একসময় পোষা পাখির পায়ে চিঠি বেঁধে খবর পৌঁছে দেওয়া হতো নির্দিষ্ট মানুষের কাছে। মাসের পর মাস দেখা কিংবা কথা হতো না অনেকের সঙ্গে। একসময় এল ল্যান্ডফোন, তারপর এসেছে স্মার্টফোন। তখন আমরা অনেকের মোবাইল ফোন নম্বর মুখস্থ রাখতে পারতাম। এখন সব থাকে স্মার্টফোনের মেমোরিতে। আমরা নম্বরগুলো আর মুখস্থ করি না। আগে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য লোকজনকে জিজ্ঞেস করে পথ চিনে নিতে হতো। এখন জিপিএস ছাড়া আমরা প্রায় অন্ধ। প্রযুক্তির এই সহজলভ্যতা জীবনকে আরামদায়ক করেছে। কিন্তু এর বিনিময়ে আমাদের মস্তিষ্ক তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন।
সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কিংবা এআইয়ের (যেমন চ্যাটজিপিটি বা ক্লড) ব্যাপক ব্যবহার বিজ্ঞানীদের মনে এক নতুন দুশ্চিন্তার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, আমরা কি সৃজনশীলতা, স্মৃতিশক্তি এবং যৌক্তিক চিন্তার ক্ষমতা রোবটের হাতে তুলে দিচ্ছি? এআই হয়তো নিখুঁত কবিতা লিখে দিতে পারে অথবা চমৎকার কোডিং করতে পারে। কিন্তু মানুষের মতো ‘ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা’ আর ‘অপ্রত্যাশিত সংযোগ’ ঘটানোর ক্ষমতা তার নেই। ভবিষ্যতের পৃথিবীতে সেসব মানুষের মূল্যই বেশি হবে, যারা রোবটের চিন্তার বাইরে গিয়ে নতুন কিছু ভাবতে পারবে।
বিজ্ঞানীদের মতে, মস্তিষ্ক অনেকটা শরীরের পেশির মতো। পেশি ব্যবহার না করলে যেমন তা শুকিয়ে যায়, মগজ দিয়ে খাটাখাটুনি না করালে তার কার্যক্ষমতাও কমে যায়। জিপিএস ব্যবহারের ফলে মানুষের স্থানিক স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার প্রমাণ অনেক আগে মিলেছে। একে বলা হয় গুগল ইফেক্ট।
যে তথ্য ইন্টারনেটে খুব সহজে পাওয়া যায়, আমাদের মস্তিষ্ক তা মনে রাখার কোনো প্রয়োজন বোধ করে না। এআইয়ের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরও বড়। এটি শুধু তথ্য খুঁজে দেয় না, বরং আপনার হয়ে চিন্তা করে দেয়। ই-মেইল লেখা, প্রেজেন্টেশন তৈরি কিংবা কোনো জটিল সমস্যার সমাধানসহ অনেক কাজ এআই করে দিচ্ছে। এর ফলে আমাদের মস্তিষ্ক সেই বুদ্ধিবৃত্তিক ঘর্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা আমাদের বুদ্ধি শাণিত রাখে। বলতে গেলে বিষয়টা জিমে যাওয়ার পর রোবট দিয়ে অনেকটা ভারোত্তোলন করানোর মতো। অথবা রেইনকোট গায়ে বৃষ্টিতে ভেজার মতো। তবে কাজটা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু আপনার নিজের কোনো ব্যায়াম হচ্ছে না।
একটা সময় সেই সব মানুষকে স্মার্ট বলা হতো, যারা প্রচুর পড়াশোনা করে অনেক তথ্য মনে রাখতে পারত এবং সময়মতো সেগুলো চমৎকারভাবে ব্যবহারে সক্ষম হতো। গল্পের ফেলুদা কিংবা শার্লক হোমস তো আছেই, এমন স্মার্ট মানুষ ছিল আমাদের আশপাশেও। অনেকে এখন মনে করছেন, এখন সেই মানুষগুলোর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে কমে যাচ্ছে তথ্য কিংবা সৃজনশীল কাজের বৈচিত্র্য। এটা কি এআই বা এমন প্রযুক্তির জন্য? উত্তরটা খুব সরল নয়। তাই এআই ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকতে হবে।
এআই ব্যবহার বন্ধ করার প্রয়োজন নেই, তবে তা ব্যবহারের ধরনে পরিবর্তন আনা জরুরি। কী করবেন কিংবা কীভাবে করবেন, তাই ভাবছেন তো? জেনে নিন—
১. প্রথমে এআইকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা বন্ধ করুন। মানুষ অনেক সময় নিজের যুক্তির চেয়ে এআইয়ের ভুল উত্তরের ওপর বেশি ভরসা করে। একে বলা হয় কগনিটিভ সারেন্ডার বা বৌদ্ধিক আত্মসমর্পণ। কোনো বিষয়ে এআইয়ের মতামত নেওয়ার আগে নিজের মাথায় একটি প্রাথমিক ধারণা তৈরি করুন। রোবটকে আপনার চিন্তা প্রতিস্থাপনের জন্য ব্যবহার না করে তাকে আপনার চিন্তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য ব্যবহার করুন।
২. গবেষণা করার ক্ষেত্রে একটু পরিশ্রমী হোন। সহজে পাওয়া তথ্য দ্রুত ভুলে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মনে রাখতে হলে এআইয়ের দেওয়া উত্তরগুলো হাত দিয়ে বা টাইপ করে নোট নিন। আপনাকে কুইজ করতে এআইকে বলুন নির্দেশ দিতে। তথ্যের সঙ্গে মস্তিষ্কের যত বেশি সংঘর্ষ হবে, সেটি তত বেশি দিন মনে থাকবে।
৩. সৃজনশীল কাজের শুরুতে এআই ব্যবহার করলে আপনার আইডিয়াগুলো গতানুগতিক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কোনো লেখা বা আইডিয়া তৈরি করার সময় আগে নিজে চিন্তা করুন। খসড়াটি কাঁচা হলেও ক্ষতি নেই; তবে নিজের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি থেকে নতুন কিছু বের করে আনার এই চেষ্টাই হলো মস্তিষ্কের আসল ব্যায়াম। এরপর সেটিকে আরও উন্নত করার করার জন্য এআইয়ের সাহায্য নিতে পারেন।
৪. সবকিছু শর্টকাট করার নেশা আমাদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। বড় কোনো লেখা এআই দিয়ে সামারি না করে নিজেই পড়ার জন্য ধৈর্য ধরুন। জটিল সমস্যার সমাধান রোবটকে জিজ্ঞেস করার আগে অন্তত ১০ মিনিট নিজে ভাবুন। এই অস্বস্তিটুকু সহ্য করার ক্ষমতা আপনার মগজকে গভীর চিন্তায় দক্ষ করে তুলবে।
৫. প্রযুক্তির অ্যালগরিদম ডিজাইন করা হয়েছে মানুষের মনোযোগ সেদিকে টেনে নেওয়ার জন্য। আপনি যখন অনলাইনে থাকেন, তখন কী দেখছেন আর কী ভাবছেন, তার ওপর যেন আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকে। নিশ্বাসের ব্যায়াম কিংবা বর্তমান মুহূর্তে সচেতন থাকার চর্চা আপনাকে অ্যালগরিদমের দাস হওয়া থেকে রক্ষা করবে।
সূত্র: বিবিসি, সাইকোলজি টুডে

একসময় যা ছিল কম্পিউটার স্ক্রিনের আড়ালে থাকা যুদ্ধ, তা এখন আক্ষরিক অর্থে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থেকে শুরু করে বাড়ির ঠিকানা—সবই এখন হ্যাকারদের নখদর্পণে। ফলে এখন আপনার মনে হতেই পারে, কেউ সারাক্ষণ আপনাকে চোখে চোখে রাখছে!
২ ঘণ্টা আগে
পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ চীন। পরিত্যক্ত খনি এলাকাগুলোকে সবুজ জ্বালানি ও টেকসই শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। এর উদাহরণ দেখা যাচ্ছে হুবেই প্রদেশের তাইয়্য শহরে।
২ ঘণ্টা আগে
২০০৭ সালে অ্যাপল যখন প্রথম আইফোন বাজারে আনে, তখন স্মার্টফোনের দুনিয়া থেকে ফিজিক্যাল বাটন বা বোতামওয়ালা কি-বোর্ডগুলো কার্যত বিদায় নিয়েছিল। টাচস্ক্রিনের জাদুতে ব্ল্যাকবেরির মতো বাটন ফোনের রাজত্ব শেষ হয়ে গিয়েছিল দ্রুতই।
৩ ঘণ্টা আগে
বর্তমান যুগে তথ্যই সব। তবে ব্যক্তিগত তথ্য একবার চুরি হয়ে গেলে, যেকোনো ধরনের দুর্যোগ নেমে আসতে পারে। এদিকে আমরা এতটাই যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়েছি যে ব্যক্তিগত ছবি ও বিভিন্ন ডেটাও ডিভাইসবন্দী করে রাখি।
৪ ঘণ্টা আগে