Ajker Patrika

সম্পর্কের পরামর্শে মানুষের চেয়ে এআইতে বেশি ভরসা জাপানি প্রবীণ নারীদের: সমীক্ষা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ১৫: ৩৩
সম্পর্কের পরামর্শে মানুষের চেয়ে এআইতে বেশি ভরসা জাপানি প্রবীণ নারীদের: সমীক্ষা
বয়স্ক নারীরা ব্যক্তিগত পরামর্শ হিসেবে এআইকে বেছে নিচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত

জাপানে প্রবীণ নারীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পারিবারিক বা সম্পর্কের টানাপোড়েনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে মানুষের চেয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’-এর পরামর্শ নিতে বেশি পছন্দ করছেন। সম্প্রতি দেশটিতে পরিচালিত এক নতুন জরিপে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এটিকে মানুষের মানসিক সাহচর্য ও কাউন্সেলিংয়ের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আস্থার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন বলে মনে করা হচ্ছে।

জাপানি সংবাদ সংস্থা ‘কিয়োদো নিউজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জাপান ইনস্টিটিউট ফর প্রমোশন অব ডিজিটাল ইকোনমি অ্যান্ড কমিউনিটি’ নামক একটি সংস্থার পরিচালিত অনলাইন জরিপে দেখা গেছে, ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী জাপানি নারীদের প্রায় অর্ধেকই (৪৭.৮ শতাংশ) সম্পর্কের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষের চেয়ে এআইয়ের শরণাপন্ন হতে বেশি আগ্রহী।

বিপরীতে সমবয়সী প্রবীণ নারীদের মধ্যে মাত্র ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাঁরা এ ধরনের ব্যক্তিগত বিষয়ে কোনো রক্তমাংসের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, বয়স ও লিঙ্গভেদে মানুষের এআই-প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতার ক্ষেত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে। সব বয়সী নারী-পুরুষের সামগ্রিক হিসাবে অবশ্য এখনো মানুষের ওপর আস্থা বেশি। জরিপে অংশ নেওয়া ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ মানুষের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ৩৬ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ এআইয়ের পক্ষপাতহীনতা এবং বস্তুনিষ্ঠতার কারণে প্রযুক্তিকে বেছে নিয়েছেন।

দেখা গেছে, বয়স্ক নারীদের তুলনায় প্রবীণ পুরুষদের মনোভাব সম্পূর্ণ বিপরীত। ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পুরুষদের ৫৭ শতাংশই ব্যক্তিগত পরামর্শের জন্য মানুষের ওপর ভরসা রাখার কথা বলেছেন, যেখানে মাত্র ২৫ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ এআইকে বেছে নিয়েছেন।

প্রবীণদের মধ্যে কেন এই প্রবণতা

এআই ও মানব স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং চিবা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আৎসুশি নাকাগোমি প্রবীণ নারীদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানান, এই বয়সীদের এই ধরনের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত কিন্তু অর্থবহ।

গবেষক নাকাগোমির মতে, ‘মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন যে অন্যজন তাঁর কথাকে কীভাবে মূল্যায়ন বা বিচার করছেন। কিন্তু এআইয়ের কাছে মানুষ কোনো দ্বিধা বা সামাজিক সংকোচ ছাড়াই নিজের মনের গোপন কথা খুলে বলতে পারেন। কারণ, তাঁরা জানেন এআই তাঁদের কোনো ভুল ধরবে না বা তাঁদের নিয়ে কোনো বিরূপ ধারণা পোষণ করবে না।’

চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে জরিপটি অনলাইনে পরিচালনা করা হয়। এতে জাপানের ১৮ থেকে ৭৯ বছর বয়সী ১ হাজার ৪৪৯ জন নাগরিক অংশ নেন।

বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের মতো একটি অতি বার্ধক্যে আক্রান্ত সমাজে একাকিত্ব দূরীকরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার আগামী দিনগুলোতে আরও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত