমিউই-৫ (SEA-ME-WE-5) পরিচালনা করছে।
কিছু গণমাধ্যমে সিমিউই-৫ কেবলের সক্ষমতা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি ভুল বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে এই কেবলের সক্ষমতা ২ হাজার ২০০ জিবিপিএস, যার মধ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে ১ হাজার ৪৮৮ জিবিপিএস। অর্থাৎ এখনো ৭১২ জিবিপিএস অব্যবহৃত সক্ষমতা রয়েছে। কেবলটির আয়ুষ্কাল ২০৩৭ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা করে তা আরও বাড়ানো সম্ভব।
অন্যদিকে সিমিউই-৪-কে ‘জীবনকালের শেষ পর্যায়ে থাকা পুরোনো কেবল’ হিসেবে উপস্থাপন করে অযথা আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিএসসিপিএলসি। বর্তমানে এই কেবলের সক্ষমতা ৪ হাজার ৬৫০ জিবিপিএস এবং এর মাধ্যমে প্রায় দুই হাজার ৫৯৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করা হচ্ছে। কনসোর্টিয়াম কর্তৃক এর আয়ুষ্কাল ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে এবং তা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
বিএসসিপিএলসি জানিয়েছে, দেশের ভবিষ্যৎ চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে তারা ইতিমধ্যে আরও একটি সাবমেরিন কেবল সিস্টেম সিমিউই-৬ বাস্তবায়ন করছে। ২০২৭ সালের শুরুতে এই কেবল চালু হলে কক্সবাজার-সিঙ্গাপুর এবং কক্সবাজার-মুম্বাই প্রান্তে প্রায় ১৫ হাজার জিবিপিএস করে মোট ৩০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা অর্জিত হবে। এর ফলে ২০২৭ সালের মধ্যে রাষ্ট্রীয় সাবমেরিন কেবলগুলোর মোট সক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ৩৮ হাজার জিবিপিএস।
বিএসসিপিএলসি জানিয়েছে, দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইডথ চাহিদা পূরণে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ সরবরাহে বর্তমানে কিংবা ভবিষ্যতে কোনো ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলেও আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।

মাইক্রোস্কোপে ধারণ করা বৈজ্ঞানিক ছবি ও ভিডিও নিয়ে আয়োজিত মর্যাদাপূর্ণ নিকন ‘স্মল ওয়ার্ল্ড ইন মোশন’ প্রতিযোগিতার এবারের বিজয়ী ছবি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতার অন্য কয়েকজন বিজ্ঞানী অভিযোগ করেছেন, বিজয়ী ভিডিওটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের এমন ব্যবহার হয়েছে, যা প্রতিযোগিতার নিয়মের...
৭ ঘণ্টা আগে
এআই মডেলকে জৈব অস্ত্র তৈরি ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করে উত্তর বের করেছে চীনের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। এআই নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এ ঘটনা। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চীনের এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মুনশটের একদল গবেষক নিজেদের জনপ্রিয় দুটি ‘কিমি’ (Kimi) এআই মডেলকে প্রলুব্ধ করে
২ দিন আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা একটি স্বেচ্ছাধীন চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। ‘জয়েস কমেন্টমেন্ট অন ফ্রন্টিয়ার রেসপন্সিবিলিটিজ’ নামের এই চুক্তির মাধ্যমে
২ দিন আগে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উন্নত মডেলগুলো মানবজাতির জন্য ‘বিপর্যয়কর’ এমনকি ‘অস্তিত্বের জন্য হুমকি’ তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। শেয়ারবাজারে আইপিওর মাধ্যমে বিনিয়োগ সংগ্রহের প্রস্তুতির মধ্যেই কোম্পানিটি এই সতর্কবার্তা দিয়েছে।
২ দিন আগে