Ajker Patrika

ফ্রান্সের আধিপত্য নাকি মরক্কোর প্রতিশোধ

ক্রীড়া ডেস্ক    
ফ্রান্সের আধিপত্য নাকি মরক্কোর প্রতিশোধ
আজ রাতে প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স-মরক্কো। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে ফ্রান্সের বিপক্ষে মরক্কোর শেষ স্মৃতি সুখের নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ২–০ গোলের হারে। তবে সেই হার মরক্কোর ইতিহাস মুছে দেয়নি। আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ চারে ওঠার গৌরব আজও তাদের।

চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপের নকআউটে মুখোমুখি দুই দল। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে। মরক্কোর সামনে প্রতিশোধের সুযোগ, আর ফ্রান্সের সামনে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বোস্টনে আজ ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।

এই বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে দেখে মনে হয়েছে, নিজেদের সেরা ছন্দে আছে। গ্রুপ পর্বে সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়েকে হারিয়ে শতভাগ সাফল্য নিয়ে শেষ ৩২-এ ওঠে তারা। সুইডেনকে ৩–০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়ে ফরাসিরা। সেই ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টির একমাত্র গোলে ১–০ ব্যবধানে জিতে শেষ আট নিশ্চিত করে তারা।

স্কোরলাইন যতই ছোট হোক, ম্যাচটি নিয়ে সন্তুষ্ট ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। কারণ, তাঁর চোখে সেটি ছিল দলের মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা। মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, তারা খুব ভালো দল এবং খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজেদের সর্বস্বটা দিয়ে লড়ব।’

অন্যদিকে মরক্কোর পথটা ছিল আরও বন্ধুর। ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র, স্কটল্যান্ড ও হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার পর শেষ ৩২-এ টাইব্রেকারে বিদায় করে নেদারল্যান্ডসকে। এরপর স্বাগতিক কানাডাকে ৩–০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আটলাস লায়নরা।

ফ্রান্সের বিপক্ষে ২০২২ সালের সেই সেমিফাইনালের স্মৃতি এখনও স্পষ্ট জাকারিয়া আবুখলালের মনে। তাঁর বিশ্বাস, সেই ম্যাচ থেকে শেখার অনেক কিছু আছে। মাঠে নামার আগে এই উইঙ্গার বলেন, ‘ম্যাচটার তীব্রতা আর অনুভূতিটা এখনও মনে আছে। আমরা পিছিয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু বিশ্বাস হারাইনি। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছি।’

তবে ফ্রান্সের শক্তির জায়গাটাও ভালো করেই জানেন জাকারিয়া, ‘ফ্রান্সকে মোকাবিলা করা কঠিন, কারণ তারা আপনার ছোট্ট ভুলেরও শাস্তি দিতে পারে। তাদের গতি আছে, অভিজ্ঞতা আছে, আর এমন খেলোয়াড় আছে যারা এক মুহূর্তেই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। অনেক সময় মনে হবে ম্যাচ আপনার নিয়ন্ত্রণে, কিন্তু তাদের একটি পাল্টা আক্রমণই সবকিছু বদলে দিতে পারে।’

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় শক্তি আক্রমণভাগ। এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে কিংবা ব্র্যাডলি বারকোলা—প্রতিটি নামই প্রতিপক্ষের রক্ষণে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে মরক্কোর ভরসা তাদের সংগঠিত রক্ষণ, মাঝমাঠে আজ্জেদিন উনাহির সৃজনশীলতা এবং আশরাফ হাকিমির গতি।

পরিসংখ্যানও ফ্রান্সের পক্ষেই। দুই দলের ছয় দেখায় চারটিতে জিতেছে ফরাসিরা, ড্র হয়েছে একটি, মরক্কোর জয় মাত্র একবার। বিশ্বকাপে একমাত্র সাক্ষাতেও ফ্রান্সের জয়—২০২২ সালের সেমিফাইনালে।

তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পরিসংখ্যানের মূল্য খুব বেশি নয়। একটি মুহূর্ত, একটি ভুলই বদলে দিতে পারে পুরো গল্প। চার বছর আগে সেই গল্পের নায়ক ছিল ফ্রান্স। এবার মরক্কো চাইবে শেষটা নতুন করে লিখতে। আর ফ্রান্স প্রমাণ করতে চাইবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের আধিপত্য এখনও অটুট।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত