Ajker Patrika

‘ক্রিকেটের প্রযুক্তি’ যেভাবে বাঁচিয়ে দিল রোনালদোদের

ক্রীড়া ডেস্ক    
‘ক্রিকেটের প্রযুক্তি’ যেভাবে বাঁচিয়ে দিল রোনালদোদের
স্নিকো প্রযুক্তিতেই মাতানোভিচের অফসাইড ধরা পড়ে। গোল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত হেরে যায় ক্রোয়েশিয়া। ছবি: সংগৃহীত

ক্রোয়েশিয়ার শেষ মুহূর্তে পাওয়া সমতা ফেরানো গোল বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে ভিএআর ও স্নিকো প্রযুক্তির ভূমিকা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অতিরিক্ত সময়ের ১৩তম মিনিটে ইয়োসকো ভার্দিওলের গোল বাতিল হওয়ার ঘটনাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

ম্যাচের ওই মুহূর্তে ভার্দিওল খুব কাছ থেকে বল জালে পাঠিয়ে স্কোরলাইন ২-২ করেন। এতে মনে হয়েছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে। কিন্তু পরবর্তীতে ভিএআরের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি পাল্টে দেয়।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল আক্রমণ শুরুর পর্যায়ে ক্রোয়েশিয়ার ইগর মাতানোভিচের ভূমিকা। তিনি বলটিতে মাথা লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন কি না, সেটিই সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে দেয়। বলে স্পর্শ হলে গোল বাতিল হবে, না করলে গোল বৈধ থাকবে—এমন সমীকরণে ভিডিও রিপ্লেতে বিষয়টি স্পষ্ট না হলেও পরবর্তীতে স্নিকো প্রযুক্তির তথ্য ব্যবহার করে সিদ্ধান্তে পৌঁছান রেফারি এসপেন এসকাস। প্রযুক্তির ডেটায় স্পাইক দেখা যায়। যা ইঙ্গিত করে বল স্পর্শ হয়েছিল।

এই স্নিকো প্রযুক্তি মূলত বলের সঙ্গে কোনো খেলোয়াড়ের স্পর্শ হয়েছে কি না তা শনাক্ত করে। ক্রিকেটে এটি বহুল ব্যবহৃত, যেখানে শব্দ তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে ব্যাটে বল লাগার বিষয়টি নির্ধারণ করা হয়। ফুটবলে ২০২২ বিশ্বকাপ, ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপসহ চলমান টুর্নামেন্টগুলোতেও একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

ফিফার মতে, অ্যাডিডাসের ট্রিওন্ডা ম্যাচ বলের ভেতরে থাকা সেন্সর বল স্পর্শ হওয়ার মুহূর্ত শনাক্ত করে এবং তা রিয়েল টাইমে ভিএআরে পাঠায়। সেই ডেটার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত আসে যে বলটি স্পর্শ হয়েছিল এবং ক্রোয়েশিয়ার একজন খেলোয়াড় অফসাইড অবস্থায় ছিলেন। ফলে নিয়ম অনুযায়ী গোলটি বাতিল করা হয়।

ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ এই সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে বেশি মন্তব্য করব না, তবে বলতে চাই রেফারিং খুবই খারাপ ছিল। আমাদের বিরুদ্ধে যেসব ফাউল বা সেট-পিস পাওয়া উচিত ছিল, তা দেওয়া হয়নি। তবে এটা হারের অজুহাত নয়। আপনি দেখতে পেয়েছেন কীভাবে আবেগ নষ্ট হয়ে গেছে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত ফুটবলের আনন্দ কেড়ে নিচ্ছে। ভিএআর আবেগ নষ্ট করে, সবকিছু নষ্ট করে দিয়েছে। আমরা অনেক দূর চলে গেছি।’

অন্যদিকে পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেস সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্য যে দুই দলের একজনকে হারতে হয়েছে। কিন্তু এখানে কোনো ভুল বা সৌভাগ্যের সিদ্ধান্ত ছিল না। এটি ছিল একটি পরিষ্কার মুহূর্ত। বলে এখন চিপ আছে এবং সেন্সর দেখিয়েছে যে বল স্পর্শ হয়েছিল।’

আলোচিত ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়ায় রাউন্ড অব সিক্সটিনে ওঠেছে পর্তুগাল। কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার মিশনে ইউরোপের আরেক দল স্পেনের বিপক্ষে খেলবে পর্তুগিজরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত